রাজশাহী কলেজে তারুণ্যের উৎসব শুরু
Published: 15th, January 2025 GMT
রাজশাহী কলেজে স্থানীয় ঐতিহ্য, সাহিত্য ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপি তারুণ্যের উৎসব-২০২৫ শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মু. যহুর আলী। উৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভা, মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের তারুণ্যের উৎসবের অঙ্গিকার, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ, পরিবেশ সুরক্ষায় পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জন, স্যোশাল বিজনেস সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা প্রদান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.
কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম কিবরিয়ার সঞ্চলনায় সভাপতির বক্তব্যে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও উদ্যমী হয়ে উঠতে হবে। বর্তমানে প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার আমাদের পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে আমাদের বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণের দিকে নজর বৃদ্ধি করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা সচেতন ও উদ্যমী হলে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হবে।”
ঢাকা/ফারজানা/মেহেদী
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদের দিনটা কেটে যায় কাজে, নিজের জন্য আর কিছুই থাকে না
জীবনের পড়ন্তবেলায় এসে ঈদের উৎসবকে যখন রোমন্থন করি, তখন স্মৃতির গভীরে হারিয়ে যাই। ছোটবেলায় ঈদ ছিল এক অন্য রকম আনন্দের উৎসব। নতুন জামা বানাতে দরজির দোকানে মাপ দিতে যাওয়া, তারপর নতুন জামা হাতে পাওয়ার পর সেটি লুকিয়ে রাখা, যেন কেউ আগে দেখে না ফেলে! ঈদের দিন সইদের সঙ্গে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো, ভাই–বোনদের সঙ্গে স্টুডিওতে ছবি তুলতে যাওয়া—এসব আনন্দের মুহূর্ত আজও হৃদয়ে জাগরূক। মনে হয়, সময় যেন আটকে গেছে, আমি এখনো সেই শৈশব–কৈশোরের রঙিন দিনগুলোর মধ্যেই আছি। কিন্তু যখন বাস্তবতায় ফিরি, তখন সবকিছু বিমূর্ত হয়ে যায়, ধূসর ও বিবর্ণ মনে হয়। মনের অজান্তেই চোখের কোণে জল এসে জমে।
আমাদের ছোটবেলার ঈদ আজকের মতো জৌলুশময় ছিল না। মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারে ছিল আর্থিক টানাপোড়েন, ছিল পরিমিত জীবনের শিক্ষা। দাদা–দাদার ভাইদের বিশাল পরিবারের সদস্যদের জন্য রান্না হতো বড় বড় পাতিলে। ঈদের এক সপ্তাহ আগেই শুরু হতো প্রস্তুতি। পুরোনো শাড়ির পাড় জোড়া লাগিয়ে দরজা–জানালার পর্দা বানানো হতো, সোডা দিয়ে কাপড় ধোয়ার আয়োজন চলত। মুড়ি, চিড়া ও খই সংগ্রহ করে রাখা হতো ঈদের সকালে মলিদা তৈরির জন্য। ময়দার সঙ্গে রং মিশিয়ে কাঁঠালপাতায় গোলা লেপে শুকিয়ে বানানো হতো পিঠা। এত কাজ, এত পরিশ্রমের মধ্যেও ক্লান্তি ছিল না; বরং ঈদের প্রস্তুতিই ছিল এক অন্য রকম আনন্দ।
ঈদের দিন ভোরে সাবান দিয়ে গোসল করে নতুন ছাপা থান কাপড়ের ফ্রক পরার আনন্দ আজও মনে পড়ে। তারপর পরিবারের মুরব্বিদের সালাম করে বয়সভেদে চার আনা থেকে এক টাকা পর্যন্ত ঈদের সালামি পাওয়া ছিল আমাদের কাছে বিরাট প্রাপ্তি! ঈদের সকালের শুরু হতো মলিদা দিয়ে, এরপর গুড়ের পায়েস কিংবা গুড়ের সেমাই। দুপুরের খাবারে থাকত মুরগির মাংস আর আলুর ঝোল, যার স্বাদ আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন।
তারুণ্যে পা রাখার পর ঈদের উৎসব বদলে গেল। বরিশালে পড়াশোনার সময় ঈদ পায় নতুন রূপ—সেমাই, ফিরনি, জর্দা, পোলাও–কোরমার ভিড়ে ঈদ যেন ভোজন উৎসবে পরিণত হলো। এরপর কর্মজীবন, বিয়ে ও সংসারের দায়িত্ব এসে ঈদের রং পাল্টে দিল। নারীদের জন্য ঈদ মানে তখন শুধুই স্বামী–সন্তান ও সংসারের তাগিদ।
আজকের ঈদ আর আমাদের শৈশবের ঈদের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। একসময় ঈদ মানে ছিল সীমিত সম্পদের মধ্যেও অপরিসীম আনন্দ। এখন ঈদের বাহারি আয়োজন, নতুন কাপড়–গয়না, খাবারের জৌলুশ বেড়েছে; কিন্তু সেই আনন্দ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে! আগে একটা সাধারণ ফ্রকেই যে আনন্দ লুকিয়ে ছিল, এখন অসংখ্য পোশাকের মধ্যেও তা খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ, নারীদের ঈদ শুরু হয় গভীর রাতে—ফিরনি, সেমাই, হালিম, জর্দা, চটপটিসহ বাহারি রান্নার আয়োজন করে। সকালে রান্নার কাজ শেষ হতেই দুপুরের ও রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিতে হয়। ফলে ঈদের দিনটাই কেটে যায় কাজে, নিজের জন্য কিছুই আর থাকে না।
অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা