Samakal:
2025-04-03@21:31:53 GMT

জীবন থেকে নেওয়া

Published: 17th, January 2025 GMT

জীবন থেকে নেওয়া

আমাদের সমাজে নারী ও শিশু নানা দিক থেকে ভুক্তভোগী। পরিবার থেকে শুরু করে অফিসে, রাস্তায়, বাসে, শপিংমলে, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। প্রাসঙ্গিক ঘটনার অবতারণা করছি। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি এক সকালে অফিসে আসার পথে এমনই এক ঘটনা দেখলাম। একজন মধ্যবয়সী নারী ও শিশু রিকশা করে জিগাতলা মুখে এগোচ্ছিলেন। আমি ছিলাম পেছনের রিকশায়। মোড়ে আসার পরপরই একজন ৩০-৩৫ বছরের লোক কিছু পাওয়ার আশায় তাঁর কাছে হাত পেতে দিল। তাতে ওই নারী কোনো ধরনের সাড়া না দিয়ে স্থির বসে রইলেন। তৎক্ষণাৎ সেই লোকটি ক্ষোভ দেখিয়ে রিকশার হুডে শক্ত হাতে ঝাঁকি দিল। পরক্ষণেই আমি রিকশা থেকে তাঁকে ধমক দিলে বিষয়টি সে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই নারীর পাশেই ছিল ৮ কি ৯ বছরের শিশু। ঘটনায় দু’জনই নির্বিকার দর্শক মাত্র!  

চারপাশে আমাদের চোখের সামনেই এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে, যদিও তা আমরা অতটা গুরুত্ব দিই না। এতেই বোঝা যায়, নারী ও শিশুর প্রতি আমাদের মজ্জাগত ধ্যান-ধারণা কতটা নির্মম ও নিষ্ঠুর। 
একই দিন আরেকটি ঘটনার সাক্ষী হলাম। লেগুনায় ফার্মগেট আসছিলাম। ২২ কি ২৩ বছরের এক তরুণী জিগাতলা থেকে ধানমন্ডি ২৭-এর আগে চক্ষু হাসপাতালের উদ্দেশে লেগুনায় উঠেছে। সহকারীর সঙ্গে কথাবার্তায় বোঝা গেল, মেয়েটি নির্ধারিত ভাড়ার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নয়। সহকারী ওই মেয়েকে সামনে গিয়ে ড্রাইভারকে ভাড়া দিতে বলেন। মেয়েটি লেগুনা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে চলে গেল। তৎক্ষণাৎ দেখলাম, চালক নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ রেখেছেন। এ ধরনের ঘটনা শুধু নারীর সঙ্গে ঘটে এমন নয়। বেশির ভাগ পরিস্থিতিতে বিশেষত নারী ও শিশুরা এর শিকার। 
শিশুর কথাই বলা যাক। মায়ের কোল ছাড়া শিশু কোথায় নিরাপদ? শিশু দুর্বল– এটি ভেবেই অনেকে তাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করেন। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, শিশুর প্রতি এ উপেক্ষিত আচরণ শুরু হয় পরিবারেই। এমনভাবে তাদের গড়ে তোলা হয়, যাতে তার স্বাধীন সত্তার অমর্যাদা করা হয়। তারা ছোট– এমন চিন্তা মাথায় রেখে বড়রা তাদের সঙ্গে আচরণ করেন। এ চিন্তায় ‘ছোট’ ধারণাটি যতটা স্নেহ ও ভালোবাসার, তার চেয়ে বেশি থাকে শিশুকে ‘এত গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই’ এমন মানসিকতা। 

আমাদের সমাজে নারী ও শিশু নিয়ে বিদ্যমান প্রভাবশালী ডিসকোর্স উভয়কে দমিয়ে রাখতে চায়। মূলত নারীকে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতায়িত করতে হলে দরকার একটি মধ্যপন্থি ডিসকোর্স। এই বয়ানে একদিকে যেমন দেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও আদব-কায়দার প্রতিফলন থাকবে, আবার তা বিশেষ কোনো দৃষ্টিভঙ্গির কারণে চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকবে না। নারীর ব্যাপারে এ ধরনের মধ্যপন্থি বয়ানের জন্য এ সমাজের মাটি থেকেই আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বলয় তৈরি করতে হবে। বেগম রোকেয়ার চিন্তাভাবনায় অনেকটুকু সেই প্রভাব রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্য চিন্তা ও সংস্কৃতির যথাযথ বিচারের মধ্য দিয়ে আমরা ‘নারীবাদ’ ডিসকোর্স গড়ে তুলতে পারিনি। বরং নির্বিচারে নারীবাদের পাশ্চাত্য ডিসকোর্স গ্রহণ করতে গিয়ে আরও জটিলতা বেড়েছে। 

