Risingbd:
2025-04-04@13:29:40 GMT

দারুণ জয়ে দুইয়ে আর্সেনাল

Published: 16th, January 2025 GMT

দারুণ জয়ে দুইয়ে আর্সেনাল

টটেনহ্যামের বিপক্ষে যেভাবে ফিরে এলো আর্সেনাল তাতে বলাই যায়- নর্থ লন্ডন ডার্বিতে কেউই ফেভারিট থাকে না। কে বলবে যে, গানাররা ঘরোয় কাপগুলোতে পরপর দুটি ম্যাচ ঘরের মাঠে হেরেছে এই ম্যাচের আগে!

এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে বাদ পড়েছে। তারও আগে ক্যারাবাও কাপের সেমিফাইনালে ২-০ ব্যবধানে প্রথম লেগ হেরে অনেকটা বন্ধ করে ফেলেছে ফাইনালে খেলার দুয়ার। এমন ভঙ্গুর অবস্থাতেও লিগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পার্সের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর ২-১ ব্যবধানের জিতে ম্যাচ শেষ করাটা বলে দিচ্ছে ‘লন্ডন ডার্বি’ মূলত একটা মহারণ।

ডার্বি জেতার আনন্দের আতিশয্যায় গানারদের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস তো বলেই বসেছেন যে, তাকে পোড়াচ্ছে ১০ গোল দিতে না পারার আক্ষেপ! এই জয়ের ফলে লিগে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মিকেল আর্তেতার দল।

আরো পড়ুন:

ড্রয়ের পর লিভারপুল ম্যানেজার জানালেন, ‘এর বেশি চাওয়া যায় না’

জয়বঞ্চিত ক্লান্ত ম্যানসিটি

ঘরের মাঠে এমিরেটস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ২৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়েছিল আর্সেনাল। তবে সেই গোল শোধ করে প্রথমার্ধেই তারা এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে। আক্রমণের স্রোত বইয়ে দিলেও আর কোনো গোল হয়নি ম্যাচে। গোলের ব্যবধান বাড়াতে দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন কোচ আর্তেতা। তাতে সুযোগও তৈরি হয়েছে বটে, তবে সোনার হরিণ গোল আসেনি।

ম্যাচ শেষে সেই ক্ষোভই উঠে এলো রাইসের কণ্ঠে, “আমাদের দুর্ভাগ্য যে ১০টি গোল করতে পারিনি। এরকমই মনে হচ্ছে। প্রথম মিনিট থেকে প্রথম ৪৫ মিনিট ছিল পুরোপুরি দাপটের। আপনি একেই ডার্বি বলতে পারেন।”

আর্সেনাল এই জয় পাওয়ার আগে ৩ ম্যাচ ছিল জয়হীন। তবে স্পার্সের বিপক্ষে এই জয়ে তারা উঠে গেল লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। যদিও শীর্ষে থাকা লিভারপুল এখনো অনেকটা এগিয়ে। ২০ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট তাদের। অন্যদিকে এক ম্যাচ বেশি খেলে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আর্সেনাল।

লিভারপুলের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থালেও তাদের একটা মৃদু হুমকি দিয়ে রাখলেন আর্সেনাল ম্যানেজার আর্তেতা। জানিয়ে রাখলেন আর্সেনাল এখন শিরোপার দাবিদার।

“হ্যাঁ, অবশ্যই। যদিও এখনো অনেক কিছু বাকি। আমরা তো জানিই প্রতিটি দলের জন্য কতটা কঠিন কাজ বাকি,” ম্যাচ শেষে জানান আর্তেতা।

ঢাকা/নাভিদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ফ টবল আর স ন ল ব যবধ ন আর ত ত প রথম

এছাড়াও পড়ুন:

