Samakal:
2025-04-03@03:01:13 GMT

কেন নির্বাচনের তর সইছে না

Published: 14th, January 2025 GMT

কেন নির্বাচনের তর সইছে না

গত বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে ধারণা দিয়েছিলেন। কিছু রাজনৈতিক দল, বিশেষত বিএনপি বারবার জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি জানতে চাওয়ার মধ্যেই তিনি ওই সময়ের কথা বলেন। কিন্তু এক মাস পর এসে বিএনপি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জানাল, এক থেকে দেড় বছর সময় মানে অনেক বিলম্ব। তারা চলতি বছর জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন চায়।

কেন দ্রুত নির্বাচন দরকার? বিএনপি বলছে– ‘যত বিলম্ব হচ্ছে, ততই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচিত সরকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ (সমকাল, ১৪ জানুয়ারি ২০২৫)। তারা প্রকারান্তরে যা বলতে চাইছে, নির্বাচন হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।
বিএনপির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, এখনকার রাজনৈতিক সংকট কী? সে বিষয়ে তারা কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য দেয়নি। এখন রাজপথে রাজনৈতিক আন্দোলন, হরতাল-ধর্মঘট ইত্যাদি নেই; সংঘাত-সহিংসতা সেভাবে ঘটছে না; দলীয় রেষারেষিও তেমন দেখা যাচ্ছে না। তাহলে ‘রাজনৈতিক সংকট’ কোথায়? দলীয় নেতাকর্মী সরকারি পদ-পদবিতে নেই, সেটিই কি সংকট?
আমরা দেখতে পাচ্ছি, শুধু এমপি-মন্ত্রীর পদগুলোতে কোনো দলীয় লোক নেই। বাকি প্রায় সব জায়গায় দলীয় লোকের দাপট। পুলিশ-প্রশাসনেও রাজনৈতিক ধ্বজাধারীদের ক্ষমতায়ন। সারাদেশের মাঠঘাট, বাজার, স্ট্যান্ড-স্টেশনসহ ‌‘উপার্জন’-এর সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক লোকজন ক্ষমতায়িত।

ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান-মেম্বার রয়েছেন; উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধিরা নেই। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে, সত্য। তবে সেগুলোতেও প্রশাসক থাকায় মোটাদাগে দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালুই আছে। খালি জায়গাগুলো পূরণের জন্য বিভিন্ন মহল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে করার দাবি আছে। কিন্তু বিএনপির আবার সে ক্ষেত্রে উল্টো মত। তারা আগে স্থানীয় নির্বাচন চায় না।

তাহলে বিএনপি কি প্রকারান্তরে এটিই বলছে না, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলেই রাজনৈতিক সংকট কেটে যাবে? রাজনীতি যদি জনগণের জন্য, জনগণের সঙ্গে কাজ করা হয়, তাহলে স্থানীয় সরকার কি রাজনীতির বড় অংশ নয়? শুধু এমপিদের অভাবই রাজনৈতিক সংকট?
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার দেশ চালায় না। দেশ চালায় জাতীয় সংসদ।’ সংবিধান বা আইনানুগভাবে যদি দেখি, আসলেই কি এমপিরা দেশ চালান? তারা আইনপ্রণেতা মাত্র; দেশের জন্য ভালো-মন্দ আইন তৈরি করেন। কিন্তু আমাদের পুরোনো ধারার রাজনৈতিক দলগুলো তার বদলে এমপিদের বানিয়েছে নির্বাচনী এলাকার ‘রাজা’। বিএনপির ভাষ্যে সেই হারানো সুরই পাওয়া যাচ্ছে।

দেশ চালায় সরকার; আইনসভা পথনির্দেশনা তৈরি করে। দৈনন্দিন কাজকর্মে এমপি নয়; জনগণের প্রয়োজন স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি। ফলে জনগণের দিক থেকে দেখলে স্থানীয় সরকারকে ছোট করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
আরেকটি বিষয় খেয়াল করা দরকার। নেতারা প্রায়ই বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো জাতীয় সংসদ।’ জাতীয় সংসদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গণতন্ত্রের এটাই কি মূল? গণতন্ত্রের মূল বিষয় কি জনগণের ক্ষমতায়ন নয়? হ্যাঁ, এমপিরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে। কিন্তু তার আগে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, আলোচনা, মতবিনিময় কি তারা করেন? জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার কথা তারা কীভাবে জানেন? এক দিনের ভোটেই কি জনগণ সত্তা বিসর্জন দিয়ে দেয়? গণতন্ত্র কার্যকর করতে হলে এসব বিষয়েই বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। 

