ভাইভার নাটক করে লেনদেনের মাধ্যমে আর শিক্ষক হওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার।

তিনি বলেন, “বর্তমানে হলে টেন্ডারবাজি আর ফাও খাওয়া নেই। প্রতিবার ভর্তি পরীক্ষার সময় একদল ঝামেলা তৈরি করেছিল, কিভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে টাকা খাওয়া যায়। আমরা সেই পরিবেশ থেকে বেড়িয়ে এসেছি। আপনারা চাকরি না পেলে হতাশ হবেন না, আপনাদের জন্য সারা পৃথিবী খোলা রয়েছে। ভাইভার নাটক করে লেনদেনের মাধ্যমে আর শিক্ষক হওয়া যাবে না।”

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের মিলনায়তনে আয়োজিত এমবিএ ফেস্টিভ্যালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ফাইন্যান্স বিভাগের ২৬তম ব্যাচের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপাচার্য বলেন, “আমাদের প্রশাসন চেষ্টা করছে, বিশ্বের কর্পোরেট সেক্টরের সঙ্গে সমঝোতা তৈরি করতে। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করতে। ছয় মাস আগে এ বিশ্ববিদ্যালয় মরুভূমির মতো ছিল। সেই জায়গা থেকে আমরা পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছি। যে হলগুলোতে দখলদারিত্ব ছিল, আমরা সেই দখলদারিত্বকে জাদুঘরে পাঠিয়ে দিয়েছি।”

ফাইন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.

মুহাম্মদ নেসারুল করিমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এসএম নসরুল কদির প্রমুখ।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, “বিগত সরকার গত কয়েক বছরে দেশে প্রচুর পরিমাণে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে। এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৪টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৭টি। এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের জন্য প্রয়োজন ছিল না। প্রতি বছর ৩০ লাখ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে; কিন্তু চাকরির ক্ষেত্র শূন্য। এমতাবস্থায় বেকারত্ব অবশ্যম্ভাবী।”

ফাইন্যান্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দেশের তরে প্রতিটি জায়গায় তোমরা মেধার স্বাক্ষর এবং নিজেদের ক্যারিয়ারকে সমুন্নত রাখবে। এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেখানেই গেছে, তারা অনন্য ভূমিকা রেখেছে। যার যেদিকে স্কিল আছে, সেদিকেই ফোকাস করবে।

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম সমস্যা হলো, নৈতিক সমস্যা। তোমরা এমন কিছু করবে না, যার কারণে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের সম্মানহানি হয়। দীর্ঘদিন তোমরা আমাদের সঙ্গে ছিলে। আমাদের কোন ভুলত্রুটি হলে তোমরা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।”

ঢাকা/মিজান/মেহেদী

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

টুঙ্গিপাড়ায় মাহেন্দ্র-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৭

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মাহেন্দ্র-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছে আরও সাতজন। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার টুঙ্গিপাড়া-বাঁশবাড়িয়া সড়কের ড. এমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের পার-ঝনঝনিয়া গ্রামের মাহফুজ শেখের ছেলে মারুফ শেখ (১৮) ও একই গ্রামের কামাল শেখের ছেলে মোহাননেত শেখ (১৬)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে মারুফ শেখ (১৮) তার এক বন্ধুকে নিয়ে পার ঝনঝনিয়া থেকে পাটগাতি বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাটগাতি বাজার থেকে ছেড়ে আসা বাঁশবাড়িয়াগামী একটি যাত্রীবাহী মাহেন্দ্রর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল ও মাহেন্দ্রটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহত হন ৯ জন।

ওসি আরও জানান, স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহেন্দ্র যাত্রী মোহাননেত শেখ (১৬) মারা যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে মারুফ শেখকে গোপালগঞ্জ আড়াই’শ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি আহতদের টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত নিবন্ধ