ওয়ালটন ক্যাবলসের দিনব্যাপী বিজনেস পার্টনার্স মিট-২০২৫ উদ্বোধন
Published: 19th, January 2025 GMT
গাজীপুরের চন্দ্রায় দেশ সেরা ব্র্যান্ড ওয়ালটনের হেডকোয়ার্টার্সে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ওয়ালটন ক্যাবলসের ‘বিজনেস পার্টনার্স মিট-২০২৫’ শীর্ষক সম্মেলন। এতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওয়ালটন ক্যাবলসের সহস্রাধিক ডিস্ট্রিবিউটর, বিক্রয় প্রতিনিধি এবং কর্মকর্তারা ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে এসেছেন। তাদের পদচারণায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণ।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি, ২০২৫) সকালে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে বেলুন উড়িয়ে ক্যাবলস প্রোডাক্টের দিনব্যাপী এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম।
সম্মেলন উপলক্ষে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে তৈরি করা হয়েছে সুবিশাল সম্মেলন কক্ষ। নির্মাণ করা হয়েছে সুদৃশ্য মঞ্চ। বর্ণিল ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে পুরো হেডকোয়ার্টার্স। সম্মেলনে অংশ নিতে সকালে ক্যাবলসের ডিস্ট্রিবিউটররা ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স প্রাঙ্গণে আসেন। এরপর অতিথিরা হেডকোয়ার্টার্সে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ওয়ালটন ক্যাবলসসহ বিভিন্ন পণ্যের ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টস পরিদর্শন করেন। তাঁরা ওয়ালটনের বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির আন্তর্জাতিকমানের ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টস দেখে মুগ্ধ হন।
ওয়ালটন ক্যাবলসের চিফ বিজনেস অফিসার রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত আছেন ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান, ওয়ালটন হাই-টেকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো.
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক এবং ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আমিন খান।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র-এর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে দিনব্যাপী এই সম্মেলন।
ঢাকা/আকরাম/ইভা
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ঘাটতির শঙ্কায় রাজস্ব আদায় নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরে এলেও বছর শেষে একটি বড় ধরণের রাজস্ব ঘাটতির সম্মুখীন হতে চলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে একটি ঋণ চুক্তির মধ্যে রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় রাজস্ব আয়ের একটি টার্গেটও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের হার যেভাবে এগুচ্ছে তা এই টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে না। ফলে ঋণের বাদবাকি কিস্তি সংস্থাটির কাছ থেকে পেতে বেশ বেগ পেতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এনবিআর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। তা স্বত্বেও গত আট মাসে ২ লাখ ৮০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৮১৭ টাকা। কিন্তু আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। টার্গেট অনুযায়ী রাজস্ব ঘাটতি ২১ শতাংশ কম ছিল।
অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৭১ কোাটি টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে টানা তিন মাস রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
এনবিআরের তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ, যা এর আগের মাস জানুয়ারিতে ছিল প্রায় ৭ শতাংশ।
এ বিষয়ে এনবিআর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোন গবেষণা ছাড়াই প্রতিবছর একটি বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বছর শেষে এসে দেখা যায়, মূল্য লক্ষ্যমাত্রা তো দূরের কথা সংশোধিত আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাও সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন পণ্য দাম কমানোর জন্য এই সকল পণ্য’র ওপর কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে করে রাজস্ব আদায় কমে গেছে। তবে বছরের বাদবাকি সময়ে এই আদায় আরও বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।”
এদিকে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদায় হোক বা না হোক, আগামী তিন অর্থবছরের জন্য মোট ১৮ লাখ ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই রাজস্ব আদায়ের টার্গেট দেওয়া হবে এনবিআরকে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্বখাত থেকে আয় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আসবে পাঁচ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে এনবিআর থেকে আসবে পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাত লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আদায়ের পরিকল্পনা প্রাক্কলন করা হয়েছে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
এদিকে, বাজেট পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবছর বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, সেটি অর্জন করা তো দূরের কথা, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্জন করা সম্ভব হয় না। গত আট অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে এনবিআর-এর আওতাধীন রাজস্ব ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি। আর এই ধরণের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে একধরণের ‘সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
ঢাকা/টিপু