ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছে। গতকাল বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা এ চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি সরাসরি উপস্থিত থেকে দুই পক্ষকে চুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ১৫ মাস ধরে চলা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী লড়াইয়ের অবসান হতে যাচ্ছে।
চুক্তি হওয়ার পরপরই সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে জিম্মি মুক্তিতে একটি চুক্তি হয়েছে। তারা শিগগিরই মুক্তি পাবে।
কয়েক মাস ধরে একটি যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চলছিল। বারবার চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি করা যাচ্ছিল না। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা ও ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর সে অনুযায়ী তিনি দূত পাঠিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যান। এ প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা করে হামাস। জিম্মি করে ইসরায়েলের ২৫০ বাসিন্দাকে। এর জেরে ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এতে ৪৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজায় ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েন। ৮০ শতাংশ বাড়িঘর স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র– সব জায়গায় বেপরোয়া হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করে ইসরায়েল।
শুরুর দিকে যুদ্ধবিরতিতে শতাধিক জিম্মিকে মুক্তি দেয় ইসরায়েল। তবে শেষ পর্যন্ত ৯৪ জন জিম্মি হামাসের হাতে ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছেন বলেই ধরে নেওয়া হয়। চুক্তির ফলে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে। বিবিসির রুশদি আব্দুল রউফ বলেন, এ চুক্তির কারণে লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি তাদের তাদের নিজ গ্রাম, শহর ও বাড়িতে ফিরে যেতে পারবেন। এ চুক্তির অধিনে ৬০০ ট্রাক ত্রাণ গাজায় সরবরাহের অনুমোদন রয়েছে। এগুলোতে চিকিৎসা সামগ্রিও যাবে। এছাড়া জ্বালানিবাহী ৫০টি লরিও গাজায় পাঠানো হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ট্রাম্প ডোনাল্ড ট্রাম্প এটাকে ‘ঐলতিহাসিক জয়ে’র পর ‘মহাকাব্যিক চুক্তি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে আমাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের কারণে মাহকাব্যিক চুক্তি’ সম্ভব হয়েছে।
আল জাজিরা জানায়, মধ্যস্ততায় সাফল্যের পর কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান জসিম আল থানি হামাস ও ইসরায়েলের আলোচনাকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী ধাপে ধাপে নেটজারিম করিডোরের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের সেনাদের গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজনের মুত্যু
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইয়াসিন আলী (২৪) ও মাহির তাজয়ার তাজ (১৫) নামে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে একটি ও গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাহির তাজওয়ার তাজ আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ইউসুফ আলী মাস্টারের ছেলে ও ইয়াসিন আলী চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের দিদার আলীর ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান, জানান, অসাবধানতা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল ড্রাইভ করতে যেয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির তাজওয়ার তাজ গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রাতে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ৮ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মাহির মারা যায়।
অন্যদিকে গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে ইয়াসিন আলী মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগামী ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। এসময় তার দুই পা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুঁড়িয়ে যায়। তাকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৬ দিনের মাথায় বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ইয়াসিন মারা যায়।
দুটি দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের না করায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে স্ব স্ব পরিবারের কাছে তাদের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঢাকা/মামুন/টিপু