Samakal:
2025-04-03@04:08:49 GMT

এ কেমন ‘সভারেন্টি’!

Published: 19th, January 2025 GMT

এ কেমন ‘সভারেন্টি’!

একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার শ্রেষ্ঠতম প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলে শিক্ষাঙ্গনে, বিশেষ করে বিদ্যালয়ে। যেখানে নতুন প্রজন্মকে বিষয়ভিত্তিক বিদ্যা শেখানোর পাশাপাশি জাতীয়তাবাদের মৌলিক তত্ত্ব ও সংস্কৃতির দীক্ষা দেওয়া হয়। জাতির যোগ্য ভবিষ্যৎ প্রতিনিধি হিসেবে প্রজন্মকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই শিক্ষা প্রক্রিয়ার অবধারিত অংশ হিসেবে চর্চা করা হয় নৈতিক, আদর্শিক ও মানবিক তত্ত্বের জ্ঞান। এ ক্ষেত্রে যে উপকরণটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা হলো পাঠ্যপুস্তক।

জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে প্রস্তুত করা পাঠ্যপুস্তকের বিষয়াবলির বস্তুনিষ্ঠতা এবং স্থায়িত্ব অত্যন্ত জরুরি। যদি কোনো গোষ্ঠী ক্ষমতায়নের চরিত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়; তাহলে বুঝতে হবে ওই গোষ্ঠী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রভাবিত করে গোটা জাতির ওপর তার আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। যারা তাদের এই সুযোগ দেবে, তারা জাতিকে দাসত্বের পথে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধরে নিতে হবে।
বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে ইতিহাস বিকৃতি এবং ক্ষমতা প্রয়োগের অপসংস্কৃতির চর্চা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রমে রচিত এসব পাঠ্যবই। বিগত সরকারের আমলেও মহান মুক্তিযুদ্ধের একক অংশীদার হওয়ার দৃশ্যমান প্রবণতা দেখা গেছে সে সময়ের পাঠ্যবইয়ে। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় মনে হচ্ছে, পরিবর্তিত রূপে সদ্য প্রত্যাখ্যাত সেই অযাচিত শক্তির অপয়া অশনিসংকেত আবারও ধ্বনিত।

বাংলাদেশের জাতিগত পরিচিতি প্রত্যয়নের ক্ষেত্রে ‘আদিবাসী’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে জটিলতা দীর্ঘদিনের। প্রচলিত সংবিধানে এ ক্ষেত্রে ‘নৃগোষ্ঠী’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। তবে এটি এই লেখার মূল আলোচ্য বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে, নতুন শিক্ষাক্রমে তৈরি করা নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের পেছনের প্রচ্ছদে ব্যবহৃত একটি গ্রাফিতি। এর চিত্রপটে সবার ওপরে লেখা রয়েছে ‘পাতা ছেঁড়া নিষেধ’। একটি চারাগাছের ৫টি পাতায় লেখা– আদিবাসী, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান। গাছটির গা-ঘেঁষে লেখা বাংলাদেশ।
১২ জানুয়ারি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) গিয়ে ‘স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি’ নামে একটি সংগঠন ‘আদিবাসী’ শব্দযুক্ত ওই গ্রাফিতির ছবি সরিয়ে নিতে আলটিমেটাম দেয়। অখ্যাত এই ছাত্র সংগঠন এনসিটিবি ভবনে ঢুকে সেখানকার সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করেন বলেও জানা যায়। রাতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের অপর একটি পক্ষ এনসিটিবির সামনে গেলে প্রথম পক্ষটি তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তাদের এই আচরণ মাত্র ৬ মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো, বিপ্লবের বানে ভেসে যাওয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের নিষিদ্ধ ভ্যানগার্ড ইউনিট ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি যেন!

