তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলে ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা ১৭ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন। খবর এপির।

তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১৭ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল চিয়াই কাউন্টি হল থেকে ৩৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, ভূমিকম্প ১ মিনিট ধরে স্থায়ী ছিল।

আরো পড়ুন:

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, সুনামি সতর্কতা জারি

তিব্বতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫

ভূমিকম্পে চিয়াই এবং তাইনান শহরের আশেপাশে ছোট থেকে মাঝারি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ২৭ জনকে সামান্য আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে এক মাস বয়সী একটি শিশুসহ ছয়জনকে তাইনানের নানক্সি জেলায় একটি ধসে পড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাদেশিক মহাসড়কের ঝুওয়েই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ করছেন।

তাইনানে লিফটে আটকা পড়ার পর দুজন এবং চিয়াই শহরে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের ফলে চিয়াইতে একটি মুদ্রণ কারখানায় আগুন লেগে যায়, তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। 

তাইওয়ান প্রশান্ত তাইওয়ান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বরাবর অবস্থিত হওয়ায়, দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

গত বছরের এপ্রিলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে তাইওয়ানে ১৩ জন নিহত এবং এক হাজার জনেরও বেশি আহত হয়েছিল। দেশটিতে ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক অনুভূত হয়েছিল।

তবে তাই তাইওয়ানের ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে একটি ছিল ১৯৯৯ সালের ভূমিকম্প। ৭ দশমিক ৬ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে ২ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

এরপরেই তাইওয়ান ভূমিকম্প প্রতিরোধী নির্মাণ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিল্ডিং কোড আপডেট এবং উন্নত করেছে। বাড়ি যাতে ভূমিকম্পে ভাঙতে না পারে তারজন্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হয়। এর পাশাপাশি, তাইওয়ান একটি উন্নত প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করেছে যা জনসাধারণকে সেকেন্ডের মধ্যে সম্ভাব্য গুরুতর ভূমিকম্প সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে। 

ঢাকা/ফিরোজ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ভ ম কম প র ভ ম কম প

এছাড়াও পড়ুন:

নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখছে মহেশ বাবুর কন্যা?

‘প্রিন্স অব টলিউড’খ্যাত অভিনেতা মহেশ বাবু। পর্দায় অসাধারণ অভিনয় এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব গুণের কারণে অসংখ্য ভক্ত তার। এই অভিনেতার কন্যা সিতারা তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ জনপ্রিয়।

মহেশ বাবু অভিনীত ‘সরকারু বারি পাতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়েছে। ২০২২ সালে মুক্তি পায় এটি। মুক্তির পর দারুণ প্রশংসা কুড়ায় সিতারা। কিছুদিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে, ১২ বছর বয়সি সিতারা নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখতে যাচ্ছে। অবশেষে এ গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন মহেশ বাবুর স্ত্রী নম্রতা শিরোদকর।

 

আরো পড়ুন:

বিয়ের পর অভিনয়কে বিদায়: নীরবতা ভাঙলেন মহেশ বাবুর শ্যালিকা

রাজামৌলির সিনেমার জন্য ১৬৪ কোটি টাকা ছাড়াও লভ্যাংশ নেবেন মহেশ!

 

কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে মায়ের সঙ্গে হাজির হয় সিতারা। সেখানে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখার গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় সিতারার কাছে। এ প্রশ্ন শুনে মায়ের দিকে তাকায় এই খুদে তারকা। এরপর নম্রতা শিরোদকর বলেন, “তার বয়স মাত্র ১২ বছর। এখনো অনেক সময় আছে। যদিও আমাদের পরিবার বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু সবাই সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।”

ফিল্মি পরিবারে জন্ম ও বেড়ে উঠছে সিতারা। তার দাদা কৃষ্ণা বিখ্যাত একজন অভিনেতা ছিলেন। সিতারার বাবা-মা দুজনেই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। এর আগে ড্রিম মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল সিতারা। সেই আলাপচারিতায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, পারিবারিক উত্তরাধিকার সফলভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখে সিতারা?

 

এই প্রশ্নের জবাবে সিতারা বলে, “এই উত্তরাধিকারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে। চমৎকার এই পরিবারের সদস্য হতে পেরে আনন্দিত। আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন আমি অভিনয় করতে চাই কিনা। এখন আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। মডেলিং এবং অভিনয় দুটোর বিষয়েই আমি আগ্রহী। কিন্তু আমার বয়স মাত্র ১২ বছর। সুতরাং আমি এখনো নিশ্চিত নই।”

একটি জুয়েলারি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছে সিতারা। এ বিজ্ঞাপনে মেয়েকে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন মহেশ বাবু। সেই স্মৃতিচারণ করে সিতারা বলে, “আমার মা খুব কঠোর মানুষ। তবে বাবা আমাকে ভীষণ আদর (প্রশ্রয় দেন) করেন। আমার মনে আছে, বাবা আমার পিএমজে-এর বিজ্ঞাপন প্রথম দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকে ফ্যাশন সেন্স পেয়েছি। আমি পাগল। কিন্তু মা তার পোশাক আমার জন্য রাখেন না। আমার মা ‘মিস ইন্ডিয়া’ বিজয়ী। তার দারুণ একটি মডেলিং ক্যারিয়ার ছিল। ‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় তার ছবি দেখে অভিভূত।”

 

জুয়েলারি ব্র্যান্ড পিএমজে-এর নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করা হয়েছে সিতারাকে। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ একটি গহনা লঞ্চ করে; যার নাম দেয় ‘সিতারা’। ২০২৩ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে লঞ্চ করা হয় বিজ্ঞাপনটি।

ব‌্যক্তিগত জীবনে নম্রতা শিরোদকরের সঙ্গে গাটছড়া বেঁধেছেন মহেশ বাবু। এ দম্পতির ঘর আলো করে এসেছে পুত্র গৌতম ও কন‌্যা সিতারা। ২০১২ সালে জন্ম হয় সিতারার। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও দারুণ পারদর্শী সিতারা।

 

সিতারা ও তার বড় ভাই গৌতম অভিনয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সিতারা হায়দরাবাদ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়, তার ভাই গৌতম নিউ ইয়র্কে ইউনিভার্সিটি থেকে নাটক বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন সিতারা।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিয়াসাত ডটকম

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