যেসব রাজনৈতিক দল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, তারা জনগণের ক্ষমতায়ন নিয়ে কি মতবিনিময় করছে জনগণের সঙ্গে? সে রকম কোনো কর্মসূচি আজও দেখা যায়নি। রাষ্ট্রের সর্বত্র জনগণের মর্যাদা ও ক্ষমতা বৃদ্ধির তৎপরতা চোখে পড়েনি। শুধু ভোটকেই মূল বিষয়ে পরিণত করা পুরোনো ব্যবস্থার ভেতরে থাকার কূট কৌশল।
ধরে নিলাম, ভোট হলে বিএনপি সরকার গঠন করবে। কিন্তু তারা নির্বাচনের পর সংস্কারের যে কথা বলছে, সেসব বাস্তবায়নের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা কি পাবে? কিংবা সংবিধান সংশোধন বা পরিবর্তনের ম্যান্ডেট নিয়ে কি তারা ক্ষমতায় যাবে? যদি বিএনপিকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার করতে হয়, তাহলে তার উদ্যোগ এখনই শুরু করতে দোষ কোথায়? প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও গণতান্ত্রিক বা গণতন্ত্রমনা করে তুলতে হবে। সে রকম কর্মসূচি নিতে হবে। শুধু সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তা হবে না।

গত বছর ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ‘ডামি ভোটের’ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি; ঠেকাতেও পারেনি। দলটি বলতে গেলে চুপসে যায় এবং ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এক অর্থে প্রাণ ফিরে পায়। রাষ্ট্র কাঠামোর ভেতরে নানা ক্ষেত্রে সুবিধাভোগীও হয়ে ওঠে। এখন জুলাইয়ের মধ্যে ভোট চাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই জুলাই-আগস্টে নির্বাচন হয়নি; কারণ তখন ভরা বর্ষাকাল। আমাদের নির্বাচনের মৌসুম সাধারণত অক্টোবরের শেষ থেকে মার্চের প্রথম দিক। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বিবেচনায় নির্বাচনের আয়োজন হয় না।
ফলে বিএনপি যে ভরা বর্ষাকালে নির্বাচনের কথা বলছে, সেটিও সুবিবেচনার পরিচায়ক নয়। এর পরও সেই সময়ই নির্বাচন আয়োজনের দাবির অর্থ হতে পারে– তারা নিজেরা কোনো চাপ অনুভব করছে। হতে পারে, বিলম্ব হওয়া মানে তাদের নির্বাচনী ভাবমূর্তি ক্ষয়ে যাওয়ার ভয়। কারণ নেতাকর্মীর ‘কীর্তি’ সামলানো যাচ্ছে না। আরেকটি কারণ হতে পারে, সরকারকেই চাপে রাখা, যাতে নির্বাচন জুলাইয়ে না হলেও ডিসেম্বরে হয় কিংবা নিদেনপক্ষে সরকার তার ঘোষিত সময়সীমার বাইরে না যায়।

অর্থনৈতিক সংকট প্রসঙ্গে না বললেই নয়। বিগত সরকারের ব্যাপক দুর্নীতি, পাচার, স্বেচ্ছাচার অর্থনীতিকে যে তলানিতে নামিয়েছে, সেখান থেকে দ্রুত টেনে তোলার জাদুর কাঠি কি বিএনপির কাছে আছে? যদি থাকে, জনগণের স্বার্থে কেন তা ব্যবহার করছে না বা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসছে না? তারা যেহেতু জনগণের জন্যই রাজনীতি করে, সেহেতু জনগণের মঙ্গলার্থে করণীয়গুলো নিয়ে এগিয়ে আসাও তাদের কর্তব্য। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তাদের রাজনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে; প্রতিদানে হলেও তাদের কিছু করণীয় নিশ্চয় থাকা উচিত।

রফিকুল রঞ্জু: অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক, সমকাল

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

কোন কোন উপদেষ্টাকে সরাতে বলেছেন মির্জা ফখরুল

শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির টক্কর লেগে আছে। আবার সরকারও যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়, সে কথা হাবেভাবে উপদেষ্টারা জানিয়ে দিচ্ছেন। বিএনপি যখনই দ্রুত নির্বাচনের দাবি সামনে আনে; ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়,  সংস্কারের আগে কোনো নির্বাচন নয়।

সংস্কার ও নির্বাচন পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়। তারপরও কেউ কেউ এটাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে যে বিএনপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একটা টানপোড়েন চলছে, এটা স্পষ্ট। সংস্কার নিয়ে সরকারের সঙ্গে  রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকেও কোনো আশার বাণী শোনা যাচ্ছে না।  যে যার অবস্থানে অনড় আছেন।