নারী ও পুরুষ উভয়ে সমাজের চালিকাশক্তি– অনেকটা রেললাইনের মতো। কোনো একটি পাশে ত্রুটি থাকলে রেলের চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেলে অর্থনীতি, রাজনীতিসহ বহুমুখী পুনর্গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। সে জন্য প্রথমে আমাদের মনের পুনর্গঠন দরকার। সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতনের যেসব মর্মান্তিক খবর আমরা দেখি, তার মূলে আছে তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তাদের দেখলে সমাজে পরিবর্তন আসবে না।  

ইফতেখারুল ইসলাম: সহসম্পাদক, সমকাল
Iftekarulbd@gmail.

com

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ধরন র

এছাড়াও পড়ুন:

শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে আপনি মনে কষ্ট রাখবেন না: নিশো

ঘটনাটি দুই বছর আগের।  আফরান নিশোর অভিষিক্ত সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’মুক্তি পাওয়ার সময়।  সে সময় সিনেমার প্রচারণায় বিভিন্ন সময়ে শাকিব খানকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন আফরান নিশো। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে একেবারে চুপচাপ থেকেছেন সাকিব খান। যা বলার ভক্তরাই যেনো বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিশো সম্ভবত মানসিক অশান্তিতেই ছিলেন বিষয়টি নিয়ে। তাই দুই বছর হলেও বিষয়টি ক্লিয়ার করলেন। কৌশলী হয়ে এক প্রকার ভুলও স্বীকার কলে নিলেন!

সম্প্রতি এক স্বাক্ষাৎকারে সে সময়ের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন আফরান নিশো। অভিনেতা বলেন ‘সে সময়ে যেটা ঘটেছিল, এটা একটা ভুল-বোঝাবুঝি। এইটা খুবই অনাঙ্খিত। আমি শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে আপনি মনে কষ্ট রাখবেন না’ 

এটা কোনো ক্ল্যারিফিকেশন দিচ্ছি না, আমি খুব স্পষ্ট এবং দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই এইটা ভুল বোঝাবুঝি। কোনো একজন মানুষকে কেন্দ্র করে কটূক্তি করা কখনোই ইনটেনশন ছিল না। সেটা এখনও নেই, সামনেও থাকবে না। অনেক সময় প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছুই কথাতে চলে আসে। সেই কথার রেশ ধরে কেউ হয়তো চাইল যে ঝগড়াটা একটু বাড়িয়ে দিই বা একটু কমিয়ে দিই। আমার জায়গা থেকে কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। কখনও আমি দেখাইও না।’

এরপর শাকিব খানের কথা টেনে আফরান নিশো বলেন, “যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে সে আমার অগ্রজ। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সিনিয়র। তাকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি।
আমার যখন ‘সুড়ঙ্গ’ রিলিজ হয় তখনো তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়ে অনেক কথা বলেছি। একজন মানুষ যার এত দীর্ঘ ক্যারিয়ার, এত কিছু দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিকে, বিনিময়ে সে সম্মানটুকু ডিজার্ভ করেন। 

নিশো আরও করেন, এর বিনিময়ে তিনি সম্মান ছাড়া আর কিছু চান না। আমার তরফ থেকে তিনি সম্মানের তুঙ্গেই থাকবেন সব সময়। তার পরও যদি এই বিষয়টা তিনি (শাকিব খান) মনে নিয়ে থাকেন তাহলে বলব, আপনি এটা একদমই মনে রাখবেন না। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এটা একদমই ভুল-বোঝাবুঝি।

সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষে এসে প্রশ্ন করা হয়  শাকিব খান এবং আফরান নিশো দুই অভিনেতা একসঙ্গে সিনেমাতে পাওয়া যাবে কি না? উত্তেরে নিশো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। এ রকম কিছু এলে আমি বরং খুশিই হবো।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের দলের ৪ সিনেটর
  • ঈদ আসলেই মনে পড়ে ঈদ কার্ডের কথা
  • কুড়িগ্রামে দিনে গরম, রাতে শীত
  • শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে মনে কষ্ট রাখবেন না: নিশো
  • শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে আপনি মনে কষ্ট রাখবেন না: নিশো
  • চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রিয়ালের এক ঝাঁক তারকা
  • ম‍্যানিপুলেটরদের সঙ্গ কেন ক্ষতিকর, কীভাবে চিনবেন
  • কুষ্টিয়ায় সমন্বয়ক পরিচয়ে ওসিকে বদলির হুমকি
  • মোদি ভাল বন্ধু, তবে... সঠিক আচরণ করছে না: ট্রাম্প
  • ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে