ছাত্রদল পরিচয়ে নারী সাংবাদিকসহ তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের হেনস্তার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় নিজেদের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতি (সতিকসাস)।

এ সময় সতিকসাসের সভাপতি সাহেদুজ্জামান সাকিব বলেন, “কার্যালয়ে ঢুকে নারীসহ সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের হেনস্তার ঘটনায় আজ আমাদের মানববন্ধন করার কথা ছিল। তবে এরইমধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও তিতুমীর কলেজ প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করায় মানববন্ধন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে, এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”

কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনা সাংবাদিকতার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনো সংবাদের বিষয়ে কারো আপত্তি থাকলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিবাদলিপি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দলবল নিয়ে সাংবাদিকদের জিম্মি করে জবাবদিহি চাওয়া ও জোরপূর্বক ভিডিও ডিলিট করানো গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরার শামিল।”

এসময়, ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক সুশৃঙ্খল থাকতে ও সঠিক তথ্য পরিবেশনে ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্লাটফর্ম ‘তিতুমীর ঐক্য’ এর কার্যক্রমে ছাত্রদলপন্থীদের হট্টগোলের ভিডিও সতিকসাসের পেইজে প্রকাশ করা হয়। এতে সতিকসাসের কার্যালয়ে হট্টগোল ও নারী সাংবাদিকসহ অন্য সদস্যদের হেনস্তা করেন ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন নেতাকর্মী।

পরে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ অভিযুক্ত দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে। একইসঙ্গে তিতুমীর কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ঢাকা/সিয়াম/মেহেদী

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ত ত ম র কল জ ছ ত রদল সদস য তদন ত

এছাড়াও পড়ুন:

‘জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে বাঘায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ‘জামায়াত–শিবিরের অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির বাঘা থানা ও পৌর শাখার সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপজেলা সদরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির নেতা–কর্মীরা বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি আম চত্বর হয়ে উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল থেকে ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, জামায়াত-শিবির গেলি কই’, ‘একাত্তরের রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ এমন নানা স্লোগান দেওয়া হয়। এ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত উভয় দলের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, বাঘা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুনবাঘায় বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি হামলা, দোকান-বাড়ি ভাঙচুর, পাঁচটি মোটরসাইকেলে আগুন৩১ মার্চ ২০২৫

মিছিল শেষে সমাবেশে তফিকুল ইসলাম হ্যান্ডমাইকে বলেন, ‘ইসলামের নাম করে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে, জায়গা দখল করে, গাছ কাটে। মানুষের অধিকার আদায়ে বাধা দেয়। তাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাস যখন যে দলের সঙ্গে সুযোগ পায়, সেই দলের সঙ্গে মিশে যায়।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মার্চ ‘সাধারণ মানুষের অধিকার, বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার’ বিষয় নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউসা ইউনিয়ন শাখা। এই কর্মসূচি পালনে স্থানীয় বিএনপি বাধা দিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ নিয়ে থানায় অভিযোগের পর বিষয়টি মীমাংসা হলেও গত রোববার (৩০ মার্চ) মাগরিবের নামাজের পর জামায়াতের লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাউসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি রাজিব আহমেদ মণ্ডলকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ চিকিৎসাধীন।

পরে বিএনপির লোকজন ছাত্রশিবিরের এক নেতার ওপর হামলা, জামায়াত–সমর্থিত ব্যবসায়ীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা–ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ লুটপাট, পাঁচটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, দুটি বাইসাইকেল ভাঙচুর এবং দুটি বাড়িতে হামলা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এটা নিয়ে ৩১ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত। ১ এপ্রিল বিকেলে উপজেলা সদরে বিএনপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বাঘা থানায় ছয়টি মামলা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে সেক্রেটারি ইউনুস আলী বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। জামায়াতে ইসলামী বাউসা ইউনিয়নের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়ম-দুর্নীতির মানববন্ধন করা হয়। সেখানে বিএনপির নামধারী সন্ত্রাসী মানববন্ধনে হামলা চালিয়ে কয়েকজন আহত করে। বিষয়টি মীমাংসা হলেও তারা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জখম করে। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বিএনপির মিছিলে স্লোগানে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব স্লোগান আওয়ামী লীগ দিত, তারা জামায়াতকে জনগণ থেকে দূরে রাখতে কৌশল হিসেবে নিয়েছিল। এখন এসব করে লাভ হবে না, জনগণ বুঝে গেছে, জামায়াতে ইসলামীর সাথে জনগণ আছে।’

আরও পড়ুনবাঘায় দুর্নীতি-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতের মানববন্ধন, বিএনপির হামলা২১ মার্চ ২০২৫

বাঘা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আছাদুজ্জামান বলেন, বাউসার ঘটনায় জামায়াত-বিএনপি দ্বন্দ্বে উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। বিএনপি করেছে দুটি আর জামায়াত করেছে চারটি। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ‘জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারের’ প্রতিবাদে বাঘায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল