দেশব্যাপী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালিত
Published: 19th, January 2025 GMT
বহুদলীয় গণতন্ত্রের রূপকার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী আজ ১৯ জানুয়ারি। তিনি ১৯৩৬ সালের এই দিন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তিনি।
দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
বরিশাল:
বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলে জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং বরিশাল বিভাগীয় দলনেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আউয়াল মিন্টু বলেন, “গত ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, এখনো করছি। এই আন্দোলন দেশের মানুষের সাংবিধানিক, মৌলিক, ভোটের অধিকার ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত চলবে। এসব অধিকার নিশ্চিতের প্রথম কাজ হচ্ছে নির্বাচন। আমাদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার। সংগ্রামের প্রাথমিক বিজয় পেয়েছি। মূল লক্ষ্য পূরণ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
একই সময়ে অশ্বিনী কুমার হলের পাশে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা করেছে মহানগর বিএনপি। এই সভাতেও প্রধান অতিথি ছিলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, যুগ্ম-আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার।
পঞ্চগড়:
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে দলটির জেলা নেতাদের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফি, আফাজ উদ্দীন, সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান বানু মুক্তি, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান জাপান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাই দেননি, তিনি সম্মুখসারির যোদ্ধাও ছিলেন। আজকে তার নাম সামনে আসলেই গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা আসে।”
বিএনপি নেতারা জানান, প্রতিবছরই আমরা কেক কেটে জিউয়ার রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করি। এবছরও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালনের পরিকল্পনা ছিল। তবে, এবার আমাদের দেশ নেত্রী অসুস্থ। তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এজন্য দোয়া ও আলোচনসভার মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইল:
আজ বিকেলে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরের পুরাতন কোর্ট মসজিদে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এই কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, সাবেক সহ-সভাপতি আতাউর রহমান জিন্নাহ, সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এজাজুল হক সবুজ, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোহাম্মদ শাফী ইথেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর:
আজ সকালে চাঁদপুরে দলীয় কার্যালয়ে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুব আনোয়ার বাবলু, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, দেওয়ান মো.
ঢাকা/পলাশ, নাঈম, কাওছার, অমরেশ/মাসুদ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর উপস থ ত ছ ল ন ব এনপ র স ল ইসল ম র ব এনপ উপলক ষ দল র স
এছাড়াও পড়ুন:
কলকাতায় ঈদের নামাজের আগে স্বাধীন ফিলিস্তিনির দাবিতে মিছিল
সারা ভারতসহ পশ্চিমবঙ্গে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাতে সামিল হন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার রেড রোডে। নামাজে ইমামতি করে কাজি ফজলুর রহমান। লাখো মুসল্লি এতে অংশ নেন। এছাড়াও নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ, পার্ক সার্কাস, ময়দান, খিদিরপুরসহ রাজ্যের অসংখ্য মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষেই একে অপরকে আলিঙ্গন, কুশল বিনিময় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
তবে ঈদের নামাজ শুরুর আগেই স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দাবি করে কলকাতায় সংহতি মিছিলে অংশ নেন মুসল্লিরা। হাতে ব্যানার এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল মিছিলটি। বিশাল মিছিল নিয়ে কলকাতার রেড রোডে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। বড়দের পাশাপাশি অনেক বাচ্চারাও সেই মিছিলে শামিল হয়।
ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারী শেখ আমির নামে এক মুসুল্লি জানান, ‘আজকে আমাদের খুশির দিন, আনন্দের দিন। কিন্তু ফিলিস্তিনে আমাদের ভাই-বোনেদের সঙ্গে যে অন্যায় হচ্ছে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তারাও যেন শান্তিতে থাকতে পারেন। আমরা যেভাবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করছি, ঠিক সেভাবে তারাও যেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ পালন করতে পারেন। আমি যেমন আমার বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে এসে নামাজ আদায় করছি, ঠিক তারাও যেমন এ রকম করতে পারেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে অত্যাচার এবং জুলুম হচ্ছে। নিরপরাধ বাচ্চাদের হত্যা করা হচ্ছে সেটা কি অপরাধ নয়? ইসরায়েলের উচিত ওই বাচ্চাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা। ইসরায়েলের আক্রমণে যেসব বাচ্চারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি।’
পরে রেড রোডের ঈদের নামাজে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা প্রমুখ।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঈদ পালিত হচ্ছে দিল্লি, লখনৌ, হায়দ্রাবাদ, মুম্বাই, জম্মু-কাশ্মীর, ভোপাল, পাটনাসহ দেশের প্রতিটি শহরে। দিল্লির জামা মসজিদে হাজার হাজার মুসল্লি নামাজে অংশ নেন।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাগপুরে দুইটি গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ঈদ উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল নাগপুর, মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে। নাশকতা এড়াতে দিল্লিসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহরেই ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা যায়।