বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা শিক্ষার্থীদের একজন মেহেদী হাসান নিরব। সম্প্রতি তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেয়ে তাড়াশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী নিরব। তবে প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও হুমকিদাতাকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন নিরব ও তার পরিবার।

জানা গেছে, নিরব তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের কুন্দাশন গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তিনি স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি প্রার্থী।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিরবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট দেখছেন। এমন সময় ‘ছন্নছাড়া বাঁধন’ নামের একটি আইডি থেকে তার একটি পোস্টে কমেন্ট করে ‘জীবনে একবারই বসন্ত পেয়েছিস, শেষবারের মত হেসে নে। তুই যেভাবে বেড়ে গেছিস এর ফল তোকে নির্মমভাবে ভোগ করতে হবে’।

একই আইডি থেকে তার মেসেঞ্জারে লিখেছে ‘আমার জীবনের একটাই উদ্দেশ্য তোকে মেরে ফেলা, জবাই করার সময় হলেই তোকে জবাই করবো’। এ নিয়ে ভুক্তভোগী নিরব ও তাঁর পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিন কাটচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে মেহেদী হাসান নিরব বলেন, জুলাই বিপ্লবে দেশের জন্য লড়াই করেছি। আন্দোলনের শুরুতে বিভিন্ন হুমকি পেলেও গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর সকালে আমাকে হত্যার হুমকির বিষয়টি নিয়ে আমি ও আমার পরিবার উদ্বিগ্ন। তাই থানায় জিডি করেছি।

বুধবার বিকাল ৩টার দিকে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.

আসলাম হোসেন বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: স র জগঞ জ

এছাড়াও পড়ুন:

লালমনিরহাটে মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ভাঙার প্রতিবাদ উদীচীর

লালমনিরহাট শহরের বিডিআর রোডে শিশুপার্ক–সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্মারক মঞ্চে স্থাপিত ম্যুরালের একাংশ ভেঙে ফেলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ম্যুরালটি ভাঙার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

আজ সোমবার এক বিবৃতিতে উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ১৪০ ফুট দীর্ঘ ম্যুরালটিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধ, মুজিবনগর সরকার, ’৭১-এর গণহত্যা, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণসহ জাতির গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা চিত্রিত ছিল। যা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলছিল। এই ম্যুরাল দেখে সাধারণ মানুষ তথা তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারত। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের আগে দুই দফা ম্যুরালটি ঢেকে রাখা হয়। তখন জেলা প্রশাসক দাবি করেছিলেন, চব্বিশের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে এটি ঢেকে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনলালমনিরহাট মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক মঞ্চের ঢেকে রাখা ম্যুরালের কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে৫ ঘণ্টা আগে

উদীচীর বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মূল চেতনা কোনোভাবেই একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। দুটি ক্ষেত্রেই মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্য থেকে মুক্তি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা পেলেও বৈষম্য থেকে মুক্তি না পাওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষকে ১৯৯০ বা ২০২৪ সালের মতো বারবার রাজপথে আন্দোলন করতে হয়েছে, আত্মাহুতি দিতে হয়েছে; কিন্তু ’৭১ ও ’২৪–কে মুখোমুখি বা সাংঘর্ষিক অবস্থানে নেওয়ার কথা বলে একটি অপশক্তি সচেতনভাবে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই অপচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে দেরি না করে ম্যুরালটি সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন উদীচীর নেতারা।

আরও পড়ুন‘জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতীয়মান না হওয়া’য় ঢেকে রাখা হলো মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল২৭ মার্চ ২০২৫

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • জুলাই হত্যাকাণ্ড কি জেনোসাইডের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে
  • বিশ্বে কোটিপতির সংখ্যা তিন হাজার ছাড়ালো
  • চীনের বিবাহসংকট কেন সবার মাথাব্যথার কারণ
  • গগনযানের নভোচারীদের নিয়ে কেন এত গোপনীয়তা রক্ষা করছে ভারত সরকার
  • বুয়েটের নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
  • লালমনিরহাটে মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ভাঙার প্রতিবাদ উদীচীর