Samakal:
2025-04-03@03:09:23 GMT

আইনজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

Published: 19th, January 2025 GMT

আইনজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ বেশ কিছু বিষয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ যৌক্তিক বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তবে রাষ্ট্রের নাম ও মূলনীতি পরিবর্তন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা, প্রার্থীর বয়সসীমা ও তরুণ-তরুণীদের জন্য ১০ ভাগ প্রার্থিতা সংরক্ষণসহ বেশ কিছু বিষয়ে কমিশনের সুপারিশের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সার্বভৌম। অধ্যাদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায় না। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্বাচিত পরবর্তী সরকারের এখতিয়ার। সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন। জনমতকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা না হলে সংস্কারের বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও এর কার্যকারিতা নিয়ে সমকালকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আইন বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড.

শাহ্দীন মালিক সমকালকে বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংসদের মেয়াদ চার বছর করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন খসড়া প্রস্তাবনা দিয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু বিষয়ে খসড়ার সঙ্গে তারা একমত হবেন। আর কিছু বিষয়ে হয়তো ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সময় আছে, আমরা নিশ্চিয় কিছু ব্যাপারে রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব এবং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ এগুলো কার্যকরে উদ্যোগী হবে।

সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাবের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করে শাহ্দীন মালিক বলেন, পৃথিবীতে দেশের সাংবিধানিক নাম বদলানোর উদাহরণ খুব বেশি নেই। মূলনীতির ক্ষেত্রেও তাই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মূলনীতিতে সমাজতন্ত্র ছিল না। সেখানে এটি যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু কোনো মূলনীতি বাতিল করা হয়নি। তবে মূলনীতির কার্যকারিতা আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়। এখন যদি আমাদের মূলনীতি পরিবর্তন হয়, তা আপত্তিতেও টিকবে না। পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে, অন্য সরকার সেটি পুনর্বহাল বা ভিন্নভাবে পরিবর্তন করবে। তাই এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যেটা বারবার বদলানোর পরিস্থিতি হয়। অর্থাৎ, মীমাংসিত বিষয়গুলো যদি পরিবর্তন করা হয়, তাহলে অনেক কিছুই অস্থিতিশীল হয়ে যাবে। এটা রাষ্ট্র বা জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন সমকালকে বলেন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ সংস্কার কমিশন বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এতে কিছু ভালো সুপারিশ রয়েছে। বিএনপিও রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা সুপারিশ করেছে। দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে না, এমন সুপারিশ আছে। এটি কমিশনের সুপারিশেও আছে। তাই কমিশনের সুপারিশ এবং বিএনপির সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই নির্বাচিত সংসদ লাগবে। তিনি আরও বলেন, সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশের বিষয়ে জনগণ কী চায়, সেটা বুঝতে হবে। আর এটি বুঝতে হলে দ্রুত নির্বাচন করা দরকার। কারণ, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবেন রাজনীতিবিদরা।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে এখন আলোচনার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি সমকালকে বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন যারা করছেন, অর্থাৎ বর্তমান সরকারের এটি করার কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধান সংশোধন কখনও অধ্যাদেশ জারি করে কার্যকর করা যায় না। তাই সংবিধানসহ অন্যান্য সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ দিয়েছে, তা কার্যকর করতে হলে অবশ্যই সংসদ কার্যকর থাকতে হবে। সেখানেও এই সুপারিশগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশে কিছু বিষয় আছে যেগুলো জনগণ চায়, অর্থাৎ জনপ্রিয় ইস্যু। প্রধানমন্ত্রী দু’বারের বেশি থাকতে পারবেন না। নির্বাচন হতে হবে দল নিরপেক্ষভাবে, অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা। এই প্রস্তাবনাগুলোর জন্য কমিশন ধন্যবাদ পেতে পারে। তবে কমিশনের কিছু সংশোধনী প্রস্তাব ও সুপারিশ অত্যন্ত নিন্দনীয়।

