Samakal:
2025-04-03@03:26:16 GMT

বলিউডে ‘খান’ কেন টার্গেট

Published: 18th, January 2025 GMT

বলিউডে ‘খান’ কেন টার্গেট

ভারতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে এখন আলোচনার প্রধান একটি বিষয় হয়ে উঠেছে বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা। বুধবার মধ্যরাতে সাইফের মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাড়িতে দুর্বৃত্তের আগমন এবং আচমকা অভিনেতাকে হামলা করার বিষয়টি নানা প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসছে।

আক্রমণে প্রাণে বেঁচে গেলেও এখন পর্যন্ত মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছেন সাইফ। এরই মধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শরীর থেকে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে ধারালো অস্ত্রের অংশবিশেষ। কে এবং কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে– সে প্রশ্ন নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

অন্যদিকে এমন অতর্কিত হামলার শিকার হওয়া নিয়ে যেমন উঠছে নিন্দার ঝড়, তেমনই প্রশ্ন উঠছে তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষ করে সাইফের সূত্র ধরে পুলিশ প্রশাসন বলিউড খানদের ওপর আক্রমণের বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে এনেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, সাইফ আলি খানের ওপর অতর্কিত হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে আক্রমণকারীকে ধরে ফেলেছে মুম্বাই পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর তদন্ত করতে গিয়ে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা চমকে দিয়েছে সবাইকে। তদন্তকারীদের বরাত থেকে জানা গেছে,  শুধু সাইফ নন, দুর্বৃত্তের নিশানায় ছিল শাহরুখ খানের বাড়িও। সাইফের বাড়িতে হামলা করার দু’দিন আগেই নাকি বান্দ্রায় বলিউড বাদশাহ শাহরুখের বাড়ি মান্নাতেও হানা দিয়েছে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি। বাড়ির অন্দরে প্রবেশ না করলেও বাইরে থেকে চারপাশ দেখে এসেছিল সেই ব্যক্তি।

মনে করা হচ্ছে, সাইফের দুষ্কৃতই মান্নাতের চারপাশ রেকি করতে পৌঁছেছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শাহরুখের বাড়িতেও মুম্বাই পুলিশের একটি দল গেছে। জানা যাচ্ছে, ঘটনার দু’দিন আগেই মান্নাতের সামনে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। সে ৬ থেকে ৮ ফুটের একটি লোহার মই বেয়ে মান্নাতে প্রবেশ করার চেষ্টাও করে। তদন্তকারীদের কাছ থেকে পাওয়া এ তথ্য কতটা সঠিক, তা এখন সময়ই বলে দেবে। সাইফকাণ্ড ঘিরে যে বিষয় জনমনে সন্দেহ বাড়াচ্ছে, তা হলো আক্রমণকারীদের টার্গেট ‘খান’ তারকারা। কারণ, একটু পেছনের ঘটনাগুলোয় নজর দিলে এ সন্দেহ প্রকট হয়ে ওঠে। 

দেশ ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আমির খানের প্রশ্ন, বিনিময়ে পাওয়া মৃত্যুর হুমকি
ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকার গঠনের পর থেকে হিন্দুত্ববাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করে। গোঁড়া হিন্দু অনেকে নানা বিষয়ে মুসলমানদের হেনস্তা এবং তাদের সন্ত্রাসবাদী ও দেশদ্রোহী বলতেও দ্বিধা করেনি। এমনকি যে অভিনেতা কখনও ধর্মীয় কোনো বিষয়ে কোনো ধরেনর কটু কথা বলেননি, সেই আমির খানও রেহাই পাননি। সামাজিক অসংগতি নিয়ে নির্মিত টিভি সিরিজ ‘সত্যমেব জয়তে’র শুটিংয়ের সময় হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল আমির খানকে। সে কারণেই এ অভিনেতা তাই নিজের সুরক্ষার জন্য বুলেটপ্রুফ মার্সিডিজ কিনতে বাধ্য হয়েছিলেন। অভিমত প্রকাশ করেছিলেন, নিজ দেশে তিনি আর নিরাপদ নন। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা না পেলে দেশ ছাড়ার কথাও বলেছিলেন; যা নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও নানা ঘটনা ডামাডোলে সেই বিতর্ক কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। নিজ মন্তব্যের জেরে আমিরের শত্রু বনে গিয়েছিলেন যারা, তারা যে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন, এটি মনে করেন না আমির নিজেও।

