গুচ্ছে থাকছে না হাবিপ্রবি, স্বতন্ত্র পরীক্ষার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি
Published: 16th, January 2025 GMT
গুচ্ছ পদ্ধতিতে স্নাতক প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির আলোচনা সভায় গুচ্ছে না থাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তসহ ভর্তির তারিখ, আবেদনের যোগ্যতা এবং ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো.
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য গত সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ৬৮ তম একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থিত সদস্যবৃন্দ আলোচনা করেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে গুচ্ছতে না থাকার এবং স্বতন্ত্রভাবে নিজস্ব তত্বাবধানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরপর গুচ্ছভুক্ত ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক ধাপ আলোচনা সভার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। এ সভা শেষে চূড়ান্তভাবে গুচ্ছ থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাবিপ্রবি।
জনসংযোগ ও প্রকাশনা শাখার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাবিপ্রবি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের লেভেল-১ সেমিস্টার-১ এ চারটি ইউনিটের অধীনে আটটি অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, আগামী ২১, ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি পরবর্তীতে হাবিপ্রবি ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের মাধ্যমে জানানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড মো.আবুল কালাম বলেন, “আমরা আগে থেকেই ভাবছিলাম গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাব। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কয়েক ধাপ সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বের হয়ে এসেছে। এখন থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় একটা উৎসবের সৃষ্টি হবে।”
হাবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর কবির বলেন, “আমরা ৬৮তম একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থিত সবার মতামতের প্রতি সম্মান রেখে ভালো-খারাপ সব দিক বিবেচনায় গুচ্ছে না থেকে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষার কথা উল্লেখ রয়েছে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা গুচ্ছে মত দিয়েছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এখানে ঝামেলাপূর্ণ কিছু বিষয় রয়ে গেছে। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বেশিরভাগ শিক্ষক, কর্মকর্তারা চাচ্ছেন গুচ্ছ থেকে বের হয়ে আসতে। শিক্ষার্থীদেরও একটা প্রত্যাশা ছিল, যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। তাই আমরা এককভাবে ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ঢাকা/সংগ্রাম/মেহেদী
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর স বতন ত র পর ক ষ
এছাড়াও পড়ুন:
রোজা শুরুর আগেই লেবু শসা ও বেগুনে উত্তাপ
অন্য বছরের তুলনায় এবার রোজার আগে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বলা চলে এক প্রকার স্বাভাবিক। তবে কয়েকটি পণ্যে রোজার আঁচ লেগেছে। বিশেষ করে এ তালিকায় রয়েছে লেবু, বেগুন, শসাসহ ইফতারিতে ব্যবহার হয় এমন পণ্য। চাহিদা বাড়ার সুযোগে পণ্যগুলোর দর কিছুটা বেড়েছে।
শুক্রবার ছুটির দিনে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার চাঁদ দেখা গেলে রোববার থেকে শুরু হবে পবিত্র মাহে রমজান। এর আগে সবাই অগ্রিম বাজার করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এর কিছুটা প্রভাবও পড়েছে বাজারে।
খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়। ফলে প্রায় এক মাস ধরে দর বাড়তি। এ ছাড়া বেগুন, শসাসহ যেগুলোর দাম বেড়েছে তার মূল কারণ ক্রেতাদের বেশি পরিমাণে কেনা। রোজার আগমুহূর্তে প্রতিবছরই এসব পণ্যের দর বাড়ে। তবে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে সামনের দিনগুলোতে দর বাড়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন তারা।
শরবত তৈরির অন্যতম উপাদান লেবু। রমজানে ইফতারে কমবেশি সবাই শরবত খাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ সুযোগে বাড়তি দাম নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে প্রতি হালি শরবতি বা সুগন্ধি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং আকারভেদে অন্য লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। মাসখানেক আগে অন্তত ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে কেনা গেছে লেবুর হালি। তবে এখনও বাড়লেও গত বছরের এ সময়ের তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে দাম।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি লেবু ব্যবসায়ী জালাল আহমেদ সমকালকে বলেন, লেবুর উৎপাদন কম। কারণ, এখন লেবুর মৌসুম নয়। তাছাড়া অনেক দিন ধরে বৃষ্টিপাত নেই। এ জন্য ফলন ভালো হচ্ছে না। সেজন্য বাজারে লেবু কম আসছে। কিন্তু রোজার কারণে মানুষ আগেভাগে লেবু কিনছেন। মূলত এ জন্য দর বাড়তি।
বাজারে এখন ভরপুর শসা রয়েছে। হাইব্রিড ও দেশি শসার পাশাপাশি ছোট আকারের খিরাও পাওয়া যাচ্ছে। হাইব্রিড শসা ও খিরার কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেনা গেলেও দেশি জাতের শসা কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগে এসব শসা অন্তত ১০ থেকে ৩০ টাকা কমে কেনা গেছে। অবশ্য, এ দর গেল রমজানের চেয়ে বেশ কম। গত বছর এ সময় শসার কেজি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা ছুঁয়েছিল।
এখনও টমেটোর ভর মৌসুম চলছে। ফলে বাজারে দেশি টমেটোর পর্যাপ্ত সরবরাহ দেখা গেছে। সেজন্য দাম এখনও নাগালে। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকায়।
বেগুনি তৈরি করতে লম্বা বেগুনের দরকার হয়। সেজন্য রোজার সময় লম্বা বেগুনের চাহিদা বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়েছে দামে। পাঁচ-ছয় দিন আগেও প্রতি কেজি লম্বা বেগুন কেনা গেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। প্রায় দ্বিগুণের মতো দর বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। তবে পাড়া-মহল্লায় ভ্যান থেকে কিনতে গেলে ক্রেতাকে কেজিতে বাড়তি গুনতে হচ্ছে অন্তত আরও ১০ টাকা। বছরের অন্য সময়ে গোল বেগুনের দর বেশি থাকলেও এখন স্বাভাবিক। প্রতি কেজি কেনা যাবে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা ইয়াকুব আলী বলেন, এখনও শীতের সবজিতে বাজার ভরপুর। লম্বা বেগুনের চাহিদা বেশি। এ কারণে কেউ কেউ দর বেশি নিচ্ছে। তবে অন্য জায়গায় দর বাড়লেও কারওয়ান বাজারে বাড়েনি বলে দাবি করেন এই বিক্রেতা।
গাজরের সরবরাহ রয়েছে বেশ ভালো। ফলে দর বাড়ার তালিকায় উঠতে পারেনি মিষ্টি জাতীয় সবজিটি। প্রতি কেজি গাজর কেনা যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় এ বছর কম দরে মিলছে পেঁয়াজ। মানভেদে দেশি প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যাচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়।
রমজানে কাঁচামরিচের চাহিদা বেশি থাকে। তবে এবার ঝালজাতীয় পণ্যটির দর নাগালের মধ্যেই রয়েছে। কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। মাস দুই-তিনেক ধরে এ দরের আশপাশেই বিক্রি হচ্ছে মরিচ।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও ঢাকা বিভাগীয় প্রধান বিকাশ চন্দ্র দাস সমকালকে বলেন, রোজা উপলক্ষে রোববার থেকে ঢাকা মহানগরে ১০টি বিশেষ তদারকি দল মাঠে নামবে। তারা বিভিন্ন বাজারে তদারকি করবে। রমজানজুড়ে চলবে এ তদারকি কার্যক্রম। রোববার সকালে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কারওয়ান বাজারে এ তদারকি কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।