দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনেক ধরনের সহায়তা প্যাকেজ আসছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত পুঁজিবাজারের জন্য কোনো সহায়তা প্যাকেজ আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ সময় সিএমজেএফ সভাপতি ও সারাবাংলা ডটনেটের বিশেষ প্রতিনিধি গোলাম সামদানী ভূইয়া এবং সিএমজেএফ সেক্রেটারি ও আমাদের সময়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক আবু আলীসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মমিনুল ইসলাম বলেন, “বহুজাতিক সংস্থাগুলো, যেমন: আইএমএফ, এডিবির সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি, যাতে তাদের কাছ থেকে আমরা সাপোর্ট পেতে পারি। এতে আমাদের সংস্কার কাজগুলো একটু ত্বরান্বিত হবে। আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য অনেক ধরনের সহায়তা প্যাকেজ আসছে। এখন পর্যন্ত ক্যাপিটাল মার্কেটের জন্য কোনো সহায়তা প্যাকেজ আসেনি। আমরা সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জোড়ালোভাবে তুলে ধরতে চাই। আমাদের সহযোগী যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে, তারা যেন পুঁজিবাজারের দিকে একটু নজর দেন, যাতে আমাদের রিফর্মের কাজগুলো একটু সহজ হয় এবং আমরা যাতে আরো সক্ষম হতে পারি।”

ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, “শেয়ারবাজারকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিয়ে যেতে কাজ করা হচ্ছে। তবে, আমাদের শেয়ারবাজারের সমস্যা অনেক গভীরে। তাই, সমাধানে সময় লাগবে। আমাদের শেয়ারবাজার অনেক সংকুচিত। গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার অনেক পিছিয়েছে। একই সময়ে অন্য দেশগুলোর শেয়ারবাজার এগিয়েছে। এ অবস্থায় বর্তমান সময়ে দেশের সব স্টেকহোল্ডার বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে এগিয়ে নিতে ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। আমার এরইমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কাজের ফল পেতে একটু সময় লাগবে। অনেকটা একটি ভবনের ভিত্তি নির্মাণ যেমন বাহিরে থেকে দেখা যায় না, সেরকম। তবে, ভবনের ওপরের নির্মাণকাজটা সবাই দেখতে পায়। কিন্তু, আসল কাজটা করা হয় ওই ভিত্তি নির্মাণের সময়।”

তিনি বলেন, “সবকিছুই বিফলে যাবে, যদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে না পারি। এজন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চারটি কাজকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত কিছু ভালো কোম্পানি নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যার সমাধান, ট্যাক্স সুবিধা দেওয়া ও ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধ করার চেষ্টা করছি। এই ট্রেডিংয়ের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স।”

মমিনুল ইসলাম আরো বলেন, “বাংলাদেশে শেয়ারবাজারের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তা হয়নি। প্রত্যাশার লেভেল থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। স্টক এক্সচেঞ্জগুলোও অনেক সমস্যায় ছিল। এর মধ্যে অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থার অযাচিত হস্তক্ষেপ। এছাড়া, স্টক এক্সচেঞ্জে মানবসম্পদের অদক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সমস্যা আছে। আর ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইনেও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।”

ঢাকা/এনটি/রফিক

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র জন য সমস য

এছাড়াও পড়ুন:

রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কথা নেই: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কথা নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা রাজনীতিতে প্রবেশ করবে কি না তা সময় বলে দিবে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু নতুনদের নিয়ে গঠিত বলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে ব্যাপারটা এমন নয়। রাজনৈতিক দলের সমালোচনা থাকাটাই স্বাভাবিক। এ সময় দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কাছে শুধু চাইলেই হবে না। এক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এরইমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে এসির তাপমাত্রা পঁচিশে রাখতে বলা হয়েছে।

এম জি

সম্পর্কিত নিবন্ধ