তাঁর মতে, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের ঘোষণাপত্র স্বাধীন বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারগুলোর মূল ভিত্তি। এটা বাদ দেওয়ার পাশাপাশি সংবিধানের প্রস্তাবনা পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। কারণ, ১৯৭০ সালের নির্বাচিত গণপরিষদ রচিত সংবিধানের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র কাঠামো সৃষ্টি হয়েছে। তাই এটি কখনও পরিবর্তনযোগ্য নয়। উপরন্তু মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের মূল স্পিরিটকে অস্বীকার করার শামিল, যা কখনও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দেশের জনগণও এটি হতে দেবে না।

অন্যদিকে, এমনভাবে মূলনীতি প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালির চিন্তাচেতনা সঠিক ছিল না। এসব সুপারিশের মাধ্যমে কমিশনের সংশ্লিষ্টরা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সংবিধানসহ যাবতীয় বিষয়কে বিতর্কিত করার হীন চেষ্টা চালিয়েছেন। এ ছাড়া রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংসদ গঠন থেকে শুরু করে কিছু বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানকে কপি-পেস্ট করা হয়েছে। আমাদের দেশের জনগণ এবং সার্বিক ব্যবস্থা এর জন্য উপযোগী কিনা, তা বিবেচনা করা হয়নি। 

উচ্চ আদালতে সংবিধান-সংক্রান্ত একাধিক মামলার রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে আরও বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুযোগ দিতেই নির্বাচনের প্রার্থিতা ১০ ভাগ তরুণ-তরুণীর জন্য সংরক্ষণসহ প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স ২১ বছর করার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, তারা কি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনে যাবে। কারণ, ২১ বছর বয়সে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যায়ে প্রথম বর্ষে থাকার কথা। এসব হাস্যকর প্রস্তাবনা কমিশনের গ্রহণযোগ্যতাকে দুর্বল করেছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই পান্না বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং এর মাধ্যমে প্রণীত প্রস্তাবনা, রাষ্ট্রীয় মূলনীতিসহ কিছু বিষয় অপরিবর্তনযোগ্য। ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে এগুলো অর্জিত। এসব বাতিল বা সংশোধন করার অনুমোদন এই সরকারকে কেউ দেয়নি। কমিশনের সুপারিশে ভালোমন্দ যাই থাকুক, তা কার্যকর বা সংস্কারের বিষয় নির্বাচিত সরকারের। এই সরকারের মূল কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। জনগণের এটাই এখন প্রধান আকাঙ্ক্ষা। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের অর্থ হচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে আরও কালক্ষেপণ করা। যা কিছু সংস্কার প্রয়োজন তা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারই সংবিধান অনুযায়ী করবে। এর ব্যত্যয় আইনানুগ কিছুতেই হবে না। কমিশনের কর্মকাণ্ডে বরং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজন আছে। কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সংকুচিত করা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়নে সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সরাসরি নির্বাচনের বিধানসহ কিছু বিষয় আছে অত্যন্ত যৌক্তিক। তবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়াটা একেবারেই অযৌক্তিক। এটি মুক্তিযুদ্ধেরও একটা প্রেক্ষাপট।’ সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সংশোধনের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: আইনজ ব র ষ ট রপত র জন ত ক সরক র র ক র যকর পরবর ত আইনজ ব র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

সংস্কার-নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপিকে টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে টার্গেট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা প্রচারণা চলছে যে বিএনপি আগে নির্বাচন চায়, পরে সংস্কার অথবা বিএনপি সংস্কার চায় না, নির্বাচন চায়। এটা দিয়ে জনগণের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথাগুলো বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যে বিষয়ে জোর দিচ্ছি, সে বিষয়ে অনেকেই বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন না। আমরা কখনই এটা বলছি না—আগে নির্বাচন, পরে সংস্কার। আমরা বলে আসছি; প্রথমত, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য মিনিমাম সংস্কার যেটুকু দরকার, তা করতে হবে। যেমন নির্বাচন ব্যবস্থাকেন্দ্রিক যে সংস্কার, তা করতে হবে; দ্বিতীয়ত, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে; তৃতীয়ত, জুডিশিয়াল রিফর্ম (বিচার ব্যবস্থার সংস্কার) করতে হবে। এই তিনটি বিষয়ে সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। আজ যে সংস্কার দাবি উঠেছে, তা বিএনপিরই দাবি।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি যে ৩১ দফার প্রস্তাব দিয়েছে, সেখানে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে মতামত দিয়েছে। কতগুলো বিষয় আছে যা মীমাংসিত, সেগুলোতে বিএনপি হাত দিতে চায় না।

