Samakal:
2025-04-04@04:04:00 GMT

ওজন কমাতে ওটস খাবেন যেভাবে

Published: 21st, January 2025 GMT

ওজন কমাতে ওটস খাবেন যেভাবে

স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে আজকাল অনেকেই ওটস খান। কেউ কেউ ওজন কমাতেও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ওটস রাখেন। যারা ওজন কমাতে চাইছেন তারা ওটস খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখুন। যেমন-

১. সকালের নাশতায় ওটস খেলে দ্রুত ওজন কমে। যেহেতু ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, তাই এই খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে।

২.ওটসের সঙ্গে ড্রাই ফ্রুটস কিংবা ফল মিশিয়ে খেলে পুষ্টি পাবেন। এতে পেটও ভরবে, আবার দ্রুত ওজনও কমবে।

৩.

ওটস দুধে ভিজিয়ে খেতে পারেন। আবার পানিতে ভিজিয়েও খেতে পারেন। দু'ভাবে খেলেই ওজন কমবে ।

৪.আগের দিন রাতে দুধে কিংবা পানিতে ওটস ভিজিয়ে রাখতে পারলে ভালো হয়। এভাবে ওটস খেলে হজমে কোনও সমস্যা হবে না।

৫. বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন মসলা ওটস। এই খাবারও অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর। এটি ওজন কমাবে এবং জোগান দেবে ভরপুর পুষ্টির।

৬. দুধের মধ্যে ওটস ফুটিয়ে খেতে পারলে আপনার শরীরে ক্যালশিয়ামের জোগানও থাকবে ভরপুর। এর ফলে হাড়ের ক্ষয় রোধ করা সম্ভব। মজবুত হবে হাড়ের গঠন।

৭.ওটসের সঙ্গে খেজুর, কিশমিশ, আমন্ড মিশিয়ে তার মধ্যে দুধ দিয়ে খেতে পারেন। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। এই খাবার আপনার ওজন কমাবে।

৮. ওটস খেলে আমাদের শরীরের মেটাবলিজম রেট নিয়ন্ত্রণে থাকে। তার প্রভাবেই ওজন কমে।

৯. যারা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন তারা দিনে একবার অন্তত ওটস খান। দুধে মিশিয়ে খেতে অসুবিধা হলে পানিতে ফুটিয়েও খেতে পারেন।

১০.ফল,  ড্রাই ফ্রুটস, বিভিন্ন ধরনের সবজি মিশিয়ে খেতে পারেন ওটস।
 

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

সাঁতারেও চলছে প্রবাসীর খোঁজ

এক ‘হামজা হাওয়ায়’ ফুটবলে যে আলোড়ন উঠেছে, মুখ ফিরিয়ে রাখা দর্শকদের মধ্যে যেভাবে আন্দোলিত করেছে, তা দেখে অনেকেই প্রভাবিত। শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে হামজা চৌধুরীর লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেকের পর একটি ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত পরীক্ষিত প্রবাসী অ্যাথলেটদের ফিজিক্যাল ফিটনেস বিশ্বমানের হয়ে থাকে। সেই তুলনায় স্থানীয়রা অনেকটাই পিছিয়ে। এই উপলব্ধি থেকেই সাঁতারেও এখন চলছে প্রবাসীদের খোঁজ। 

অতীতে লন্ডন প্রবাসী সাঁতারু জুনাইনা আহমেদ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তবে টোকিও অলিম্পিকের পর পুল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। সুইমিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিও চাইছে প্রবাসী সাঁতারুকে দেশের পুলে আনতে। 

‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি আসে, আমাদের লেভেলটা আরও ওপরে নিয়ে যায়, সেটার জন্য আমি সব সময় উদ্বুদ্ধ করি। আমরা চেষ্টা করছি, কোথাও প্রবাসী সাঁতারু পাওয়া যায় কিনা। পর্যবেক্ষণ করছি। ফুটবলে যেমন হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়ার মতো প্রবাসীরা এসেছেন, তেমনি যদি সাঁতারে আসেন, আমরা মনে করি দেশের সাঁতারের জন্য ভালো হবে।’ সাবেক সাঁতারু ও বর্তমান সুইমিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মাহফিজুর রহমান সাগর জানান, তাদের সন্ধান চলছে।

