চলছে শীতকাল। এক যুগ আগেও এমন সময়ে গ্রামে-গঞ্জে জারি-সারি গানের আসর বসত। যে আসরে নামি দামি বয়াতিরা নানা রঙে ঢঙে গান গেয়ে মাত করতেন। এখন তা কেবল অতীত! তবে মাঝে মাঝে এখনও গ্রামে তেমন আসর বসে। তাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয় মানুষের মাঝে। 

সম্প্রতি নওয়াগ্রাম দক্ষিণপাড়ায়  জারি গানের বিশাল আয়োজন করা হয়। যেখানে গান পরিবেশ করেন বয়াতি রওসন আলি ও  নাসিমা আক্তার সাথী।  গানে গানে তারা শরিয়ত মারেফতের বিষয়েও আলাপ করেন।

অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন নড়াইল ভিকটোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। 

স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে হওয়া আয়োজনটির পরিচালনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন  পুরুলিয়া ইউনিয়নের  ২ নং ও  ৩ নং ওয়াডের বর্তমান মেম্বার মোঃজিয়ার মোল্ল্যা ও সাবেক মেম্বার মোঃ সেলিম মোল্ল্যা ও এলাকার লাভলু মোল্ল্যা। 

আয়োজনটিতে কালিয়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

ট্রাম্পের শুল্কে উদ্বেগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা, যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই সিদ্ধান্তে আসা না গেলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবাসায়ীরা; আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে জট জলদি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করতে হবে; একই সঙ্গে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বিকল্প বাজার খুঁজে বের করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছন, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, তাতে দেশটির নাগরিকদের ক্রয় ক্ষমতা কমে আসবে। এর প্রভাবে পোশাক রপ্তানি কমে আসবে।

তারা বলছেন, নতুন নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে এই সংকট কাটিয়ে উঠতেও সময় লেগে যাবে।

আরো পড়ুন:

৯ দিনের ছুটি
ভোমরা স্থলবন্দরে ১৪ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার

বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি ৯ দিন বন্ধ

দেশের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুধু বাংলাদেশি পণ্যই নয় সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক হার বাড়িয়েছে। উচ্চহারে শুল্ক আরোপ দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা কমার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কিছুটা মন্দার কবলে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু তৈরি পোশাক রপ্তানির শীর্ষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, ফলে রপ্তানি কমে আসবে। যা পুরো রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

তবে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমাতে পারলে রপ্তানি আয় কমার শঙ্কা কিছুটা কাটবে বলেও মনে করেন তারা।  

তারা বলছেন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে একক দেশের প্রতি নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করে রপ্তানি বাড়াতে হবে। পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে। এফটিএ-এর মতো বাণিজ্য চুক্তির তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ বা বৃদ্ধি করেছে। প্রত্যেক দেশের ওপরই তার প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্রয় ক্ষমতা কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে, যা দেশটির জন্য ভালো কিছু হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ-বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সারা বিশ্ব ধুম্রজালের মধ্যে পড়েছে। এটা নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন।”

“বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে কাজ করলে শুল্ক কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা করে ন্যূনতম পর্যায়ে আনতে হবে; যাতে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে যেন শুল্ক না বাড়ে। তাহলে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারব। তাছাড়া আমরা অনেকটা পিছিয়ে পড়ব,” বলেন মহিউদ্দিন রুবেল। 

মুক্তবাজার অর্থনীতির এই সময়ে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধ কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে রাইজিংবিডি ডটকম কথা বলে বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের সঙ্গে।  

শামীম এহসান বলেন, “শুল্কযুদ্ধ কোনোভাবে আধুনিক বিশ্বে কাম্য নয়। এই শুল্ক আমেরিকার অর্থনীতিতে খুব বেশি সাফল্য বয়ে আনবে না। আমাদের রপ্তানি করা পণ্যে প্রফিট মার্জিন অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, এই পণ্যগুলো মেইড ইন ইউএসএ (যুক্তরাষ্ট্র) হবে। তা সম্ভব নয়। কারণ এই শিল্পগুলো শ্রমঘন ইন্ডাস্ট্রি। আমি মনে করি, শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে কতটুকু স্থির থাকবে ইউএসএ প্রশাসন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।”

ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের কারণে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠার ওপর জোর দিয়ে বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি বলছেন, “শুরুতে আমাদের উপর একটা ঝড় আসবে। কারণ বায়াররা সব সময় সুযোগ-সন্ধানী। বায়ররা আমাদের পণ্যের দাম কমানোর চেষ্টা করবে। এটা যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি; সরকারের নীতিগত সাপোর্ট নিয়ে যদি টিকে থাকতে পারি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি সুফল আমরা পাব।”

“এই শুল্কারোপ শুধু আমাদের ক্ষতি করবে না, আমেরিকান নাগরিকদের ওপরও এর প্রভাব পড়বে। তাই আমাদের শঙ্কিত হওয়ার কারণ থাকলেও ভীত হওয়ার কারণ নেই,” বলেন শামীম এহসান।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই প্রভাব পড়বে আমেরিকার অর্থনীতিতে চাহিদা কমার কারণে।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের পাশাপাশি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করে জাহিদ হোসেন বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে এই ট্যারিফ (শুল্ক) আরোপ করায় আমেরিকার অর্থনীতিতে মন্দা আসবে। সবকিছুর দাম বাড়বে। এতে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমতে পারে। ফলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমানোর যুক্তি তুলে ধরতে হবে। সরকার এরই মধ্যে যে সংস্কারগুলো করেছে, সেগুলো আলোচনায় তুলে ধরা জরুরি। 

বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, সাধারণত শুল্কের বাড়তি ব্যয় ক্রেতার ওপরেই যায়। নতুন শুল্ক আরোপের কারণে পণ্যের দাম বাড়বে, তখন ক্রেতারা ব্যয় কমানোর জন্য বিকল্প উৎস খুঁজবে। 

“আমাদের চেয়ে যাদের শুল্ক কম তারা তখন সুফল পাবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাছাড়া দেশের পোশাক খাত সংকটে পড়বে,” মনে করেন রকিবুর আলম চৌধুরী।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত, চীন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে শুল্কারোপের হার ঘোষণা করেন। এতে নড়ে যায় বিশ্ব অর্থনীতির ভিত। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘শতবর্ষে বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন’ বলে মনে করছেন বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম।

তিনি বলছেন, “আমদানি পণ্যে ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রাজস্ব লাফিয়ে এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারে, যা গত এক শতকে দেখা যায়নি; ছাড়িয়ে যেতে পারে ১৯৩০-এর দশকের কঠোর সুরক্ষামূলক বাণিজ্যনীতি যুগেকেও। কিংবা রাতারাতি শেয়ার বাজারের পতন দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে এশিয়া।”

বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক মনে করেন, এসব কারণে যা যা ঘটবে, তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈশ্বিক বাণিজ্যের অলিগলিতে বড় রদবদল নিয়ে আসবে।

ফয়সাল ইসলামের সাদামাটা চোখে ধরা পড়ছে, ট্রাম্প আদতে যুক্তরাষ্ট্রের সব আমদানি পণ্যে সার্বজনীন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা এই শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্ধৃত রয়েছে এমন কয়েক ডজন ‘বাজে অপরাধী’ দেশের ওপর পাল্টা আরও কিছু শুল্ক যুক্ত হয়েছে।

“বিশেষ করে এশীয় দেশগুলোর ওপর যে শুল্ক দেওয়া হয়েছে, তা চোখ ধাঁধা দেখার মতো বিষয়। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ হাজার হাজার কোম্পানি, কারখানা এবং হয়তো অনেক দেশেরই ব্যবসায়িক মডেল পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে পারে,” বলেন ফয়াসাল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, “ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়বে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অনেক কোম্পানির সাপ্লাইন চেইন। এর অনিবার্য প্রভাব কোম্পানিগুলোকে চীনের দিকে ঠেলে দেবে।”

ট্রাম্পের এই শুল্কের পাল্টায় বাকি বিশ্ব কী ধরেনের প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই এখন ট্রিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।

ঢাকা/এনএফ/রাসেল

সম্পর্কিত নিবন্ধ