কর্মক্ষেত্র থেকে বিরতি নেওয়া নারীদের কাজে ফেরাতে ‘ব্রিজ রিটার্নশিপ’ শীর্ষক উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য- কোনো কারণে পেশা ছাড়তে বাধ্য হওয়া নারীদের কর্মক্ষেত্রে পুনঃপ্রবেশে সহায়তা করা। ছয় মাস মেয়াদি এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শিক্ষা, পেশাগত উন্নয়ন, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে নতুন করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

কর্মক্ষেত্রে পুনঃপ্রবেশের সময় নারীদের অনেকেই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। অনেক সময় বিরতির কারণে প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি বা আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। পেশাগত সম্পর্কের মাধ্যমে যে যোগাযোগ বা নেটওয়ার্ক গড়ে ‍উঠেছিল তা সীমিত হয়ে যায়। ফলে প্রথাগত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো প্রতিভাবান পেশাজীবীরা উপেক্ষিত হয়ে কর্মজীবন থেকে আরও দূরে সরে যেতে বাধ্য হন। ব্রিজ রিটার্নশিপে এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এই অন্তরায়গুলো দূর করে চাকরি থেকে বিরতি নেওয়া নারীদের কর্মজীবনে ফেরাতে এই উদ্যোগটি হাতে নিয়েছে ব্র্যাক।

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ বলেছিলেন, ‘আমি আমার জীবনে কখনোই কোনো পরাজিত নারীকে দেখিনি।’ 

ব্র্যাকের পিপল, কালচার অ্যান্ড কমিউনিকেশনসের ঊর্ধ্বতন পরিচালক মৌটুসী কবীর বলেন, তার এই দারুণ শক্তিশালী উপলব্ধি ব্র্যাক ব্রিজ রিটার্নশিপ প্রোগ্রামের মূলনীতি হিসেবে কাজ করেছে। 

তিনি আরও বলেন, জেন্ডার সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে আমরা এমন একটি কর্মপরিবেশ তৈরি করতে কাজ করি, যেখানে পেশাজীবী নারীরা তাদের সম্ভাবনাকে নতুন করে উপলব্ধি করবেন এবং পেশাগত জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। প্রতিভাবান নারীদের পেশাজীবনে নতুন করে প্রবেশ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে সমাজ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ।

ব্রিজ রিটার্নশিপে অংশগ্রহণকারীরা ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রকল্পের তত্ত্বাবধান, গবেষণা ও অন্যান্য কাজে যুক্ত থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে শেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পেশা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ পরামর্শও পাবেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন।

ব্রিজ রিটার্নশিপে অংশগ্রহণকারী নারীদের পেশাগত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে যেন বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। সফলভাবে ব্রিজ রিটার্নশিপ সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারীদের চাকরির জন্য ব্র্যাক এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুপারিশ করা হবে।

ব্রিজ রিটার্নশিপে আবেদনের জন্য যে কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা এবং স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। আবেদনকারী নারীদের কর্মজীবন থেকে বিরতির সময়কাল হতে হবে নূন্যতম এক বছর। ব্র্যাক ব্রিজ রিটার্নশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে আপনার সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করুন।

এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://brac.

net/bridge-returnship। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: দ র কর র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

সিলেটে সকালে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, রাতে গ্রেপ্তার ৮ নেতা-কর্মী

সিলেট নগরে ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান আট নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে তাঁদের নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গতকাল সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে নগরের ধোপাদিঘিরপাড় এলাকার সড়কে ৩০ থেকে ৪০ জন তরুণ–যুবককে মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিলে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ‘বীরের বেশে দেশে ফিরবে’ বলে স্লোগান দেন তাঁরা।

পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলের পরপরই পুলিশ অংশগ্রহণকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালায়। পরে গতকাল রাতে মিছিলে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে আটজন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছেন নগরের পূর্ব পাঠানটুলা লন্ডনী রোডের বাসিন্দা ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য শাফায়েত খান (৩৪), ছাত্রলীগ কর্মী মদিনামার্কেটের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম (১৯), পাঠানটুলার সোহেল আহমদ (১৮), নালিয়ার রবিন কর (২৩), নাইওরপুলের ফাহিম আহমদ (২৩), শামীমাবাদের রাজন আহমদ (২৩), পাঠানটুলার বশির খান ও খাদিমপাড়ার সোয়েব আহমেদ (২৫)।

সিলেট মহানগরের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পুলিশ শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সিলেটে সকালে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, রাতে গ্রেপ্তার ৮ নেতা-কর্মী
  • প্রবাসে কেটে যায় ঈদ, থেকে যায় স্মৃতি