র্যাব পরিচয়ে প্রবাসীর ২১ লাখ টাকা লুট, ৭ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ
Published: 20th, January 2025 GMT
দুবাই থেকে দেশে ফিরে যাত্রীবাহী বাসযোগে কুমিল্লায় ফিরছিলেন প্রবাসী আবু হানিফ। পথে র্যাবের পোশাক পরা এবং ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও পিস্তল হাতে একটি দল ওই বাসে উঠে টানাহেঁচড়া করে প্রবাসী ও তার এক সঙ্গীকে নামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে তাদের হাত, পা ও চোখ বেধে মারধর করে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে নগদ ২১ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট মোবাইলসহ মালামাল রেখে মাইক্রো থেকে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন কেওঢালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ৭ দিনেও এ ঘটনায় জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে র্যাব জানিয়েছে, র্যাবের পোশাক পরা হলেও দুষ্কৃতকারীরা র্যাবের কেউ নয়।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় দায়ের করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আরাগ আনন্দপুর গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে আবু হানিফ ও তার বন্ধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের কামাল ভূঁইয়ার ছেলে রাজিব ভূঁইয়া দুবাই থেকে গত ১৪ জানুয়ারি ভোর ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এসে পৌঁছান। এদিন তারা বিমান বন্দর থেকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় গিয়ে কিছু ডলার বিক্রি করেন। পরে তারা দুপুর দেড়টার দিকে এশিয়া লাইন পরিবহনের একটি বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর রেইস কোর্স এলাকার নিজ বাসায় মামলার বাদী প্রবাসী আবু হানিফ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সমকালকে বলেন, আমাদের বাসটি বন্দর থানার কেওঢালা এলাকায় পৌঁছালে সাদা রঙের একটি হাইয়েজ গাড়ি (মাইক্রোবাস) এসে বাসের সামনে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এসময় র্যাবের পোশাক পরিহিত ৩/৪ জন ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও পিস্তল হাতে বাসে উঠে আমাদের (আবু হানিফ ও রাজিব) বিরুদ্ধে মামলা আছে বলে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে টানাহেচড়া করে সঙ্গে থাকা দুইটি ব্যাগসহ জোরপূর্বক বাস থেকে নামায়। এসময় আমরা চিৎকার করতে থাকি, যাত্রীরাও তাদের বাধা দেয়। এসময় গাড়ির স্টাফরা ঘটনার ভিডিও করে। কিন্তু তারা কারো বাধা কর্ণপাত না করে আমাদের নামিয়ে তাদের মাইক্রোতে তুলে হাত-পা ও চোখ বেধে মারধর করে। এ সময় তারা পায়ে গুলি করে। তারা আমাদের নিকট থাকা কিছু ডলারসহ ২১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ৩টি পাসপোর্ট, ২টি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে বিকাল ৫টার দিকে ঢাকার ডেমরা এলাকায় নির্জন রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। পরে বিষয়টি র্যাব ও থানা পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে ১৬ জানুয়ারি বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেন বলে জানান।
বাস চালক শাহীন কাদির বলেন, র্যাবের পোশাক থাকায় আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি এরা আসল না ভুয়া। বাস থেকে নামিয়ে দ্রুত গাড়িটি চলে যায়।
র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক জানান, র্যাবের পোশাক পরিহিত যেসব দুর্বৃত্ত বাস থামিয়ে দুই প্রবাসীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে তুলে নিয়ে টাকাসহ মালামাল লুটে নিয়েছে তারা র্যাবের কেউ নন। ঘটনার সময় মুঠোফোনে ধারণ করা ভিডিও থেকে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।
বন্দর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে সংঘবদ্ধ গ্রুপ রয়েছে। তাদের একটি গ্রুপ যানবাহন ফলো করে, আরেক গ্রুপ অপারেশন (ঘটনা সংঘটিত) করে। ঘটনাস্থলের পাশে একটি ইউটার্ন আছে, ঘটনা করে তারা নিরাপদে শটকে পরে। ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও গত ৫ আগস্টের ঘটনায় ক্যামেরাগুলো বিনষ্ট হওয়ায় ওই দিনের ভিডিওচিত্র ধারণ করা নেই। আমরা ধারণ করা ভিডিও ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: য ব র প শ ক পর এল ক য় ঘটন র
এছাড়াও পড়ুন:
বন্দর থানা (মহানগর) জাসাস’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় জাসাসকে আরো শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষে মো. আবদুর রউফকে সভাপতি এবং এড. মোহাম্মদ মমিনকে সাধারণ সম্পাদক করে সিটি কর্পোরেশনের ১৯ থেকে ২৭নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বন্দর থানা (মহানগর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির কর্মকর্তারা হলেন সভাপতি মো. আবদুর রউফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূর মোহাম্মদ, সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান, খন্দকার মো. মাহামুদুল হাসান, এড. মাহমুদা আক্তার, লুৎফা কবির লিপি, মো. বাক্কী বিল্লাহ, মো. মাহাবুবুর রহমান শ্যামল, মো. মেজবাহ উদ্দিন, শেখ ফরিদ, মো. আশরাফ আলী, মো. কবির হোসেন, এড. মো. রমজান আলী, মো. শরিফুল ইসলাম স্বপন ও আবুবকর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক এড. মোহাম্মদ মমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল মোল্লা, মো. নাজিম উদ্দিন, এস.এম জামান, মো. নাছির উদ্দিন, মো. সুজন, মো. হুমায়ুন কবির ও মো. মাইনউদ্দিন (মঈন), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খান ইমন, খন্দকার শাহিদুজ্জামান মিন্টু রানা, জিয়াউর রহমান টিটু, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. ইমরান হোসেন মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হাসান খুকুমনি, সহ-সাংগঠনিক মো. এনামুল হক রোমান ও মো. জাকির খান, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল গাফ্ফার, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. রতন ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক মো. রাসেল, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. বাবর আলী, প্রচার সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (রাজন), সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আবুল কালাম, সংগিত বিষয়ক সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী খুকু, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, সহ-সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. ফিরোজ মাঝি, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক রেজওয়ানা হক, সহ-সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মো. হেফাজ উদ্দিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. আফরিন নাহার চৈতী, তথ্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. আজাদ মিয়া, ক্রিয়া ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক মো. মোজাহিদুল হক, গণ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোসাঃ ইয়াসমিন খানম, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কামরুন নাহার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, সদস্য- এস.এম রায়হান হক, মো. এরশাদুল হক, ইউনুছ মিয়া, খুশি, মো. রায়হান বারী, মো. রিপন হাওলাদার, জিয়াসমিন, মো. সানু খান, মো. মনছুর সাদেক, মো. কামরুজ্জামান, মো. নাবিল মাহামুদ, মো. রাশেদুল হক, মো. রুবেল, মফিজুল ইসলাম রাসেল, মো. শাওন, মো. আজিজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, মো. মোহর চাঁন, মো. নাছির উদ্দিন, মো. সুমন ও মো. মামুন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস এর কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বিএনপি নেতা আনিসুল ইসলাম সানির উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাসাস এর সভাপতি মো. স্বপন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাধীন উক্ত কমিটি অনুমোদন করেছেন।