আমাদের সময়ের নায়ক

আমাদের সময়ে একজন সুপারস্টার নির্মাতা ছিলেন। পুরো শৈশব-কৈশোর রাঙিয়ে দিয়েছিলেন বহুবার, বারবার। যাঁর নাম শুনে সিনেমা হলে দৌড়ে যেতাম। যাঁর সিনেমা প্রথম দিন না দেখতে পারলে, কবে যাব, এই নিয়ে বুক হাঁসফাঁস করত। আমাদের দেখা সেই ‘লড়াকু’ দিয়ে শুরু। এই লড়াকুর লড়াই আজীবন চলছে, আর থামাথামি নেই। কতদিন স্বপ্নে দেখছি তাঁকে! নায়ক রুবেলের সঙ্গে তাঁর নাম সমানভাবে উচ্চারিত হতো। অদ্ভুত জুটি। সিনেমায় জুটি হয় নায়ক-নায়িকার সঙ্গে, আর রুবেলের জুটি একজন পরিচালক। কী দুর্দান্ত সব কাজ, বুঁদ হয়ে থাকা আর উল্লাস নিয়ে তাদের ভিউ কার্ড কেনা, পোস্টার কেনা। কিনে যত্ন করে পড়ার টেবিলের সামনে টাঙিয়ে রাখা, পড়তে পড়তে দেখা, দেখতে দেখতে পড়া। এমন উন্মাদনা এনে দিয়েছিলেন যিনি, তিনি শহীদুল ইসলাম খোকন। 

বহু গুণে গুণান্বিত এ পরিচালক তাঁর সময়ের সেরা তো ছিলেনই, আমি মনে করি, এখনও সেরা। সেই সময়ের প্রভাব এখনও বিদ্যমান, কারণ তাঁকে অতিক্রম করে যেতে পারেনি কেউ। ডেঞ্জারাস সব কাজ করে গেছেন, মার্শাল আর্টকে গল্পের সঙ্গে এমনভাবে মিশিয়েছে, যা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়। এই উপমহাদেশে তাঁর মতো সফল পরিচালক (অ্যাকশন জনরা) দ্বিতীয়টি নেই, এখনও নেই। আরেকজন খোকন আসেননি, আরেকজন রুবেল আসেননি, আরেকজন সোহেল রানা আসেননি। ভারতে জ্যাকিপুত্র টাইগার শ্রফসহ আরও দু-একজন যে ধরনের অ্যাকশন করে গেছেন, বিশ্বাস করেন, রুবেলের ধারেকাছেও নেই। আর এই অ্যাকশন সিনেমা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছিল এই খোকন। 

খোকনের অন্য অনেক গুণের মধ্যে দুটো বড় দিক হলো– রুবেল আর হুমায়ুন ফরিদীকে বিচিত্র চরিত্রে উপস্থাপন করা এবং মারাত্মক সফল হওয়া। আর বাণিজ্যের কথা বাদ দিলাম। কোন সিনেমার নাম নেব, লড়াকুতো সব ভাসিয়ে দিয়ে গেছে, যে জোয়ার সৃষ্টি করেছিল, তা এখনও বিদ্যমান আমাদের মনে। আমরা ভিসিআর সেট আর ক্যাসেট ভাড়া করে এনে কতবার যে দেখেছি, তার হিসাব নেই। নৌকার গলুইয়ে দু-পা দিয়ে ক্যাঁচকি মেরে শরীরটা পানিতে ভাসিয়ে দিয়ে যে শট রুবেল নিছে! মাগো মা! তখন তো বুঝতাম না, এখন শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠে। এই দৃশ্যে কোনো রকম ডামি ব্যবহার করে নাই, কোনো রকম প্রটেক্ট করে নাই। পা ফসকে গেলে সোজা মাছধরা ট্রলারের নিচে, প্রপেলারে দেহ টুকরা টুকরা হয়ে যেতে পারত। কোনো রকম প্রটেক্ট ছাড়া এমন সব মরণঝুঁকি দৃশ্য জ্যাকিচান ছাড়া আর কারও করতে দেখিনি। 
বিচিত্র গল্পের, বিচিত্র চরিত্রের সিনেমা আমাদের মুগ্ধ করেছে বারবার। কোনটা বলব? বজ্রমুষ্ঠি, বিষদাঁত, সন্ত্রাস, বীরপুরুষ, টপ রংবাজ, ঘাতক, ম্যাডাম ফুলি, কমান্ডার, বিপ্লব, বিশ্বপ্রেমিক, ভন্ডসহ ৩০টার বেশি সিনেমা আমাদের সম্মোহিত করে রেখেছিল। (অবশ্য শেষের ২০০৫ এর পর কয়েকটা সিনেমা বাদ দিতে হবে, যখন খোকন ভাই অসুস্থতাসহ নানাবিধ জটিলতায় জড়িয়ে গিয়েছিলেন।) খোকনের সবগুলো সিনেমা সুপার হিট। তাঁর সিনেমা সুপার হিট হবে, এটা সবাই জানত। আর আমরা অপেক্ষা করতাম।