সালমান খানের মাথার ওপর ঝুলছে মৃত্যুর খড়্গ
২৬ বছর আগে ‘হাম সাত সাত হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ে গিয়ে কৃষ্ণকায় হরিণ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল সালমান খানের বিরুদ্ধে; যা নিয়ে বহুবার আদালতে চক্কর কাটতে হয়েছে এ বলিউড সুপারস্টারকে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো– হরিণ শিকারকে কেন্দ্র করে এখনও প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আসছেন সালমান। এক রকম মৃত্যুর খড়্গ মাথার ওপর ঝুলিয়ে রেখেছে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের দল। তাদের দাবি, যে কৃষ্ণকায় হরিণকে তাদের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ সৃষ্টিকর্তার দূত হিসেবে গণ্য করেন, সেই হরিণ শিকার করার অপরাধ কোনোভাবেই ক্ষমা করবেন না। যদিও লরেন্স বিষ্ণোই এখন ভারতের জেলে, তার পরও তাঁর নেটওয়ার্কের পান্ডারা দেশের নানা প্রান্তে খুনখারাবি চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু এই অভিনেতা নন, একই সঙ্গে তাঁর বাবা তথা খ্যাতিমান লেখক ও চিত্রনাট্যকার সেলিম খানকেও হুমকি দিয়েছে বিষ্ণোই গ্যাং। এ ছাড়াও সালমানের বাসা বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে আততায়ীরা একবার কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল। এর পর তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়। বিশেষ করে বাবা সিদ্দিকের হত্যাকাণ্ডের পর বলিউড ভাইজানখ্যাত সালমানের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। তার পরও সালমান বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কাছে কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। 

বলিউড বাদশাহ শাহরুখও নিরাপদ নন
আমির, সালমানের মতো নিজ দেশে নিরাপদ নন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে একাধিকবার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন এ অভিনেতা। প্রথম হুমকি এসেছিল মাফিয়াদের কথা অনুযায়ী কাজ না করার জন্য। শাহরুখ সাহসিকতার সঙ্গে তাদের সব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও সেবার কোনো অঘটন ঘটেনি। কারণ, তখনও শাহরুখ বলিউড বাদশাহ হয়ে ওঠেননি। পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবে শাহরুখ যখন প্রথম সারিতে চলে আসেন, তখন আবার এই অভিনেতার দরজায় কড়া নাড়া শুরু করেছিল মাফিয়ারা। তাঁর কাছে ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমা থেকে আয় করা অর্থের কিছু অংশ দাবি করে বসেছিল। সেবার শাহরুখ নির্ভয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি কোনোভাবেই তাদের কোনো টাকাপয়সা দেবেন না। এতে তারা যদি আক্রমণ করতে চায়, করতে পারে– তিনি ভয় পান না। এমন জবাব পেয়ে মাফিয়ারা পিছিয়ে গিয়েছিল ঠিকই; রোষ যে এতটুকু কমেছে, তার কোনো আভাস পাওয়া যায়নি। কারণ, সেই ঘটনার পর আরও একবার গত বছরের নভেম্বরে ফোনে হুমকি পেয়েছেন শাহরুখ। ভারতীয় পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সেই ফোনটি এসেছিল ছত্তিশগড় থেকে। কিন্তু হুমকিদাতাকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারা যায়নি। কারণ, তার ফোন নম্বরের কাগজপত্র ছিল জাল। এও জানা যায়নি, হুমকিদাতা কোনো মাফিয়া সদস্য কিনা।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ন র পদ র ওপর তদন ত

এছাড়াও পড়ুন:

নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখছে মহেশ বাবুর কন্যা?

