মাসের পর মাস খালি পড়ে থাকে বিএফডিসি বা বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন; যাকে সংক্ষিপ্ত আকারে বলা হয় এফডিসি। সেখানে হয় না সিনেমার শুটিং। এক সময় যার শুটিং ফ্লোরের শিডিউল পেতে হিমশিম খেতেন পরিচালক-প্রযোজকরা। শুটিংয়ের লাইট-ক্যামেরায় আলোকিত থাকত। এমনও দিন গেছে, অর্ধডজন সিনেমার শুটিং একসঙ্গে চলেছে। সেই ফ্লোরগুলো এখন বেকার।

মাঝে মাঝে সেখানে টিভি চ্যানেলগুলোর নানা আয়োজনের শুটিং হয় কিন্তু সিনেমার শুটিং হয় কালেভদ্রে। ঝরনা স্পট, ক্যান্টিন চত্বর, গার্ডেন, মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্স চত্বর কিংবা কড়ইতলা– এক সময়ে এ জায়গাগুলো শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক আর কলাকুশলীদের পদচারণায় গমগম করত। এখানে আবার প্রিয় তারকার শুটিং দেখতে আসা উৎসুক মানুষের ভিড় সামলাতে মূল ফটকে নিরাপত্তাকর্মীরা হিমশিম খেতেন; যা এখন কেবলই অতীত। সারা বছর না হোক আগামী কয়েক মাস পরই ঈদ। ঈদের আগের এ সময়টাতেও উৎসবের সিনেমার শুটিংয়ে এফডিসি সরগরম থাকার কথা। কই! যে ছবিগুলো ঈদে মুক্তির ঘোষণা দিয়ে শুটিংয়ে নেমেছে সে ছবিগুলোর শুটিং এফডিসিতে যেন ছিটেফোঁটাও নেই!

কেন এফডিসি থেকে শুটিং বিমুখতা? প্রশ্ন রাখলে চলচ্চিত্রের লোকজনের মুখ থেকে একবাক্যে উত্তর এসেছে এফডিসিতে শুটিং করাটা ব্যয়বহুল, ফ্লোর ভাড়া থেকে শুরু করে ক্যামেরা, লাইট, সম্পাদনা, কালার গ্রেডিংয়ে যে খরচ, বাইরে তা অনেক কম, সুযোগ-সুবিধাও অনেক বেশি। তাই এফডিসির বাইরে কাজ করতে আগ্রহ বেশি তাদের। 

এদিকটা বিবেচনা করে চলচ্চিত্রের এ আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত এফডিসিতে কোলাহল ফেরাতে শুটিংয়ের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে চলচ্চিত্র নির্মাণে শুটিঙের যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা ভাড়ার হার পরীক্ষমূলকভাবে ৬ মাসের জন্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বছরের শুরুতেই এফডিসির পরিচালক (প্রকল্প) মো.

রেজাউল হকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে জানানো হয় বিষয়টি। প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ ও ৬ নম্বর ফ্লোর সেট নির্মাণ ও শুটিংকালীন ভাড়া ছিল যথাক্রমে ২৫৫০ ও ৬৫০০ টাকা। নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে এ ভাড়া কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২০০০ ও ৫০০০ টাকা। ২ নম্বর ফ্লোর (এসি ছাড়া) সেট নির্মাণ ও শুটিংকালীন ভাড়া ছিল যথাক্রমে ৫১০০ ও ১৩০০ টাকা। নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে এটি কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪০০০ ও ৯০০০ টাকা। ২ নম্বর ফ্লোর (এসিসহ) সেট নির্মাণ ও শুটিংকালীন ভাড়া ছিল যথাক্রমে ৫১০০ ও ১৮৫৪০ টাকা। নতুন বিজ্ঞপ্তির ফলে এটি দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪০০০ ও ১১৫০০ টাকা। 

তথ্য অনুযায়ী, সেট নির্মাণের সময়ে এফডিসির খালি জায়গা, ছাদ ও সুইমিংপুলের ভাড়া ছিল ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা; যা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ইনডোরে রেড ড্রাগন ক্যামেরার শুটিং ভাড়া ছিল প্রতি শিফট ৬, ১২০ টাকা। এখন সেটি করা হয়েছে ৩০০০ টাকা। একই ক্যামেরায় আউটডোরে শুটিংয়ে আগে ছিল ৬৬৩০ টাকা। এখন সেটি করা হয়েছে ৩৫০০ টাকা। একই ক্যামেরায় দেশের বাইরে শুটিং করতে আগে লাগত ১৯,৫০০ টাকা, এখন সেটি কমিয়ে ১০০০০ টাকা করা হয়েছে। 

