কলাপাড়ায় হাত-পা ও মুখ বেঁধে নারীকে হত্যা, মালামাল লুট
Published: 21st, January 2025 GMT
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে বসতঘরে ঢুকে হাত- পা ও মুখ বেঁধে শাহনাজ পারভীন লাকি (৫০) নামের এক নারীকে হত্যা করেছে ডাকাতদল। পরে ওই বাড়ির মালামাল লুট করেছে তারা।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) গভীর রাতে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে এ ডাকাতি হয়।
এর আগেও ওই ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। ফলে, সেখানে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শাহনাজ পরভীন লাকির স্বামী সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। সে সুবাদে তিনি ঢাকায় থাকেন। তাদের দুই সন্তান কলাপাড়া শহরের বাসায় ছিলেন। গত রাতে ওই নারী গ্রামের বাড়িতে একাই ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তার লাকির দেবর শাহ আলম মিয়া ওই বাড়িতে গিয়ে পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। তিনি ঘরে ঢুকে লাকির হাত-পা ও মুখ বাঁধা লাশ দেখতে পেয়ে চিৎকার দেন। তার ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
শাহ আলম মিয়া বলেছেন, “সকালে আমি আমার ভাইয়ের ঘরের সামনে গিয়ে ভাবিকে অনেক ডাকাডাকি করি। তখন সামনের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে ঘরের পিছনে গিয়ে দরজা খোলা দেখতে পাই। ভিতরে ঢুকে ভাবির হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাই। এর আগেও আমাদের এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। আমার ভাবিকে হত্যার বিচার চাই।”
নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ মাতুব্বর বলেছেন, “আমাদের এলাকায় পরপর তিনটি ডাকাতি ঘটল। আমার মনে হচ্ছে, এ কাজের সঙ্গে একটি চক্র জড়িত। আমরা দুষ্কৃতকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
কলাপাড়া থানার ওসি জুয়েল ইসলাম বলেছেন, “শাহনাজ পারভীন লাকির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।”
ঢাকা/ইমরান/রফিক
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলায় বিএনপি জড়িত
সিলেটে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরে বিএনপি ও ছাত্রদল জড়িত বলে দাবি করেছেন সাবেক সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। তবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হামলা ভাঙচুরের জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করা হলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে হামলার ঘটনায় কেউ থানায় মামলা বা অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার ছাত্রলীগের মিছিল বের করার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– ছাত্রলীগ নেতা শাফায়াত খান, জহিরুল ইসলাম, সোহেল আহমদ সানী, রবিন কর, ফাহিম আহমদ, রাজন আহমদ রমজান, বশির খান লাল ও সোয়েব আহমেদ।
বুধবার সকালে নগরীর ধোপাদিঘির পূর্ব পাড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর সন্ধ্যায় সিরিজ এ হামলার ঘটনা ঘটে। মিছিলের পর ছাত্রদল নেতারা রাস্তায় নামেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীর পাঠানটুলা, হাউজিং এস্টেট, সুবিদবাজার, মেজর টিলা ও শামীমাবাদ এলাকায় পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় সিলেটে তোলপাড় চলছে। পক্ষে বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে দোষারোপ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পাঠানটুলার মোহনা ব্লক-এ ৫৬/৯ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ভেতর ও বাইরের কাচ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ভেতরের সাতটি কক্ষের আসবাব ভাঙচুর করা হয়েছে।
আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী গতকাল লন্ডন থেকে সমকালকে জানান, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা হামলা করেছে। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে হামলা করে। তিনি দাবি করেন, হামলার পেছনে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদীর অনুসারীরা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গতকাল লোদী তাঁর ফেসবুকে লেখেন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন।
সাবেক মেয়রের বাসায় হামলার এক ঘণ্টার মাথায় নগরীর হাউজিং এস্টেট শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের অ্যাপার্টমেন্টে হামলা হয়। গতকাল সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের সামনের নিরাপত্তাকর্মী বসার বক্স, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সামনের জানালার বেশ কয়েকটি কাচ ভাঙা। নাদেল এখন ভারতে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের ব্যবস্থাপক জানান, তিনি ঘটনার সময় বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে আসা ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলা করে চলে যায়।
ওই দিন সন্ধ্যায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের সুবিদবাজারের বাসায়, মেজরটিলা এলাকায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদ ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের ছোট ভাই শফিকুল হক শফির
শামীমাবাদের বাসায় হামলা হয়। শফির বাসায় হামলার সময় ছাত্রদলের নামে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনার বলেন, ‘আমরা মব জাস্টিসের বিপক্ষে। কে বা কারা হামলা করেছে আমাদের জানা নেই।’