ভাবা যায়, শৈশবে আমরা সিনেমার গল্প অডিও ক্যাসেটে শুনতাম। টপ রংবাজের গল্প কতবার যে শুনেছি, মনে করতে পারব না। কী সংলাপ! ওই ওই নাটকির পো, মান্দার পো, এই সংলাপ তখন মানুষের মুখেমুখে। কী ক্যারেক্টারাইজেশন, কী গান.. বর্ণনা করার মতো না। শহীদুল ইসলাম খোকনকে নিয়ে আলাদা গবেষণা হওয়া উচিত। এই বঙ্গে একজন সুপারস্টার পরিচালক ছিলেন, যিনি দুটি প্রজন্মের (১৯৮৫ থেকে পরিচালনা শুরু ২০১২ তে শেষ) প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নির্মাণ করেছেন প্রায় ৪০টির মতো সিনেমা। 
খোকনের গুরুভক্তি কেমন, একটা গল্প জানি, তাঁর সিনেমার গুরু সোহেল রানা অসুস্থ হয়ে পড়লে সিনেমার শুটিং রেখে গুরুর সঙ্গে বিদেশ চলে যান। বর্তমানে সোহেল রানার বাসার ড্রইংরুমে মোজাইকের যে ছবিটি আছে, সেটি খোকন বানিয়ে দিয়েছেন। সোহেল রানা বেশির ভাগ ইন্টারভিউ এই ছবিকে পেছনে রেখে দেন, এটাও তাঁর শিষ্যের প্রতি ভালোবাসা। 

আমার স্বপ্ন ছিল, শহীদুল ইসলামের সহকারী হওয়ার। খোঁজ নিয়ে একদিন গেলাম তাঁর অফিসে। কয়েকবারের চেষ্টায় তাঁর দেখা পেলাম। দেখি, অভিনেতা খলিলের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। আমি সোজা তাঁর সামনে। 
বললেন, কী চান?
ডিগ্রি পরীক্ষা দিছি, পড়াশোনা খারাপ না। ফিল্ম নিয়ে আমার ধারণা শক্ত। ইতোমধ্যে ছায়াছন্দ পত্রিকায় দু-একটা লেখাও ছাপছে। আমি ভয়ে ডর দমিয়ে শরীরের চিকন ঘাম লুকিয়ে সহজ করে বললাম, আমি আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাই। আপনার টিমে।
খোকন ভাঙা কণ্ঠে চড়া গলায় বললেন, আমার তো এখন প্রয়োজন নেই।
আমি বললাম, আমি আপনার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ চাই।
তিনি আবারও চড়া গলায় বললেন, আমার প্রয়োজন না হলে কেন নেব? 

তিনি নেননি, কিন্তু আমি তাঁকে এখনও ছাড়িনি। আজও মনে পড়ে খোকন স্যার। আপনাকে মনে রেখেছি। মনে রেখেছি, একদিন বাংলা একাডেমির এক অনুষ্ঠানে আপনি গিয়েছিলেন এবং আমার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সিনেমা, শিল্প সাহিত্য নিয়ে তুমুল আড্ডা হয়েছিল, আপনি অসুস্থ ছিলেন, তারপরও আমার সঙ্গে কথা চালিয়ে গেছেন এবং আরও কিছুক্ষণ থাকতে চেয়েছিলেন। সিনেমা নিয়ে আমার বোঝাপড়া দেখে আপনি খুবই খুশি হয়েছিলেন। আপনার সেই হাসিখুশি মুখটুকু আমি মনে রাখব। এখনও মনে পড়ে। আজ আপনার চলে যাওয়ার দিন। ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল, মাত্র ৫৮ বছর বয়সে চলে গেছেন পৃথিবীর মায়া ছেড়ে। আমরা আপনার নাম লইয়া এখনও মন খারাপ করি, মন ভালো করি। আপনি আমাদের সময়ের নায়ক। 

লেখক: মোস্তফা মনন
নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার
 

 

 

 

সম্পর্কিত নিবন্ধ