‘প্রিন্স অব টলিউড’খ্যাত অভিনেতা মহেশ বাবু। পর্দায় অসাধারণ অভিনয় এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব গুণের কারণে অসংখ্য ভক্ত তার। এই অভিনেতার কন্যা সিতারা তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ জনপ্রিয়।

মহেশ বাবু অভিনীত ‘সরকারু বারি পাতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়েছে। ২০২২ সালে মুক্তি পায় এটি। মুক্তির পর দারুণ প্রশংসা কুড়ায় সিতারা। কিছুদিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে, ১২ বছর বয়সি সিতারা নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখতে যাচ্ছে। অবশেষে এ গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন মহেশ বাবুর স্ত্রী নম্রতা শিরোদকর।

 

আরো পড়ুন:

বিয়ের পর অভিনয়কে বিদায়: নীরবতা ভাঙলেন মহেশ বাবুর শ্যালিকা

রাজামৌলির সিনেমার জন্য ১৬৪ কোটি টাকা ছাড়াও লভ্যাংশ নেবেন মহেশ!

 

কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে মায়ের সঙ্গে হাজির হয় সিতারা। সেখানে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখার গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় সিতারার কাছে। এ প্রশ্ন শুনে মায়ের দিকে তাকায় এই খুদে তারকা। এরপর নম্রতা শিরোদকর বলেন, “তার বয়স মাত্র ১২ বছর। এখনো অনেক সময় আছে। যদিও আমাদের পরিবার বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু সবাই সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।”

ফিল্মি পরিবারে জন্ম ও বেড়ে উঠছে সিতারা। তার দাদা কৃষ্ণা বিখ্যাত একজন অভিনেতা ছিলেন। সিতারার বাবা-মা দুজনেই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। এর আগে ড্রিম মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল সিতারা। সেই আলাপচারিতায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, পারিবারিক উত্তরাধিকার সফলভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখে সিতারা?

 

এই প্রশ্নের জবাবে সিতারা বলে, “এই উত্তরাধিকারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে। চমৎকার এই পরিবারের সদস্য হতে পেরে আনন্দিত। আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন আমি অভিনয় করতে চাই কিনা। এখন আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। মডেলিং এবং অভিনয় দুটোর বিষয়েই আমি আগ্রহী। কিন্তু আমার বয়স মাত্র ১২ বছর। সুতরাং আমি এখনো নিশ্চিত নই।”

একটি জুয়েলারি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছে সিতারা। এ বিজ্ঞাপনে মেয়েকে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন মহেশ বাবু। সেই স্মৃতিচারণ করে সিতারা বলে, “আমার মা খুব কঠোর মানুষ। তবে বাবা আমাকে ভীষণ আদর (প্রশ্রয় দেন) করেন। আমার মনে আছে, বাবা আমার পিএমজে-এর বিজ্ঞাপন প্রথম দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকে ফ্যাশন সেন্স পেয়েছি। আমি পাগল। কিন্তু মা তার পোশাক আমার জন্য রাখেন না। আমার মা ‘মিস ইন্ডিয়া’ বিজয়ী। তার দারুণ একটি মডেলিং ক্যারিয়ার ছিল। ‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় তার ছবি দেখে অভিভূত।”

 

জুয়েলারি ব্র্যান্ড পিএমজে-এর নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করা হয়েছে সিতারাকে। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ একটি গহনা লঞ্চ করে; যার নাম দেয় ‘সিতারা’। ২০২৩ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে লঞ্চ করা হয় বিজ্ঞাপনটি।

ব‌্যক্তিগত জীবনে নম্রতা শিরোদকরের সঙ্গে গাটছড়া বেঁধেছেন মহেশ বাবু। এ দম্পতির ঘর আলো করে এসেছে পুত্র গৌতম ও কন‌্যা সিতারা। ২০১২ সালে জন্ম হয় সিতারার। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও দারুণ পারদর্শী সিতারা।

 

সিতারা ও তার বড় ভাই গৌতম অভিনয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সিতারা হায়দরাবাদ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়, তার ভাই গৌতম নিউ ইয়র্কে ইউনিভার্সিটি থেকে নাটক বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন সিতারা।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিয়াসাত ডটকম

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত নিবন্ধ