অভিষেকটা রাঙাতে পারলেন না ‘শোয়েব মালিকের ভাতিজা’ হুরাইরা
Published: 17th, January 2025 GMT
সাইম আইয়ুব ইনজুরিতে। অন্যদিকে অভিজ্ঞ আব্দুল্লাহ শফিক বেশ কিছুদিন ধরেই আছেন রান খরায়। তাই মুলতানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম টেস্টের জন্য একদিন আগে ঘোষিত দলে রাখা হয়েছিল আবু হুরাইরা নামের ২২ বছর বয়সী এক ওপেনারকে। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে দেশটির ইতিহাসের সর্বোকনিষ্ঠ ট্রিপল সেঞ্চুরিয়ান এই ব্যাটসম্যানের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি তারকা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকের ভাতিজা! তবে পাকিস্তানের হয়ে অভিষক ইনিংসটা হয়ত ভুলে যেতে চাইবেন হুরাইরা।
আজ শুক্রুবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৫)টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। তবে ক্যারেবিয়ান পেসার জেইডন সিলসের তোপে উড়ে যায় স্বাগতিকদের টপ অর্ডার। এই পেসারের বলেই ১৫ বলে ৬ রান করে, উইকেটের পেছনে টেভিন ইমলাচের ক্যাচে পরিণত হন হুরাইরা।
ঘরোয়া ক্রিকেট এবং বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান হুরাইরার অন্তর্ভুক্তি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল শোয়েব মালিকের কারণে। ক্রিকেটপ্রেমীরা মূলত দেখতে চাচ্ছিলেন ডানহাতি এই ওপেনার তার চাচার মত পারফরম্যান্স করতে সক্ষম কি না। শোয়েব মালিক পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১৮৬৭ রান করার পাশাপাশি বল হাতে তুলে নিয়েছিলেন ২১৮টি উইকেট। যদিও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হবার বহু আগেই বোলিং করা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার।
আরো পড়ুন:
বিশাল স্বর্ণের খনির সন্ধান পেয়েছে পাকিস্তান, ঘটনা কী সত্য?
বাংলাদেশ সফরে আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অন্যদিকে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৪ ম্যাচে প্রায় ৫০ গড়ে ৩৪২৭ রান করা তরুণ হুরাইরা সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত, নাকি আরও সময় লাগবে, সে ব্যাপারটা পরখ করতে চাইবেন সমর্থকরা। এ যাত্রায় দর্শকরা নিরাশ হয়েছেন। যদিও হুরাইরা দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার আরেকটা সুযোগ তিনি পাবেন।
পাকিস্তান এই ম্যাচটা কেবল একজন পেসার (খুররাম শাহজাদ) নিয়ে খেলছে। একাদশে নেই দুই গতিতারকা শাহীন শাহ আফ্রিদি কিংবা নাসিম শাহ। তবে সাজিদ খান, নোমান আলী ও আবরার আহমেদের মত ৩ জন বিশেষজ্ঞ স্পিনার আছেন দলে। সাথে পার্ট টাইমার হিসেবে আছেন সাউদ শাকিল এবং সালমান আলী আগা।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাকিস্তানের সংগ্রহ ৪০ ওভার শেষ ৪ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৬ রান। শাকিল ৫৫ রানে এবং রিজওয়ান ৪৫ রানে অপারাজিত আছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সিলস নিয়েছেন ৩ উইকেট। অন্য উইকেটটা তুলেছেন বাঁহাতি স্পিনার গুদাকেশ মোতি।
ঢাকা/নাভিদ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অবিচল
পাঠ্যপুস্তকে তাঁর জীবনী নেই। অথচ কোথায় ছিলেন না তিনি! ১৯৪৩ সালে অবিভক্ত বাংলার দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের পাশে ছিলেন। ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়ে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মানবিক ও সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিয়েছিলেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে গিয়ে অভয় দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৯ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-বিধ্বস্ত পূর্ব পাকিস্তান, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলের সংখ্যালঘু ও উদ্বাস্তুদের আশ্বস্ত করতে এবং তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে ঐতিহাসিক ‘নেহরু-লিয়াকত’ চুক্তি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ষাটের দশকে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক থাকাকালে রেড ক্রসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি তাঁর মামা অবিভক্ত বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের সঙ্গে ১৪৪ ধারা ভেঙেছিলেন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি ও তাঁর মামা দু’জনেই আটক হয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিধান-সংবলিত শাসনতন্ত্র প্রণয়নে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে সাহায্য করেছিলেন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের বাধা মোকাবিলা করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ১৯৬৬ সালে স্বাধিকার আন্দোলনে ছয় দফার চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৬৭ সালে ছয় দফা আন্দোলন তুঙ্গে থাকাকালে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় অংশ নিয়েছিলেন এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। মূলত মওলানা ভাসানী ও তাঁর কারণেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্তরা নিঃশর্ত মুক্তি পেয়েছিলেন।
আত্মমর্যাদাশীল বাঙালি জাতির প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৬৯ সালের গোলটেবিল সম্মেলনে তিনি ‘এক মানুষ, এক ভোট’ নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিলেন। এই নীতিতে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানবাসীর সংখ্যাগরিষ্ঠতার যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৯টি আসন আদায় করেছিলেন। এভাবেই তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ীদের জাতীয় সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করেছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠীর পরাজয় নিশ্চিত করেছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের অবৈধ সামরিক সরকারকে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অবৈধ পাঞ্জাবি শাসক চক্রের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। সাংবিধানিক ব্যত্যয়ে তৎকালীন হাইকোর্ট বারকে নিয়ে তিনি যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, তা এত চরমে পৌঁছে যে, ১৯৭১ সালের মার্চে জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করাতে কোনো বিচারকই রাজি হননি। মুক্তিযুদ্ধের পরও তিনি থেমে যাননি। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হননি। মুক্তিযুদ্ধের আগেও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণের দাবি তুলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পরেও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণের দাবি জানিয়েছিলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সার্ক গঠনের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৯৭৯ সালের ৩ এপ্রিল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হকের যোগ্যতম উত্তরাধিকারী হিসেবে বেঁচে ছিলেন।
হাসনাত আরিয়ান খান: লেখক ও গবেষক