কারা এই স্টুডেন্ট ফর সভারেন্টি? যাদের আলটিমেটামে রাতারাতি জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের মতো জাতীয় গুরুত্ববাহী ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বদলে যায়? কাদের কথায় সরকারের সিদ্ধান্ত লাগে না জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের তথ্য ছুড়ে ফেলতে? সরকার-সংশ্লিষ্টরা সামনে টেনে আনলেন জাতীয় সংবিধানকে। এই ‘সংশোধনী’র ক্ষেত্রে সংবিধান মান্য করার কথা জানালেন তারা। সেটাই যদি হবে, তাহলে তো পাতাটা ছিঁড়ে ফেলার কথা ছিল না। সেখানে আদিবাসী সরিয়ে নৃগোষ্ঠী লেখার কথা! সংবিধান কি কোথাও আদিবাসী শব্দের ব্যবহার দেখলে সেটা ছুড়ে ফেলতে বলেছে? 
সেই সঙ্গে আরেকটি বিষয় ভাবতে বাধ্য করছে, এবারের পাঠ্যপুস্তকে সংযোজিত যেসব তথ্য-উপাত্তের বস্তুনিষ্ঠতা সচেতন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হলেও বহাল রয়েছে, সেগুলোও কি তবে কোনো গোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও আধিপত্য এবং তার প্রতি দায়িত্বশীলদের আনুগত্য প্রকাশের দৃষ্টান্ত? এই প্রশ্নের উত্তর না হয় সচেতন পাঠকই তাদের প্রজ্ঞায় অনুসন্ধান করে নেবেন। আমি বরং ‘বেহাত বিপ্লব’ বইটা পড়ে শেষ করি।

এস এম সাব্বির খান: সহসম্পাদক, সমকাল

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: প রজন ম ব যবহ র র ওপর সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

তিন জেলায় চার শিশু ধর্ষণের শিকার

রাজধানী ঢাকার দারুসসালাম ও মুগদা, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চার শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

দারুসসালামে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা জানান, শাহআলী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকে তাঁর মেয়ে (১৪)। সে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। সোমবার দুপুরে যুবক মেহেদী হাসান তার বোনের বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে কৌশলে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করে।

বাসায় ফিরে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। তখন তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিব উল হাসান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ স্বীকার করেছে সে।

এদিকে মুগদার মানিকনগরে ধর্ষণের শিকার শিশুকে (১২) গতকাল বুধবার দুপুরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাফায়েত মুকুল বলেন, গত ২৮ মার্চ ওই শিশুকে কৌশলে ভাড়া বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে সাগর। পরে মঙ্গলবার শিশুটির বাবা থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ সাগরকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ওই শিশুটির বাবা মুগদা থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে এক শিশুকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত মো. দুলাল মিয়ার (৩০) বাড়ি ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় মজিদকে মারধর করে জনতা। এ সময় মজিদের বাড়ি ও তার ভাই আতিকের দোকান ভাঙচুর করে। মজিদকে ধরে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, নামা মহিষতারা গ্রামের মন্নেছ আলীর ছেলে মো. দুলাল ওই শিশুকে ঈদের দিন বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যায়। এ সময় তার মেয়েকেও সঙ্গে নিয়ে যায়। নিজের মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে ওই শিশুকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে।

মঙ্গলবার সকালে ওই শিশুকে একটি ভ্যানে করে অসুস্থ অবস্থায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। দুলাল তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অসুস্থ শিশুটি তার পরিবারকে জানায়। এ সময় পরিবারের লোকজন দুলালকে ধরতে যায়। তাকে কৌশলে ভাগিয়ে দেয় স্থানীয় মজিদ। পরে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ছেলে শিশুকে (৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় পৌর শহরের মেঘনা নদীর পার ডিপোঘাট মুশকিলা হাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল দুপুর ১২টায় শিশুটির পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন ভৈরব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী। অভিযুক্তদের বয়স কম হওয়ায় তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হলো না।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটির বাবা একজন দিনমজুর। ঈদের দিন বাড়ির পাশে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দুই কিশোর তাকে আটকে একটি মসজিদের শৌচাগারে নিয়ে যায়। তার ওপর যৌন নির্যাতন করে। তার চিৎকারে দুই কিশোর পালিয়ে যায়। শিশুটি তার পরিবারের কাছে ঘটনা জানায়। তাকে পরদিন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিশুটির বাবা বলেন, ‘ছেলের রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরদিন আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। দুই অভিযুক্তের পরিবারকে ঘটনা জানালে তারা আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তারা এলাকার প্রভাবশালী। ঘটনার পর থেকে আমরা পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি।’

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নিলুফা ও রাজিব মিয়া বলেন, অভিযুক্তদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।

অভিযুক্ত এক কিশোরের বাবা কারণ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেকে শত্রুতা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমার ছেলে অপরাধ করেনি। যদি অপরাধ করে থাকে, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

ভৈরব থানার ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