সনি ক্যামেরায় ইনডোরে আগের শুটিং ভাড়া ছিল ৫,১০০ টাকা, এখন ২,০০০। একই ক্যামেরায় আউটডোরে শুটিং ভাড়া ছিল ৫,৬১০ টাকা; এখন ২,৫০০ টাকা। এ ছাড়াও দেশের বাইরে এ ক্যামেরায় শুটিং প্রতিদিন গুনতে হতো ১৬,৫০০ টাকা। এখন ১০ হাজার টাকা। 

সনি ক্যামেরায় ইনডোরে আগের শুটিং ভাড়া ছিল  ৫,১০০ টাকা এখন সেটা করা হয়েছে ২,০০০ টাকা।  একই ক্যামেরায় আউটডোরে শুটিং ভাড়া ছিল  ৫,৬১০ টাকা। এখনে সেটা করা হয়েছে ২,৫০০টা। এ ছাড়াও দেশের বাইরে এই ক্যামেরায় শুটিং প্রতিদিন গুণতে হতো ১৬,৫০০ টাকা। এখন সেটা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। 

ডিজিটাল সম্পাদনা মেশিন চার্জ (প্রতি শিফট) আগে ছিল ২১০০ টাকা। এখন সেটা ১৫০০ টাকা।  ডিজিটাল কালার গ্রেডিং (প্রতিশিফট) আগে ছিল ৩১ ৫০ টাকা। এখন সেটা কমিয়ে হয়েছে ২৫০০ টাকা।


 এই ছাড়াও শুটিংয়ের নানা যন্ত্রাংশের ভাড়া কমানোর পাশাপাশি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানের শুটিংয়ে সর্বোচ্চ ২০% ভাড়া ছাড় দেয়া হবে বলেও জানিয়েছে বিজ্ঞাপ্ততে। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে

* কোন যন্ত্রপাতি এফডিসি ব্যতিত অন্য কোন উৎস থেকে এনে ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে শিফট ভিত্তিক বিদ্যুৎ বিল প্রযোজ্য হবে।
* সুটিং স্পটে বা সুটিংয়ের ক্ষেত্রে কোন ল্যাম্প বা বাল্ব ফেটে গেলে/হারানো গেলে/খোঁয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আদায় যোগ্য তবে ফিউজ হলে যৌক্তিকতা নির্ণয় সাপেক্ষে বিলের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
* সকল প্রকার ভাড়া/বরাদ্দ সিডিউলের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
* প্রচলিত অন্যান্য নিয়ম কানুন অপরিবর্তিত থাকবে।
* সুটিং ও পিকনিক ব্যতিত পর্যটকগন কক্ষ ব্যবহার করলে সুটিং এর নির্ধারিত রেট প্রযোজ্য হবে।
* যে সকল যন্ত্রপাতি/যন্ত্রাংশের সেবার হার এ রেট কার্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি তা পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে।
* বিএফডিসির বাহিরে নির্মিত চলচ্চিত্রের অনাপত্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিএফডিসি বরাবর ২০,০০০/- টাকা অনাপত্তি ফি জমা দিতে হবে।
* কর্পোরেশনের ফ্লোর, চত্ত্বর, বিভিন্ন কক্ষ, ষ্টোর রুম, মেকাপ রুমসহ স্থাবর স্থানে বা কোন সুটিং স্পটে সুটিং ও সেট নির্মাণ করলে উক্ত স্পটের ভাড়া সার্ভিস চার্জের আওতায় থাকবে। ক্যামেরা এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সার্ভিস চার্জের আওতার বহিঃর্ভূত থাকবে
* রকারী বিধিমালা মোতাবেক ভ্যাটসহ অন্যান্য কর্তন প্রযোজ্য হবে।
* সেবার হার পুনঃনির্ধারণ, পুনঃ মূল্যায়ন, সংযোজন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেন।


 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: এফড স একই ক য ম র য় চলচ চ ত র এফড স র এখন স ট ব এফড স ৫০০ ট ক এফড স ত

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র

দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে উচ্চ মাত্রার এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর-রয়টার্স

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। নতুন এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮৪০ কোটি ডলারের মতো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়ে থাকে যার বেশিরভাগ তৈরি পোশাক । গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৭৩৪ কোটি ডলার। 

কোন দেশের জন্য কত শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প: বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে তা উল্লেখ করে, এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র সেসব দেশে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করল সেই তালিকা তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ এবং চীনের পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ: একইসঙ্গে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শুরুতেই ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে বলে জানান। ট্রাম্প তার বক্তব্যে আজকের এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে। আজকের দিনটি আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’। আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন। 

ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনও ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয়, তার ৮০ শতাংশের বেশি সে দেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয়, সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সে দেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য। ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে। অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