শ্রমিকলীগ নেতা নাছিরের গ্রেপ্তার দাবিতে সমন্বয়কদের আল্টিমেটাম
Published: 19th, January 2025 GMT
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার হত্যা ও হামলার একাধিক মামলার আসামি ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি গোলাম নাছিরসহ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুরের ছাত্র সমন্বয়কেরা।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশে পুনাক রেস্টুরেন্টের সামনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুরের অন্যতম ছাত্র সমন্বয় সোহেল রানা। এ সময় গোলাম নাছিরের ছবি সম্বলিত প্রতীকী ফাঁসির ফেস্টুন হাতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশের সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভায় প্রকাশ্যে পলাতক আসামি গোলাম নাছির, ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি জুবায়ের জাকির বক্তব্য রাখেন। তারা দুজনে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা।
আরো পড়ুন:
বেগমগঞ্জে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ
আড়াইহাজারে নৌকার মাঝিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
ওই বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সমন্নয়ক ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
পুলিশের তালিকাভূক্ত পলাতক আসামি গোলাম নাছির ও জুবায়ের জাকির রাজধানীতে বিএনপির অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না ফরিদপুরের ছাত্র সমন্বয়করা। আসামিদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
সমন্বয়ক সোহেল রানা বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে নাছিরসহ যারা ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিলেন, পুলিশ এখনও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারিনি। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আজ থেকে অনশনে যাওয়ার কথা ছিল আমাদের। পুলিশ প্রশাসনকে আগামী পাঁচ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আশানুরূপ দৃশ্যমান গ্রেপ্তার দেখাতে না পারলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসা হবে।’’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সমন্বয়ক আবরার নাদিম ইতু, নিরব ইমতিয়াজ শান্ত, মেহেদী হাসান হৃদয়, সাজিদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শৈলেন চাকমা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত রয়েছে, তাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
ঢাকা/তামিম/বকুল
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল কিশোর
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নয়মাইল বাজার এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির তাজওয়ার তাজ (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছে। বুধবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তাজ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জের গড়চাপড়া গ্রামের ইউসুফ আলী মাস্টারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে মোটরসাইকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল তাজ। বিকেলে নয়মাইল এলাকায় তাদের মোটরসাইকেল পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই মোটরসাইকেলের চার আরোহী গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাজকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রাজশাহী নেওয়ার পথে আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি এলাকায় রাত ৮টার দিকে সে মারা যায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে তিনজন। তারা চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।