বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের উপর হামলার ঘটনায় মো. শরিফুল ইসলাম শেহজাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে মুম্বাই পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি বলে জানান, মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার দীক্ষিত গেদাম। তবে শরিফুলের আইনজীবী জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে এমন কোনও নথি নেই, যাতে প্রমাণিত হয় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। 

ভারতীয় গণমাধ্যম একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ভোরে গ্রেফতারের পর শেহজাদকে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা হলিডে কোর্টে পেশ করা হয়। আদালত তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

এর আগে মুম্বাই পুলিশের (জোন ৯)-এর ডেপুটি কমিশনার দীক্ষিত গেদাম বলেন, ‘১৬ অক্টোবর রাত ২টার দিকে সাইফ আলী খানের বাড়িতে ঢুকে তার উপর হামলা করা হয়। এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয় এবং এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম মো.

শরিফুল ইসলাম শেহজাদ। বয়স ৩০ বছর। সে ডাকাতির উদ্দেশে অভিনেতার বাড়িতে ঢুকেছিল।’

শরিফুলের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে পুলিশ তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা যে প্রমাণ পেয়েছি, তাতে মনে হচ্ছে সে বাংলাদেশের নাগরিক। তার কাছে ভারতে থাকার কোনও বৈধ নথিপত্র নেই। আমরা কিছু নথি তার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করেছি। তা থেকে মনে করা হচ্ছে সে বাংলাদেশি। এখনও পর্যন্ত তদন্তে আমরা যা বুঝতে পেরেছি তা থেকে এটুকু মনে হচ্ছে ওই ব্যক্তি এই প্রথম সাইফ আলী খানের বাড়িতে প্রবেশ করেছিল।’

এদিকে মুম্বাই পুলিশের বাংলাদেশি তত্ত্ব খারিজ করে অভিযুক্ত মো. শরিফুল ইসলাম শেহজাদের আইনজীবী দীনেশ প্রজাপতি বলেন, ‘পুলিশ যে প্রমাণের ভিত্তিতে তার (অভিযুক্ত মো. শরিফুল ইসলাম শেহজাদ) হেফাজত চেয়েছে তা যথেষ্ট নয়। সে যে বাংলাদেশি নাগরিক,তার সমর্থনে পুলিশ কোনও তথ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। আদালত তাকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।’

শরিফুলের আরেক আইনজীবী সন্দীপ শেখানে বলেন, ‘প্রথমত, সাইফ আলী খান কখনও এমন কোনও বিবৃতি দেননি যাতে বাংলাদেশ বা বিশ্বের অন্য কোনও দেশ তার জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তার কোনও আন্তর্জাতিক মামলা নেই। পুলিশ বিষয়টিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। সে আগে বাংলাদেশে থাকত। কিন্তু এখন থাকে না। পুলিশ বলছে, গত ৬ মাস ধরে সে মুম্বাইয়ে রয়েছে। এটা মিথ্যা। তার পরিবার ৭ বছর ধরে মুম্বাইয়ে রয়েছে। এই ঘটনায় ঠিকঠাক তদন্ত হচ্ছে না। পুলিশের কাছে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে অভিযুক্ত শরিফুল বাংলাদেশের নাগরিক।’

আদালতে কেন শরিফুলের পরিবারের কাউকে দেখা গেল না- এ প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবীরা বলেন, ‘চাপের মুখে তারা এখানে আসতে পারেননি। অবশ্যই আসবেন, যখন প্রয়োজন হবে।’ সূত্র: আনন্দবাজার ও ইটিভি বাংলা।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: আইনজ ব

এছাড়াও পড়ুন:

ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে

বুয়েনস এইরেসের সান ইসিদরো আদালতে চলছে মামলার শুনানি। ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অবহেলা ছিল চিকিৎসকদের, তা খতিয়ে দেখছেন আদালত। কিংবদন্তির শেষ দিনগুলোয় তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন যে আটজন চিকিৎসক, তাঁদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলাজনিত অপরাধের অভিযোগে চলছে বিচার কার্যক্রম।

বাদীপক্ষ ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার হয়ে আদালতে লড়ছেন আর্জেন্টাইন আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো। এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘পশুর সঙ্গে যেমন আচরণ করে, ডিয়েগোর সঙ্গে সেটাই করা হয়েছে। আদালতে যা কিছু দেখা গেছে, সেটাই প্রমাণ করে।’

আরও পড়ুনমেসির দেহরক্ষীকে নিষেধাজ্ঞা৪ ঘণ্টা আগে

আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল এলত্রেসে প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘লা নোচে দে মিরথা’য় বার্লান্দো ব্যাখ্যা করেন, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছিল—এটা প্রমাণ করাই তাঁর আইনি দলের লক্ষ্য, ‘অবহেলার বিষয়টি আমরা আগেই পেরিয়ে এসেছি। এখন তা বিচারিকভাবে প্রমাণের চেষ্টা করছি।’

এই পৃথিবীতে ডিয়েগোর অনুপস্থিতিতে লাভটা তৃতীয় পক্ষের, যারা তাঁর উত্তরাধিকার নয়। কিছু লোক আছে, যারা কিছু সন্দেহজনক চুক্তিপত্র সইয়ের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর পরও লাভবান হচ্ছে, এমনকি তাঁর ওপর ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে।ফের্নান্দো বার্লান্দো, ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার পক্ষের আইনজীবী

বার্লান্দোর দাবি, পরিকল্পনা করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে মেরে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসাজনিত অবহেলা তাঁর মৃত্যুর কারণ নয়, ‘আমি একমত, কোনো সন্দেহ নেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা আর্জেন্টাইন অভিনেত্রী ও সঞ্চালক মিরথা লেগ্রান্দ আইনজীবী বার্লান্দোর কাছে জানতে চান, ম্যারাডোনাকে মৃত্যুমুখে পতিত করা হয়েছে, নাকি হত্যা করা হয়েছে?’ বার্লান্দোর উত্তর, ‘ম্যারাডোনার মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা আটজন ইচ্ছাপ্রসূত হত্যার দায়ে জড়িত। কেউ যখন সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, এ ক্ষেত্রে যেটা মৃত্যু এবং তাদের আচরণে মনে হয় কিছুই হয়নি, তখন এটা হত্যা।’

ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ানিন্নার পক্ষের আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে