Samakal:
2025-04-03@03:43:02 GMT

যে পথ দিয়ে যেতে হয় নাক চেপে

Published: 17th, January 2025 GMT

যে পথ দিয়ে যেতে হয় নাক চেপে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে খলসি এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য মোড়, নদীনালাগুলোতে আবর্জনার স্তূপ পড়েছে। উৎকট দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ায় গন্ধে নাকাল পথচারীসহ পৌরবাসী। বেড়েছে মশামাছির উপদ্রব।
জানা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে দিনের পর দিন পৌরসভা থেকে এসব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় রাস্তাসহ ডোবানালায়। এতে ভরাট হচ্ছে করতোয়া নদী। রাস্তায় নাক কাপড় দিয়ে ঢেকে চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থী ও পথচারীদের। দুর্গন্ধে অনেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সম্প্রতি রাস্তায় পৌরসভার গাড়ি করে ময়লা ফেলার সময় ছবি তোলার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় তড়িঘড়ি করে ময়লাসহ গাড়ি ফেরত যায়। পরদিন আবারও সেখানে ময়লা ফেলা হয়। 
ছামিউল আলম নামে স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মাঝেমধ্যে ময়লার ভাগাড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পোড়া পলিথিনের দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়ে। এতে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। পৌরবাসী নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিগগিরই ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে পৌরবাসী। 
পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে স্বাভাবিক নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না। নাক বন্ধ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে হয়। পৌরসভায় বারবার অভিযোগ করেও 
সমাধান মেলেনি। 
১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহিনুর ইসলাম বলেন, করতোয়া নদীর ধারে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা ফেলা হচ্ছে। সরু নালায় পরিণত এ নদী যেন ময়লার ভাগাড়। নদী ভরাটের পাশাপাশি আবর্জনার দুর্গন্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য। সেখানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা আবর্জনার সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, আবর্জনা ফেলার জন্য পৌরসভার নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নেই। আবর্জনাগুলো কোথাও না কোথাও ফেলতে হবে। ময়লা অন্য কোথাও ফেলা যায় কিনা সে চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, পৌরসভার ময়লার জন্য বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। আপাতত একটি সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ আছে। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।
 

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: প রসভ র

এছাড়াও পড়ুন:

শরীয়তপুরের এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে গড়ে তোলা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সেখানে প্রশিক্ষিত একজন স্বাস্থ্যকর্মী থাকেন। অ্যান্টিবায়োটিক ও জটিল রোগের ওষুধ ছাড়া প্রায় সব ধরনের ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে রোগীদের বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়। এখন শরীয়তপুরের এমন স্বাস্থ্যকর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না ৯ মাস ধরে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোও বন্ধ থাকছে। রোগীরা এসেও ফিরে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি আসলে কোনোভাবেই কাম্য নয়। 

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বেতন না পেয়ে অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন শরীয়তপুরের ১৪৩ জন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কর্মী (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার)। ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা গত বছরের জুলাই থেকে বেতন পাচ্ছেন না। ৯ মাস ধরে বেতন না পেয়ে এসব স্বাস্থ্যকর্মী পরিবার নিয়ে অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে বেতন বন্ধ থাকলে এমন করুণ পরিস্থিতি হওয়াই স্বাভাবিক।

প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে। ২০০৯ সালের পর শরীয়তপুরে ওই ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ছাড়াও জেলার ৬৫টি ইউনিয়নের দুটি করে ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়। অ্যান্টিবায়োটিক ও জটিল রোগের ওষুধ ছাড়া প্রায় সব ধরনের ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে রোগীদের বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় অনেক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত কমিউনিটি ক্লিনিকে যান না। প্রথম আলোর প্রতিবেদক ১০ দিনে কয়েকটি উপজেলার ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে অন্তত ৮টি বন্ধ পেয়েছেন। ওই ক্লিনিকগুলোতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাওয়া যায়নি। অনেকে দিনের যেকোনো সময় খুলে দু-এক ঘণ্টা অবস্থান করে বন্ধ করে চলে যান। এরপর চিকিৎসা নিতে আসা লোকজন চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যান।

সাধারণত দরিদ্র মানুষেরাই কমিউনিটি ক্লিনিকে আসেন। ফলে এসব ক্লিনিক যখন বন্ধ থাকে, তাতে বঞ্চিত হন এসব মানুষই। যেমন নারায়ণপুর ইউনিয়নের পুটিয়া এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকটি বন্ধ পেয়ে একজন অসুস্থ নারী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। অসুস্থ হলে এখানে ছুটে আসি। কখনো খোলা পাই, আবার কখনো বন্ধ থাকে। তখন ওষুধ না নিয়েই ফিরে যেতে হয়।’

সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন দেওয়া হতো। এখন ওই প্রকল্পের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’ আশা করি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়মিত হবেন, সেটিই কাম্য।

সম্পর্কিত নিবন্ধ