বিএনপিকে ‘তালগাছ’ দেখালেন চরমোনাইর পীর
Published: 17th, January 2025 GMT
বিএনপির দ্রুত নির্বাচনের দাবিকে ভালো চোখে দেখছেন না ইসলামী আন্দোলনের আমির, চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির বিরোধিতা করার কারণেও বিএনপির সমালোচনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের যুব সংগঠন ‘ইসলামী যুব আন্দোলনের’ কনভেনশনে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে রেজাউল করিম বলেন, “আপনারা মনে করেন আপনারা অনেক তালগাছ হয়ে গেছেন। আসলে আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নাই।”
যুব আন্দোলনের সভাপতি নেছার উদ্দিনের সভাপতিত্বে কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি রেজাউল।
আরো পড়ুন:
‘নির্বাচন ছাড়া দেশ স্থিতিশীলতা আসবে না’
তরুণ প্রজন্মকে পড়ালেখায় বেশি গুরুত্ব দিতে হবে: মির্জা ফখরুল
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন ও যুব আন্দোলনের নেতারা ছাড়াও হিন্দু মহাজোটের সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু বক্তব্য দেন।
রেজাউল করিম বলেন, “গত ৫৩ বছর যারা দেশ চালিয়েছে। তাদের মানুষকে নতুন করে উপহার দেওয়ার মত কিছু নাই, নতুন কোনো কথা নাই। গ্রামে একটা কথা আছে গোদা পা দিয়ে লাথি মারলে শক্তি থাকে না। এটা আমাদের জানা হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “আপনারা দেশ ৫৩ বছর পরিচালনা করেছেন, তাতে আমাদের কী দিয়েছেন? নতুনভাবে ওই পা দিয়া ভয় দেখাইয়া আর লাভ নেই।”
বিএনপির উদ্দেশ্যে মুফতি রেজাউল বলেন, “যারা নাকি নির্বাচন করতে অস্থির হয়ে গেছেন। পিআর নির্বাচন (সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি) পছন্দ করছেন না। আমি বলব মানুষ সজাগ হয়েছে। জরিপ করে দেখেন। আপনাদের পায়ের নিচে মাটি সরে গেছে। এখন বাংলাদেশে এই চাঁদাবাজদের, এই দখলকারী, খুনিদের বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায় না। পরিবর্তন করতে হবে।”
বিএনপি আওয়ামী লীগকেও নির্বাচনে চায়–এমন ইঙ্গিত করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, “যারা হাজার মায়ের কোল খালি করেছে, তাদেরকে আবার নির্বাচনের জন্য আহ্বান করছেন, আপনারা কী ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এখনো মায়ের কান্না শেষ হয়নি। আর আপনারা তাদের নির্বাচনে আহ্বান করবেন। তাদের নিয়ে এসে ক্ষমতা দখল করবেন। এই ধোঁকাবাজি জনগণ বুঝে গেছে। ভারতের আচরণে আমরা বন্ধুত্ব পাইনি। আর আপনারা তাদের দোসরদের খুশি করবেন।”
মুফতি রেজাউল বলেন, “পিআর সিস্টেমের নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে জাতীয় সরকার গঠন হবে। এটা আপনারা (বিএনপি) কেন চাচ্ছেন না। আবার আপনারা এককভাবে ক্ষমতায় গিয়ে আমাদের ওপর স্টিম রোলার চাপিয়ে দেবেন–সেটা হবে না। মায়ের কোল খালি করার রাজনীতি মানুষ আর দেখতে চায় না। দেশের টাকা পাচার করবেন, বিদেশে বেগম পাড়া তৈরি করবেন- এটা বাংলার মানুষ আর দেখতে চায় না। এই পরিবর্তন আমাদেরই করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে আমরা আবার রক্ত দেব।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে মুফতি রেজাউল বলেন, “আমাদের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়। আপনারা গণঅভ্যুত্থান, ছাত্র-জনতা, হাজারো মায়ের কোল খালি করার বিনিময়ে আপনারা ক্ষমতায় বসেছেন। কিন্তু আপনাদের কাজকর্মগুলো অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ। এসব দেখে আমাদের দুঃখ হয়।”
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেন মুফতি রেজাউল। তিনি বলেন, “পিআর সিস্টেমে নির্বাচন হতে হবে। প্রত্যেকটা ভোটারের ভোটের অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশে জাতীয় সরকার হবে। এজন্য লাগলে আন্দোলন করব, সংগ্রাম করব।”
সমাবেশে অংশ নেওয়া যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সামনে জাতীয় নির্বাচন আসবে। এই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে যুবকদের। সেন্টারভিত্তিক দাওয়াতের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৪জনকে তৈরি করতে পারলে সেদিন বেশি দেরি নয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের নীতি আদর্শ বাস্তবায়িত হবে। এখন পরিবর্তনের সময়। গত ৫৩ বছরে এত সুন্দর ইসলামের পক্ষের পরিবেশ আর তৈরি হয়নি।”
ঢাকা/হাসান/এসবি
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব এনপ করব ন আপন র সরক র ইসল ম ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন, যাকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।
বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তান ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে।
নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা।
ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়।
এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন ট্রাম্প। নতুন শুল্ক আরোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে।
ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
পাল্টা এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’।
যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য।
মার্কিন কোম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।
শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে।
অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে।
বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেছেন তিনি।