নবীগঞ্জে পৌষ সংক্রান্তিতে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়
Published: 15th, January 2025 GMT
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে প্রতি বছরের ন্যায় আনন্দঘন পরিবেশে ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের আলমপুরে ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতিবছর এইদিনে ঘোড়া দৌড়ের আয়োজন করে আলমপুর গ্রামবাসী। প্রচলিত আছেন যে, গ্রামটিতে প্রায় দুইশত বছর ধরে এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতায় নারী, শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে অনেক দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এসে সমবেত হন। এবার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিভিন্ন জেলা থেকে ৭টি ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগীরা উপস্থিত হন।
ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকার করেন চুনারুঘাট উপজেলার কাছম আলীর ঘোড়া (আর্মি সোনা), ২য় স্থান লাভ করে আউশকান্দি ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের আলাল মিয়ার ঘোড়া (সোনার হৃদয়)।
প্রতিযোগিতায় ইসলাম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ঘোড়দৌড় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি সদস্য সামছু মিয়া, শাহ জাহান মিয়া, ফখরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী সেফু।
প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ১টি ২১ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন, দ্বিতীয় পুরস্কার ১টি সিলিং ফ্যান ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ১টি মোবাইল প্রদান করা হয়।
ঢাকা/আজহারুল/ইমন
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
কলকাতায় ঈদের নামাজের আগে স্বাধীন ফিলিস্তিনির দাবিতে মিছিল
সারা ভারতসহ পশ্চিমবঙ্গে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ঈদের জামাতে সামিল হন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার রেড রোডে। নামাজে ইমামতি করে কাজি ফজলুর রহমান। লাখো মুসল্লি এতে অংশ নেন। এছাড়াও নাখোদা মসজিদ, টিপু সুলতান মসজিদ, পার্ক সার্কাস, ময়দান, খিদিরপুরসহ রাজ্যের অসংখ্য মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষেই একে অপরকে আলিঙ্গন, কুশল বিনিময় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
তবে ঈদের নামাজ শুরুর আগেই স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দাবি করে কলকাতায় সংহতি মিছিলে অংশ নেন মুসল্লিরা। হাতে ব্যানার এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিল মিছিলটি। বিশাল মিছিল নিয়ে কলকাতার রেড রোডে প্রবেশ করেন মুসল্লিরা। বড়দের পাশাপাশি অনেক বাচ্চারাও সেই মিছিলে শামিল হয়।
ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারী শেখ আমির নামে এক মুসুল্লি জানান, ‘আজকে আমাদের খুশির দিন, আনন্দের দিন। কিন্তু ফিলিস্তিনে আমাদের ভাই-বোনেদের সঙ্গে যে অন্যায় হচ্ছে তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তারাও যেন শান্তিতে থাকতে পারেন। আমরা যেভাবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করছি, ঠিক সেভাবে তারাও যেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ পালন করতে পারেন। আমি যেমন আমার বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে এসে নামাজ আদায় করছি, ঠিক তারাও যেমন এ রকম করতে পারেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে অত্যাচার এবং জুলুম হচ্ছে। নিরপরাধ বাচ্চাদের হত্যা করা হচ্ছে সেটা কি অপরাধ নয়? ইসরায়েলের উচিত ওই বাচ্চাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা। ইসরায়েলের আক্রমণে যেসব বাচ্চারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমরা আজ রাস্তায় নেমেছি।’
পরে রেড রোডের ঈদের নামাজে অংশ নেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী জাভেদ খান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা প্রমুখ।
পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ঈদ পালিত হচ্ছে দিল্লি, লখনৌ, হায়দ্রাবাদ, মুম্বাই, জম্মু-কাশ্মীর, ভোপাল, পাটনাসহ দেশের প্রতিটি শহরে। দিল্লির জামা মসজিদে হাজার হাজার মুসল্লি নামাজে অংশ নেন।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের নাগপুরে দুইটি গোষ্ঠীর সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ঈদ উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল নাগপুর, মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে। নাশকতা এড়াতে দিল্লিসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শহরেই ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি।
এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা যায়।