ভারত অসহিষ্ণু আচরণ করছে মন্তব্য করে গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, হাসিনার পতনের পর প্রতিবেশী দুষ্ট রাষ্ট্র ভারত আমাদের প্রতি বন্ধুসুলভ আচরণ করছে না। তারা অসহিষ্ণু আচরণ করছে। সীমান্তে উস্কানি দিচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও শূন্য রেখার মধ্যে ঢুকে সংঘাতকে উস্কানি দিচ্ছে। ভারত যদি আগুন নিয়ে খেলে, যা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করবে, অস্থিরতা তৈরি করবে। ভারতকে আমরা হুশিয়ারি দিতে চাই আপনাদের সেভেন সিস্টার্স কিন্তু স্থির থাকবে না। আপনারা বন্ধুসুলভ আচরণ করবেন, আমরা বন্ধু সুলভ আচরণ দেখাব।’ 

শনিবার সন্ধ্যায় নীলফামারীর জলঢাকা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। 

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে ভয়ঙ্কর রূপে আসবে। কাজেই আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বিন্দু মাত্র ছাড় দেওয়া যাবে না। 

তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরে ৯৬ সালে ২১ বছর পরে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। এসে কি প্ল্যান-পরিকল্পনা করেছিল তা আপনারা দেখেছেন। ভারতের সহযোগীতায় ২০০৮ সালে আর একটি নীল নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এদেশের গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে এদেশকে ভারতের রাজ্যে পরিণত করেছিল। যার ফলে কাঁটাতারে ফেলানীরা ঝুলে ছিল, সীমান্তে প্রতিনিয়ত লাশ পড়ছিল, আমরা নিজ দেশে পারাধীন হয়েছিলাম।’ 

নুর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের যে প্রত্যাশা ছিল সেটাতে ধাক্কা খেয়েছি। আমরা ভেবেছিলাম অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি সর্বদলীয় সরকার হবে। যেখানে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী দল সমূহের প্রতিনিধি থাকবে। তাহলে আজকে দেশের যে সংকট এই তা তৈরি হতো না।

অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনো ভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে নুরুল হক নুর বলেন, এই সরকারের সফলতার উপরে নির্ভর করে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এই সরকারের ব্যর্থতার উপরে নির্ভর করবে আগামী এই জাতির ভবিষ্যৎ। সরকারকে কোনো ভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। সফল করতে হলে প্রশাসনকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পাই যে, তারা আগের মতো কেউ আওয়ামী লীগ নিয়ে চলছে। এখন আবার কোন কোন দলের প্রতি প্রীতি দেখায় সেই দলকে নিয়েই আবার খেলা করে বোঝা মুশকিল। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই; প্রশাসনে যারা দলবাজি করবেন তারা চাকরি ছেড়ে রাজনীতি করুন। প্রশাসনে কোনো দলবাজি চলবে না।

গণঅধিকার পারিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো.

সোহাগ হোসাইনের সভাপতিত্বে গণসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান। গণসমাবেশের উদ্বোধন করেন গণঅধিকার পরিষদ জলঢাকা উপজেলা শাখার সভাপতি তাইজুল ইসলাম।

গণঅধিকার পারিষদ জলঢাকা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মতিন স্বাধীনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় উচ্চ পরিষদের সদস্য হানিফ খান সজিব, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ মোন্নাফ প্রমুখ।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ন র ল হক ন র গণঅধ ক র প সরক র র আওয় ম

এছাড়াও পড়ুন:

ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে

বুয়েনস এইরেসের সান ইসিদরো আদালতে চলছে মামলার শুনানি। ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অবহেলা ছিল চিকিৎসকদের, তা খতিয়ে দেখছেন আদালত। কিংবদন্তির শেষ দিনগুলোয় তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন যে আটজন চিকিৎসক, তাঁদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলাজনিত অপরাধের অভিযোগে চলছে বিচার কার্যক্রম।

বাদীপক্ষ ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার হয়ে আদালতে লড়ছেন আর্জেন্টাইন আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো। এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘পশুর সঙ্গে যেমন আচরণ করে, ডিয়েগোর সঙ্গে সেটাই করা হয়েছে। আদালতে যা কিছু দেখা গেছে, সেটাই প্রমাণ করে।’

আরও পড়ুনমেসির দেহরক্ষীকে নিষেধাজ্ঞা৪ ঘণ্টা আগে

আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল এলত্রেসে প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘লা নোচে দে মিরথা’য় বার্লান্দো ব্যাখ্যা করেন, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছিল—এটা প্রমাণ করাই তাঁর আইনি দলের লক্ষ্য, ‘অবহেলার বিষয়টি আমরা আগেই পেরিয়ে এসেছি। এখন তা বিচারিকভাবে প্রমাণের চেষ্টা করছি।’

এই পৃথিবীতে ডিয়েগোর অনুপস্থিতিতে লাভটা তৃতীয় পক্ষের, যারা তাঁর উত্তরাধিকার নয়। কিছু লোক আছে, যারা কিছু সন্দেহজনক চুক্তিপত্র সইয়ের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর পরও লাভবান হচ্ছে, এমনকি তাঁর ওপর ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে।ফের্নান্দো বার্লান্দো, ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার পক্ষের আইনজীবী

বার্লান্দোর দাবি, পরিকল্পনা করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে মেরে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসাজনিত অবহেলা তাঁর মৃত্যুর কারণ নয়, ‘আমি একমত, কোনো সন্দেহ নেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা আর্জেন্টাইন অভিনেত্রী ও সঞ্চালক মিরথা লেগ্রান্দ আইনজীবী বার্লান্দোর কাছে জানতে চান, ম্যারাডোনাকে মৃত্যুমুখে পতিত করা হয়েছে, নাকি হত্যা করা হয়েছে?’ বার্লান্দোর উত্তর, ‘ম্যারাডোনার মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা আটজন ইচ্ছাপ্রসূত হত্যার দায়ে জড়িত। কেউ যখন সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, এ ক্ষেত্রে যেটা মৃত্যু এবং তাদের আচরণে মনে হয় কিছুই হয়নি, তখন এটা হত্যা।’

ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ানিন্নার পক্ষের আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • কুড়িগ্রামে দিনে গরম, রাতে শীত
  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রিয়ালের এক ঝাঁক তারকা
  • ম‍্যানিপুলেটরদের সঙ্গ কেন ক্ষতিকর, কীভাবে চিনবেন
  • কুষ্টিয়ায় সমন্বয়ক পরিচয়ে ওসিকে বদলির হুমকি
  • মোদি ভাল বন্ধু, তবে... সঠিক আচরণ করছে না: ট্রাম্প
  • ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে