আজহারীর মাহফিল, ট্রেনের ছাদে গাদাগাদি করে লালমনিরহাট যাচ্ছে মানুষ
Published: 18th, January 2025 GMT
দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। এ জেলায় বর্তমানের আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মাহফিলে যোগ দিতে ট্রেন বোঝাই হয়ে মানুষ লালমনিরহাট যাচ্ছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রেলস্টেশনে সান্তাহার থেকে লালমনিরহাটগামী ট্রেনের ছাদে গাদাগাদি করে মানুষকে মাহফিলের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন এসব মানুষ ।
পীরগাছা কান্দি এলাকা থেকে আসা ট্রেনের ছাদে চড়ে যাচ্ছিলেন একরামুল, মাজেদুল, জিল্লুর রহমান। নামের তিন যুবকের সাথে কথা হলে তারা জানান, ফেসবুক ইউটিউবে মাওলানা আজহারী হুজুরের বক্তব্য শুনে খুব ভালো লাগে। আজ তিনি উত্তরবঙ্গের পাশের জেলা লালমনিরহাটে আসছেন, তাই ভিড় ঠেলে ট্রেনের ছাদে করে তারা সেখানে যাচ্ছেন।
আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, পাশাপাশি তিনটি মাঠে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতে পারে।
মাহফিলের একদিন আগেই লালমনিরহাটের তিনটি মাঠে তৈরি করা প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। এতে স্থান সংকুলান করতে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজ ভোর থেকেই মানুষের ঢল শুরু হওয়ায় আশপাশের এলাকাগুলোতেও ভিড় বেড়েছে।
মাহফিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাঠে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
আয়োজক কমিটির জামায়াতে ইসলামীর লালমনিরহাট জেলা আমির ফিরোজ হায়দার লাভলু বলেন, “মানুষের উপস্থিতি আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। মাহফিলকে ঘিরে মানুষের এই আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। আমরা আশা করছি, মাওলানা আজহারীর বয়ান মানুষের হৃদয়ে স্পর্শ করবে এবং ধর্মীয় অনুপ্রেরণা যোগাবে।”
আজ দুপুর ২টায় শুরু হবে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিল। এ উপলক্ষে লালমনিরহাটে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
ঢাকা/আমিরুল/টিপু
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
দেশে বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যু
বছরে দেড় লাখের বেশি শিশুর মৃত্যুতে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ গুরুতর চ্যালেঞ্জে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইউনাইটেড নেশন্স ইন্টার-এজেন্সি গ্রুপ ফর চাইল্ড মরটালিটি এস্টিমেশনের ২০২৪ সালের দুটি প্রতিবেদনের একটিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ১ লাখের বেশি শিশু তাদের পঞ্চম জন্মদিন পূর্ণ করার আগে মারা গেছে। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছে আবার বয়স ২৮ দিনের মধ্যে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনে ওই বছর ৬৩ হাজারের বেশি মৃত শিশু প্রসবের তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদন দুটির হিসাবে প্রতি ৪১ শিশু জন্মের ক্ষেত্রে একটি মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও বলেছে, ১৯৯০ সাল থেকে মা ও শিশু স্বাস্থ্যে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। তবে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত যত্নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মা ও শিশুর প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার তাগিদ দিয়েছে তারা। এসডিজির লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশকে প্রতিবছর বাড়তি ২৮ হাজার নবজাতককে বাঁচাতে হবে। এ জন্য প্রসূতি ও নবজাতকের উন্নত যত্ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ সেবাদাতার উপস্থিতিতে প্রসব, গর্ভধারণ, প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর সেবার মান উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থা দুটি।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের ওআইসি রিপ্রেজেন্টেটিভস ফারুক আদ্রিয়ান দুমুন বলেন, ‘অপরিণত জন্ম, সেপসিস ও নিউমোনিয়া সংক্রমণের মতো প্রসব জটিলতায় বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখের বেশি নবজাতক মারা যায়। অথচ এসব জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, সব পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বিশেষ করে ধাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও সঠিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা গেলে লাখ লাখ শিশু ও মাকে বাঁচানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ইউনিসেফ প্রসূতি ও শিশুর মৃত্যুরোধে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাংলাদেশে ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, বিগত দশকগুলোতে প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। শিশু মৃত্যু ও মৃত শিশুর জন্ম প্রতিরোধে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।