চাঁদপুরে রোটাভাইরাসের প্রকোপে বেড়েছে শিশু রোগী
Published: 15th, January 2025 GMT
চাঁদপুরে শীতের দাপট বৃদ্ধির সাথে সাথে হু হু করে বেড়েছে শীতজনিত রোগ। যার মধ্যে অধিকাংশই রোটা-ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী। কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলার শিশুরা ব্যাপকহারে রোটা-ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।
৩০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত গত ১৫ দিনে রোগে আক্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) চাঁদপুরের মতলব হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৫৫০ জন রোগী। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছে ৩০৩ জন। প্রতি ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন করে।
এরমধ্যে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ৩৮৭৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু শতকরা ৮৫.
মতলব হেলথ রিচার্জ সেন্টারের হেড (আইসিডিডিআরবি) কর্মকর্তা ডা. এম ডি আল ফলজ খান জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩৮৫ জন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ২১১ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলার ১৯০ জন, কচুয়া উপজেলার ২৯১ জন, মতলব উত্তর উপজেলার ১৫৮ জন, মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১৪৩ জন, শাহারাস্তি ১১৫ জন, কুমিল্লার বরুড়ার ২৩৯ জন, ব্রাহ্মণপাড়ার ৮৬ জন, বুড়িচংয়ের ১৪২ জন, চান্দিনার ২৫৮ জন, কুমিল্লা সদর (আদর্শ) ১৭০ জন, কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) ১২৪ জন, চৌদ্দগ্রাম ৮৩ জন, তিতাস ১২৬ জন, দাউদকান্দি ২৩০ জন, দেবিদ্বার ৩১৬ জন, হোমনা ৭৯ জন, লাকসাম ১০৬ জন, মেঘনা ০৩ জন, মনোহরগঞ্জ ৩৬ জন, মুরাদনগর ৩২৪ জন, নাঙ্গলকোট ৫৯ জন, লক্ষ্মীপুর সদরের ১২৭ জন, কলমনগর ২৭ জন, রায়পুর ৮২ জন, রামগঞ্জ ১০৬ জন, নোয়াখালী সদর ১৪ জন, বেগমগঞ্জ ৪ জন, চাটখীল ৪৯ জন, হাতিয়া ২ জন, শেনবাগ ২ জন, সোনাইমুড়ী ২৪ জন, সুবর্নচর ১ জন, শরীয়তপুরের সখীপুর উপজেলার ৬৭ জন, ঘোসারহাটের ১ জন এবং বেদরগঞ্জের ৫ জন। বাকিরা মুন্সিগঞ্জ, ফেনী আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার প্রতিটি ওয়ার্ড ডায়রিয়া রোগীতে ভরপুর। হাসপাতালের বারান্দায়ও অনেক রোগী। রোগীদের অধিকাংশই শিশু। রোগীদের চিকিৎসা ও সেবায় কর্মরত চিকিৎসক ও নার্স আন্তরিক।
এ বিষয়ে ডা. এমডি আল ফজল খান বলেন, “আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসা-সরঞ্জাম রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং শিশুদের প্রতি যত্নবান থাকলে এ রোগ এড়ানো সম্ভব। হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৭০টি কিন্তু এক সাথে ৪০০ রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে পারি।”
ঢাকা/জয়/এস
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
খিচুড়ি রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, পরে ঘরে পাওয়া গেল গৃহবধূর লাশ
রান্নাঘরে চাল-ডাল ধুয়ে আজ সোমবার ঈদের দিন দুপুরে স্বামীর বাড়িতে খিচুড়ি রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন গৃহবধূ রুনা আক্তার (২১)। শেষ পর্যন্ত খিচুড়ি রান্না তো হলোই না, বেলা আড়াইটার দিকে বসতঘরের শয়নকক্ষে পাওয়া গেল তাঁর লাশ। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঠেটালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুনার বাবার বাড়ির স্বজনদের দাবি, রুনাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন তাঁর স্বামী হাকিম মোল্লা ও তাঁর পরিবারের লোকজন। ঘটনার পর থেকে তাঁরা পালাতক।
নিহত রুনা আক্তার উপজেলার ঠেটালিয়া গ্রামের দোকানি হাকিম মোল্লার স্ত্রী। রুনার পৈতৃক বাড়ি উপজেলার রসুলপুর ঢাকুরকান্দি গ্রামে। ওই গ্রামের রফিক ভূঁইয়ার মেয়ে তিনি। কিছুদিন আগে হাকিম মোল্লার সঙ্গে রুনার বিয়ে হয়েছিল।
স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে পারিবারিকভাবে ঠেটালিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী হাকিম মোল্লার সঙ্গে রুনা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নানা বিষয়ে রুনার সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিবাদ চলে আসছিল। আজ সকালেও স্বামীর সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। দুপুরে স্বামীর পরিবারের লোকজনের জন্য চাল-ডাল ধুয়ে খিচুড়ি রান্নার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে বেলা আড়াইটার দিকে বসতঘরের শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় রুনার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
নিহত রুনা আক্তারের ভাই শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে পরিকল্পিতভাবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছেন। এটি ঢাকার জন্য লাশ ঘরে ঝুলিয়ে ‘আত্মহত্যা’র নাটক সাজানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করবেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য নিহত রুনার স্বামী হাকিম মোল্লার মুঠোফোনে কল করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত এটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু বলেই মনে হচ্ছে।