ফরিদপুর বাস টার্মিনালে রাখা সাদ পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে বাসের ভিতরের সম্পূর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শহরের গোয়ালচামট নতুন বাস টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।

সাদ পরিবহনের সুপারভাইজার গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, বুধবার রাতে মাগুরা থেকে ট্রিপ মেরে ফরিদপুরে আসি। পরে গাড়িতে তেল ভরে বাস টার্মিনালে এসে গাড়িটি পার্কিং করে রাখি। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ১টার দিকে গাড়ির মধ্যে আগুনের তাপ লাগায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, তখন দেখি গাড়ির ভেতরের পিছনের অংশে আগুন জ্বলছে। তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে বেড়িয়ে শোর চিৎকার করলে অন্য গাড়ির লোকজন এগিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, ওই সময়ই ৯৯৯ এ ফোন দিলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙ্গে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। গাড়িটির মালিক ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি কামরুজ্জামান ছিদ্দিকী কামরুল।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.

আসাদউজ্জামান জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গাড়িতে আগুন দেওয়ার বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদের’ আহ্বান জানিয়ে কয়েক মুসলিম ধর্মীয় নেতার ‘ফতোয়া’ জারি

বিশ্বের সব মুসলিম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ করার আহ্বান জানিয়ে একটি বিরল ধর্মীয় ফরমান বা ‘ফতোয়া’ জারি করেছেন বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম পণ্ডিত। অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের ওপর ১৭ মাস ধরে চলা নৃশংস ও নির্বিচার ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় গতকাল তাঁরা এ ফতোয়া জারি করেন।

ইউসুফ আল-কারযাভীর নেতৃত্বে গঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারসের (আইইউএমএস) মহাসচিব আলী আল-কারদাঘি গতকাল সব মুসলিম দেশকে ‘এই গণহত্যা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

১৫ দফা–সংবলিত ওই ফরমানে আলী আর কারদাঘি বলেন, ‘গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে আরব ও ইসলামিক সরকারগুলো ব্যর্থ হলে তা ইসলামিক আইন অনুযায়ী আমাদের নিপীড়িত ফিলিস্তিনি ভাইদের বিরুদ্ধে বড় অপরাধ বলে গণ্য হবে।’

কারদাঘি মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সম্মানিত ধর্মীয় নেতাদের একজন। তাঁর ফরমান বা ফতোয়াগুলো বিশ্বের ১৭০ কোটি সুন্নি মুসলমানের কাছে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে।

‘ফতোয়া’ হলো ইসলামিক আইনি আদেশ। সাধারণত কোরআন ও হাদিসের আলোকে একজন ধর্মীয় নেতা এ আদেশ জারি করেন। তবে এটি মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়।

কারদাঘি বলেন, ‘গাজার মুসলমানদের নির্মূলে কাজ করা কাফের শত্রুকে [ইসরায়েল] সমর্থন করা নিষিদ্ধ, তা সে যে ধরনের সমর্থনই হোক না কেন।’ তিনি আরও বলেন, এদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা অথবা স্থল, জল বা আকাশপথে সুয়েজ খাল, বাব এল-মান্দেব ও হরমুজ প্রণালির মতো আন্তর্জাতিক জলসীমা বা বন্দরের মাধ্যমে তাদের পরিবহনকে সহায়তা করা নিষিদ্ধ।

এই ধর্মীয় নেতা বলেন, ‘গাজায় আমাদের ভাইদের সহায়তার লক্ষ্যে দখলদার শত্রুদের স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ করার দাবি জানিয়ে কমিটি (আইইউএমএস) একটি ফতোয়া জারি করেছে।’

কারদাঘির বিবৃতির প্রতি অন্য আরও ১৪ জন মুসলিম পণ্ডিত সমর্থন জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে বিশ্বের সব মুসলিম দেশের প্রতি তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তিচুক্তিগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে তিনি আগ্রাসন বন্ধে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