সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে বাঘ দেখা সবসময়ই ভাগ্যের ব্যাপার। বহু পর্যটক বছরের পর বছর ঘুরেও বনের রাজাকে দেখার সুযোগ পান না। তবে রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় একসঙ্গে তিনটি বাঘ দেখতে পান এমভি আলাস্কা নামের একটি পর্যটকবাহী লঞ্চের যাত্রীরা।

পর্যটক গাইড মো. আল-আমিন জানান, লঞ্চটি কটকা এলাকার বেতমোড় খালের কাছে পৌঁছালে পর্যটকরা তিনটি বাঘকে একত্রে দেখতে পান। এ সময় দুটি পুরুষ বাঘ অপর একটি বাঘকে আক্রমণ করে নদীতে ফেলে দেয়। বাঘটি কিছুক্ষণ পানিতে ভেসে থাকার পর সাঁতরে তীরে উঠে বনের গভীরে চলে যায়। 

তিনি আরো জানান, সুন্দরবনের কটকা অফিস পাড় থেকে দুটি বাঘ এবং বেতমোড় এলাকা থেকে আরেকটি বাঘ এসে একত্র হয়েছিল। এমন দৃশ্য দেখেছেন লঞ্চে থাকা পর্যটকরা। অনেকেই এ সময় বাঘের ছবি ধারণ করেছেন। 

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.

সোয়েবুর রহমান সুমন বলেন, “পর্যটকরা বেতমোড় এলাকায় একসঙ্গে তিনটি বাঘ দেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। কিছুদিন আগে টহলের সময় আমিও একসঙ্গে চারটি বাঘ দেখেছি।”

তিনি আরো জানান, সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে বাঘের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

ঢাকা/শহিদুল/ইমন

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর স ন দরবন র একসঙ গ

এছাড়াও পড়ুন:

কুয়াকাটা সৈকতে ঈদের আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা 

দীর্ঘ এক মাস পর্যটকশূন্য থাকার পর পটুয়াখালীর কুয়াকাটা এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ঈদের দিন সোমবার (৩১ মার্চ) বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত সৈকতে লাখো পর্যটক এসেছেন ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যটকরা সৈকতে আনন্দ-উল্লাসে মেতেছেন। সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে হৈ-হুল্লোড় করছেন। অনেকে প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলছেন, সেলফি তুলছেন স্মৃতি ধরে রাখার জন্য। কেউ কেউ বিভিন্ন বাহনে চড়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে দেখছেন। কেউবা বেঞ্চে বসে সমুদ্রের তীরে আছড়ে পড়া ঢেউ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। সৈকতে বিরাজ করছে ঈদ উৎসবের আমেজ। 

ক্র্যাব আইল্যান্ড, চর গঙ্গামতি, গঙ্গামতি, ঝাউবন, তিন নদীর মোহনা, লেম্বুর বন ও শুটকি পল্লিসহ সব পর্যটন স্পটে আছে পর্যটকদের বিপুল উপস্থিতি। বিক্রি বেড়েছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। 

অধিকাংশ হোটেল-মোটেল আগেই বুকিং হয়েছে। বিপুল পরিমাণ পর্যটকের আগমনে উচ্ছ্বসিত পর্যটন সংশ্লিষ্ট ১৬টি পেশার সঙ্গে ব্যক্তিরা। পর্যটকদের নিরাপত্তায় তৎপর আছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশের সদস্যরা।

ঢাকার জিনজিরা থেকে আসা পর্যটক তৈয়ব হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেছেন, মঙ্গলবার সকালে পরিবার-পরিজন নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। হোটেলে পৌঁছে রুমে ওঠার আগেই রিসিপশনে ব্যাগ রেখে সৈকতে এসেছি। স্নিগ্ধ সকালে দখিনা হাওয়া ও সৈকতের ছোট ছোট ঢেউ আমাদের মুগ্ধ করেছে। জোয়ারের সময় সবাই একসঙ্গে সাঁতার কাটব। 

সভারের ফুলবাড়িয়া থেকে আসা শাহেদ-ইয়াসমিন দম্পত্তি বলেন, সকাল থেকে কুয়াকাটার আকাশ অনেকটা মেঘলা। মেঘলা আকাশে দখিনা হাওয়া এবং সৈকতে ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়া, এ এক দারুণ অনুভূতি। ঈদের ছুটির প্রথম দিনে আমাদের কুয়াকাটা ভ্রমণ স্বার্থক হয়েছে।

সৈকতলাগোয়া প্রসাধন সামগ্রীর দোকানি সুলতান আকন বলেন, গতকাল সৈকতে আশপাশের এলাকার পর্যটক ছিল। বিক্রি মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আশা করছি, আজ আরো বেশি পর্যটক আসবে এবং আমরা বিগত এক মাসের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।

সৈকতে ভ্রাম্যমাণ আচার বিক্রেতা মোসলেম মিয়া বলেন, রমজানে কুয়াকাটায় কোনো পর্যটক ছিল না। আমি গতকাল বিকেলে আমার ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে সৈকতে নেমেছি। রাতে বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। অনেক পর্যটক আসছে। আশা করছি, আজ আরো বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহাকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিশ্ছিদ্র নিরপত্তা দিতে আমরা কাজ করছি। সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য, থানা পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। আশা করছি, পর্যটকরা নিরাপদে কুয়াকাটা ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।

ঢাকা/ইমরান/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • যমজ একভাই চোখের সামনে, অন্য ভাই কবরে
  • সাতক্ষীরার চরম বেকারত্ব ঘুচবে কীভাবে
  • ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
  • ঈদের ছুটিতে রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড়
  • ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
  • সাতছড়ি উদ্যানে পর্যটকের ঢল 
  • প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লুকানো রত্ন সুনামগঞ্জের লাকমাছড়া
  • পিটিয়ে কুমির হত্যা বন্য প্রাণীর প্রতিও সহানুভূতি দরকার
  • কুয়াকাটা সৈকতে ঈদের আনন্দে মেতেছেন পর্যটকরা 
  • এপ্রিলে আসছে আইএমএফ দল, জুনে দুই কিস্তির অর্থ পাবে কি বাংলাদেশ