সিলেটে ৮ তরুণ-তরুণীকে আটকে রেখে বিয়ে, রিসোর্টে আগুন
Published: 19th, January 2025 GMT
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার রিজেন্ট পার্ক ও রিসোর্টে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ১২ জন ছেলে-মেয়েকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে তাদের সামাজিকভাবে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকাবাসী।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আটক ছেলে-মেয়েদের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর এবং মৌলভীবাজারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের রিজেন্ট পার্কে শুরু থেকেই অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৫-৬ মাস ধরে এটি আরও বেড়েছে। এটি নামে পার্ক হলেও রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি বিশ্রামের কক্ষ। স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এসব কক্ষ ভাড়া নিয়ে নিরাপদে অসামাজিক কার্যকলাপ করেন। এ সুযোগে পার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন।
এরকম অভিযোগে রবিবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ১২ জন ছেলে-মেয়ে কয়েকটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কাজ চালাতে থাকেন। খবর পেয়ে, দুপুরে স্থানীয় ছাত্র জনতা এসে পার্কে হানা দিয়ে তাদেরকে কক্ষের ভেতরেই আটক করেন। আটক ছেলে-মেয়েদের বয়স ১৬ থেকে ২১ বছরের মধ্যে বলে তারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় মোগলাবাজার থানাপুলিশ। তবে স্থানীয় মুরব্বিরা এই ১২ ছেলে-মেয়ের অভিভাবকদের খবর দিয়ে কাজী এনে ১০ লক্ষ টাকা মহর ধার্য্য করে বিয়ের বন্দোবস্ত করেন। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে চারটি জুটির বিয়ে সম্পন্ন হয়। বাকীদের স্বজনরা নিজেদের উদ্যোগে বিয়ের আয়োজন করার আশ্বাস দিয়ে যান।
এদিকে এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রিসোর্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুরমা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.
এ ব্যাপারে রিসোর্টের ম্যানেজার হুমায়ুন কবিরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাইরে ছিলেন, কী হয়েছে তিনি জানেন না। রিসোর্টটি লিজ নিয়েছেন নগরীর বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন।
ঢাকা/নূর/এস
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ভিডিও কলে রেখে প্রেমিকের আত্মহত্যা, গৃহবধূকে গাছে বেঁধে রাখলেন এলাকাবাসী
টাঙ্গাইলে প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে রাসেল নামে এক কিশোর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রাসেল (১৫) সদর উপজেলার দরুন এলাকার চান মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেমিকা গৃহবধূকে গাছে বেঁধে রাখেন স্থানীয়রা।
স্বর্ণালী নামে স্থানীয় এক নারী জানান, রাসেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এক নারীর। এই নারীর কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়েছে। তাঁর স্বামী কলেজের শিক্ষক। তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বুধবার হঠাৎ খবর পাওয়া যায় রাসেল আত্মহত্যা করেছে। তখন মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে তার কথোপকথনের বিষয়টি জানা যায়। রাসেলের সঙ্গে ওই নারীর ঝগড়া চলছিল মনে হয়। রাসেল আত্মহত্যা করার সময় ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথাও বলেছে। আত্মহত্যার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। অপরদিকে প্রেমিকা গৃহবধূকে এলাকাবাসী আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি তানবীর আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।