আরও পড়ুনসংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কী বলছে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যরা১৭ জানুয়ারি ২০২৫

ফ্যাসিবাদীদের বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা আছে কি না—প্রশ্ন করলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পরস্পরবিরোধী মতামত নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা নেই। কারণ, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হচ্ছে ভিন্ন মত। সব রাজনৈতিক দলের যদি একই রকম মতামত হয়, তবে তো একই ধরনের হয়ে গেল। এখানে একেক দলের একেক মত থাকবে। দেশের জনগণ বেছে নেবেন, কোনটা তাঁদের জন্য প্রযোজ্য।’ এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, ‘দেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক রয়েছে। আর যাঁরা সংস্কার নিয়ে এসেছেন, তাঁরা জ্ঞানী লোক, পণ্ডিত লোক; বিশাল বিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। তাঁদের আমরা শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। কিন্তু তাঁরা যদি জনগণের বাইরে গিয়ে কিছু করেন, তবে আমরা সেটাকে সমর্থন করতে পারি না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোটা পৃথিবীতে ডানপন্থীদের একটা উত্থান হয়েছে। তাঁরা এখন বলছেন, ‘গণতন্ত্র ইজ গোয়িং ডাউন।’ জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশ সফরে এলে বিএনপি তাঁর সঙ্গে বৈঠক কর। সেখানে তিনি বলেছিলেন যে ‘গণতন্ত্র এখন বিপদের সম্মুখীন।’ এখন বিভিন্ন দেশে ডানপন্থীদের উত্থান হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদের উত্থান হচ্ছে, গণতন্ত্র নিচে নামছে। কিন্তু তারপরও গণতন্ত্রই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা, শাসনের জন্য, সুশাসনের জন্য।

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রচারণাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতের মিডিয়ায় যেসব প্রচার হচ্ছে, সেগুলো যে ডাহা মিথ্যা, এটা আপনারা ভালো করে জানেন। ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম দিকে কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপরে অন্যায় হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাসে কী এসব হয়েছে? অথচ ভারতের মিডিয়ার বয়ানে দেখবেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চরম অন্যায় হচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়া দেখি না। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে একটা মিস ইনফরমেশন, মিথ্যা প্রচার ও অপপ্রচারের কারখানা।’

আরও পড়ুনবিএনপির সংস্কার প্রস্তাব: ক্ষমতার ভারসাম্য, একজন দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয় ২৩ নভেম্বর ২০২৪

দলীয় নেতা-কর্মীদের অপরাধ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘ইতিমধ্যে দলীয় কিছু ব্যক্তি, কিছু কিছু কাজ (অপরাধ) করেছিল, যা আমরা প্রশ্রয় দিই না; তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও সংগঠনের কমিটি ভেঙে দিয়েছি, দলের নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করেছি।’

এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওয়াদুল্লাহ মাসুদ, আবু তাহের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • এ সরকারের আমলে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেনি, সম্ভাবনাও নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেনি, কোনো সম্ভাবনাও নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেনি, কোনো সম্ভাবনা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • সংস্কার-নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
  • ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারকে ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেবে এডিবি
  • বিএনপি কখনো বলেনি আগে নির্বাচন পরে সংস্কার, ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
  • কোন কোন উপদেষ্টাকে সরাতে বলেছেন মির্জা ফখরুল
  • শুনেছি লাখের কাছাকাছি ‘আওয়ামী সন্ত্রাসী’ ভারতে আশ্রয় নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
  • ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে
  • নির্বাচনের পর সংস্কার: নব্বইয়ের অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা কি ভুলে যাব