যদিও এই মুহূর্তে তেমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না ফেডারেশন। ‘সত্যি বলতে কী, সেভাবে প্রবাসী সাঁতারু পাওয়াই যাচ্ছে না। একজন অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী বাঙালি পেয়েছিলাম, সেও কিছুদিন পর সাঁতার ছেড়ে দিয়েছে। এখন পাওয়াটা কঠিন। তার পরও সন্ধান চলছে।’ 

অতীতে লন্ডন প্রবাসী জুনাইনা আহমেদ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৭ সালে দেশের বয়সভিত্তিক সাঁতারে অংশগ্রহণ করে নজর কেড়েছিলেন জুনাইনা। ২০১৯ সালে জাতীয় সাঁতারে আটটিতে রেকর্ড গড়ে ৯টি স্বর্ণ জেতেন। দেশীয় সাঁতারে রীতিমতো ঝড় তুলে দেন তিনি। এরপর বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নেও প্রত্যাশা পূরণ করেন। কিন্তু টোকিও অলিম্পিকে সেই মান ধরে রাখতে পারেননি। সেটাই ছিল দেশের হয়ে তাঁর শেষবারের মতো পুলে নামা। বছর তিনেক আগে দন্ত চিকিৎসক জুনাইনা পড়ালেখার চাপের কথা বলে পুল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এরপর আর সেভাবে আলোচনায় আসেনি প্রবাসী সাঁতারুর আলোচনা। জুনাইনার বাবা জুবায়ের আহমেদ মাঝে ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁর ছোট মেয়ে জামাইমার অংশগ্রহণ নিয়ে। কিন্তু কোনো অ্যামেচার সাঁতারু নয়, ফেডারেশন আগ্রহী পেশাদার সাঁতারু অন্তর্ভুক্তিতে। 

ফুটবলে যেমন এই মুহূর্তে ১৩ দেশের ৩২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার লাল-সবুজের হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২৫ জুন ঢাকায় তাদের অনেককে নিয়ে ট্রায়াল করার চিন্তাভাবনা করছে ফুটবল ফেডারেশন। তারাও চাইছে যে কেউ এলেই আর দলে জায়গা মিলবে না, যদি কোনো প্রবাসী বিদেশি লিগে ভালো কোনো দল বা লিগে খেলে থাকেন, তাদেরকেই বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি কাউকে কাউকে বয়সভিত্তিক দলের জন্যও বিবেচনা করা হবে। 

সাঁতারেও তেমন মানের কাউকেই চাইছেন মাহফিজুর রহমান সাগর। জুনাইনার খোঁজও তিনিই এনেছিলেন। সাগর নিজে বিদেশে ট্রেনিং করেছেন, অংশগ্রহণ করেছেন অনেক আন্তর্জাতিক আসরে। প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয়দের তফাতটা তিনি ভালোই জানেন। ‘বিদেশি পেশাদার সাঁতারুদের সঙ্গে আমাদের স্থানীয়দের পার্থক্য এ টু জেড। ওরা পুরো সায়েন্স নিয়ে থাকে। ওদের কোচ, নিউট্রিশন, অনুশীলন, অনুশীলনের পরিবেশ, ট্রেনিং প্রোগ্রাম– সব উচ্চ পর্যায়ের। যদি আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি, এ রকম উচ্চ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্রতিটি দেশই ট্রেনিং করে। তার পরও কিন্তু সবাই পারছে না। অলিম্পিকে ফাইনাল খেলবে কিংবা পদক পাবে। এখানে অনেকে ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু তারা সাফল্য পাওয়ার জন্য দৌড়াচ্ছে, সেই ট্র্যাকে আমরা নেই।’ 

জিমন্যাস্টিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইক সিজার, বক্সিংয়ে জিনাত ফেরদৌস কিংবা ট্র্যাকে লন্ডন প্রবাসী ইমরানুর রহমান– দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক প্রবাসীরই আগমন ঘটেছে। বিদায়ও হয়েছে কারও ফর্মের কারণে, কারওবা ফেডারেশনের সঙ্গে মনকষাকষিতে। তবে জামাল, হামজার মতো এমন পেশাদার কাউকে সেভাবে দেখা যায়নি আগে, তাই তাদের মতোই কাউকে খুঁজছে সুইমিং ফেডারেশন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