উদ্ধার হয়নি ৩ কোটি টাকার ফার্নেস অয়েল
Published: 16th, January 2025 GMT
মুন্সীগঞ্জে একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে তিন কোটি টাকার ফার্নেস অয়েল লুটের ছয় দিনেও ডাকাতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি তেলও। তবে নৌ পুলিশ জানিয়েছে, লুণ্ঠিত ফার্নেস অয়েল উদ্ধার এবং ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে তারা।
মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা মোহনায় ওটি বিন জামান-১ নামের তেলবাহী জাহাজের ৬ কর্মচারীকে জিম্মি করে ৩৫০ টন ফার্নেস অয়েল লুট করে ডাকাত দল। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চর মুক্তারপুরের কাছে নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেদিনই মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়।
জানা গেছে, ওটি বিন জামান-১ জাহাজটি ৩৬০ দশমিক ০৩৬ টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জের সামিট ঘাট থেকে গাজীপুরের কড্ডা পাওয়ার প্লান্টের উদ্দেশে রওনা হয়ে শুক্রবার ডাকাতের কবলে পড়ে। ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলারে করে ডাকাতদল পেছন দিক থেকে লাফিয়ে অয়েল ট্যাংকারে উঠে চালকসহ সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতদল জাহাজের মাস্টার সহিদুল শিকদার (২৯), ইঞ্জিন ড্রাইভার জাকির হোসেন (৫০), সুকানি মোহাম্মদ কামাল (২৫), লস্কর মোহাম্মদ দিদার (৩৫), লস্কর মোহাম্মদ জসিম (৪৫) ও বাবুর্চি নিয়ামত উল্লাহকে (৫০) জাহাজের ক্যাবিনে নিয়ে কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে প্লাস্টিকের টাই দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। এরপর জাহাজটি এক স্থানে থামিয়ে ফার্নেস অয়েল লুট করে ডাকাতরা। রাত ৮টার দিকে মেঘনা সেতুর কাছে পুলিশ ওয়েল ট্যাংকারটির সন্ধান পায়। পুলিশ কাছাকাছি যেতেই ডাকাত দল দ্রুত তাদের ট্রলারযোগে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ জাহাজে ঢুকে ছয়জনকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান কিংফিশার শিপিং লাইন্স। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কর্মচারীদের জিম্মি করে ডাকাতি করার অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার (অপারেশন) ফজলে খোদা বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ৭-৮ জন ডাকাতকে আসামি করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি এম সাইফুল আলম জানান, মামলাটি সদর থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। যেহেতু এটি নৌপথের ঘটনা, তাই নৌ পুলিশ মামলার তদন্ত করছে।
মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর নৌ পুলিশের ইনচার্জ লুৎফর রহমান জানান, লুণ্ঠিত ফার্নেস অয়েল উদ্ধার এবং ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে এখনও ডাকাতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই লুণ্ঠিত তেল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: সদর থ ন
এছাড়াও পড়ুন:
নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখছে মহেশ বাবুর কন্যা?
‘প্রিন্স অব টলিউড’খ্যাত অভিনেতা মহেশ বাবু। পর্দায় অসাধারণ অভিনয় এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব গুণের কারণে অসংখ্য ভক্ত তার। এই অভিনেতার কন্যা সিতারা তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ জনপ্রিয়।
মহেশ বাবু অভিনীত ‘সরকারু বারি পাতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়েছে। ২০২২ সালে মুক্তি পায় এটি। মুক্তির পর দারুণ প্রশংসা কুড়ায় সিতারা। কিছুদিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে, ১২ বছর বয়সি সিতারা নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখতে যাচ্ছে। অবশেষে এ গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন মহেশ বাবুর স্ত্রী নম্রতা শিরোদকর।
আরো পড়ুন:
বিয়ের পর অভিনয়কে বিদায়: নীরবতা ভাঙলেন মহেশ বাবুর শ্যালিকা
রাজামৌলির সিনেমার জন্য ১৬৪ কোটি টাকা ছাড়াও লভ্যাংশ নেবেন মহেশ!
কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে মায়ের সঙ্গে হাজির হয় সিতারা। সেখানে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখার গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় সিতারার কাছে। এ প্রশ্ন শুনে মায়ের দিকে তাকায় এই খুদে তারকা। এরপর নম্রতা শিরোদকর বলেন, “তার বয়স মাত্র ১২ বছর। এখনো অনেক সময় আছে। যদিও আমাদের পরিবার বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু সবাই সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।”
ফিল্মি পরিবারে জন্ম ও বেড়ে উঠছে সিতারা। তার দাদা কৃষ্ণা বিখ্যাত একজন অভিনেতা ছিলেন। সিতারার বাবা-মা দুজনেই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। এর আগে ড্রিম মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল সিতারা। সেই আলাপচারিতায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, পারিবারিক উত্তরাধিকার সফলভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখে সিতারা?
এই প্রশ্নের জবাবে সিতারা বলে, “এই উত্তরাধিকারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে। চমৎকার এই পরিবারের সদস্য হতে পেরে আনন্দিত। আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন আমি অভিনয় করতে চাই কিনা। এখন আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। মডেলিং এবং অভিনয় দুটোর বিষয়েই আমি আগ্রহী। কিন্তু আমার বয়স মাত্র ১২ বছর। সুতরাং আমি এখনো নিশ্চিত নই।”
একটি জুয়েলারি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছে সিতারা। এ বিজ্ঞাপনে মেয়েকে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন মহেশ বাবু। সেই স্মৃতিচারণ করে সিতারা বলে, “আমার মা খুব কঠোর মানুষ। তবে বাবা আমাকে ভীষণ আদর (প্রশ্রয় দেন) করেন। আমার মনে আছে, বাবা আমার পিএমজে-এর বিজ্ঞাপন প্রথম দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকে ফ্যাশন সেন্স পেয়েছি। আমি পাগল। কিন্তু মা তার পোশাক আমার জন্য রাখেন না। আমার মা ‘মিস ইন্ডিয়া’ বিজয়ী। তার দারুণ একটি মডেলিং ক্যারিয়ার ছিল। ‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় তার ছবি দেখে অভিভূত।”
জুয়েলারি ব্র্যান্ড পিএমজে-এর নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করা হয়েছে সিতারাকে। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ একটি গহনা লঞ্চ করে; যার নাম দেয় ‘সিতারা’। ২০২৩ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে লঞ্চ করা হয় বিজ্ঞাপনটি।
ব্যক্তিগত জীবনে নম্রতা শিরোদকরের সঙ্গে গাটছড়া বেঁধেছেন মহেশ বাবু। এ দম্পতির ঘর আলো করে এসেছে পুত্র গৌতম ও কন্যা সিতারা। ২০১২ সালে জন্ম হয় সিতারার। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও দারুণ পারদর্শী সিতারা।
সিতারা ও তার বড় ভাই গৌতম অভিনয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সিতারা হায়দরাবাদ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়, তার ভাই গৌতম নিউ ইয়র্কে ইউনিভার্সিটি থেকে নাটক বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন সিতারা।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিয়াসাত ডটকম
ঢাকা/শান্ত