ছাত্রনেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন বন্দোবস্তের কথা বললেও তাদের কৌশল ও আচরণে পুরোনো রাজনীতির ধারাই বহমান। এনসিপি বলেছে, বিচার ও সংস্কার শেষ হোক, তারপর নির্বাচন। বিএনপির  দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেটুকু সংস্কার দরকার, সেটুকু করা হোক। এর বেশি তারা মানবে না।
বিএনপির প্রবল চাপ সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। অনেকে বলবেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার দায়িত্ব কমিশনের। কিন্তু তারা যখন ডিসেম্বের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সেই পুরোনো কথাই শোনালেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।

এর আগে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চাইলে চলতি বছরের শেষে এবং বেশি সংস্কার চাইলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আবার সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ ডিসেম্বর বা মার্চের কথাও বলেছেন। ডিসেম্বর, মার্চ ও জুনের গোলক ধাঁধা থেকে সরকার কবে বেরিয়ে আসবে?

বিএনপির নেতারা সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও সন্দেহ করেছেন। এর কারণ নতুন করে কেউ কেউ জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এনসিপির একজন নেতা পাঁচ বছর মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে তাঁকে তো নির্বাচিত হতে হবে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতারা  রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সরকার  গঠনের প্রস্তাব দেন, তখন বিএনপি রাজি হয়নি। ফলে অন্যান্য দলকেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অরাজনৈতিক চরিত্রের একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেটাই সঠিক ছিল। কিন্তু এরপরই আন্দোলনকারী ছাত্রপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তিনজনকে উপদেষ্টা করা হলে অরাজনৈতিক সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র পায়।

বিএনপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধের এটাও  অন্যতম কারণ। দ্বিতীয়ত যেই ছাত্রনেতৃত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিল, তারাও কয়েক ভাগে বিভক্ত। কেউ দল করেছেন, কেউ আগের অবস্থানে অনড় আছেন, কেউ সাংস্কৃতিক মঞ্চ করেছেন। এদের বাইরে আরেকটি গ্রুপ এনসিপির বাইরে আরেকটি নতুন দল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে মতভেদ আছে বলেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। একপক্ষ মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দিয়ে যৌক্তিক সময়ে বিদায় নেওয়াই তাদের কর্তব্য। কিন্তু অপর পক্ষের ধারণা, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে ফের স্বৈরাচারের পুনরাগমন ঘটবে। কেবল একটি নির্বাচন করার জন্য এত বড় গণঅভ্যুত্থান হয়নি। তাদের বক্তব্যে এনসিপির নেতাদের প্রতিধ্বনি আছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃত্ব।

এ পটভূমিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের আগের দিন রোববার সংবাদ সম্মেলন করে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, এমন উপদেষ্টাদের অপসারণ চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উচিত, সেই সব উপদেষ্টার অপসারণ করা, যাঁরা তাঁর সরকারের নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।’

মির্জা ফখরুল কোনো উপদেষ্টার নাম বলেননি। তবে এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ‘আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকার নিরপেক্ষতা হারালে বিএনপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা সরকারের পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করি, বিশেষ করে অধ্যাপক ইউনূসের কাছ থেকে। যদি তিনি অনুভব করেন যে তাঁর মন্ত্রিসভার( উপদেষ্টা পরিষদের) কেউ নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন, তবে তাঁদের অপসারণ করা উচিত। তাঁকে (ড. ইউনূস) সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকতে হবে। যদি প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তাহলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হবে যে এ সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’

কথায় বলে বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। বিএনপির মহাসচিব কাদের ইংগিত করেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার করে থাকেন, সেটা নিশ্চয়ই সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করে’।  রাজনৈতিক সরকারের সময়ে নির্বাচনী বৈতরণী পর হতে দলীয় নেতাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হতো বা প্রকল্প নেওয়া হতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের তো কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ থাকার কথা নয়। তারপরও বিশেষ বিবেচনায় কোথাও কোথাও বরাদ্দ হচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আপত্তি সেখানেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশে অস্থিতিশীলতা এবং ‘জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ’ দেখা দেবে। তাঁর মতে, ডিসেম্বর হচ্ছে সর্বসম্মত সময়সূচি। নির্বাচন এর পরে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেবে।’

রয়টার্স বলছে, শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পলাতক থাকায় আওয়ামী লীগ কার্যত ভেঙে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছাত্রনেতারা বাংলাদেশের প্রাচীন দল দুটির বাইরে এসে নতুন করে পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময়ের সময় আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন,  একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন পন্থা বের করছে; কিন্তু ফ্যাসিস্টরা দাঁড়াতে পারেনি। এই শক্তিও যাতে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রস্তুত রয়েছে।

তিন জ্যেষ্ঠ নেতার বক্তব্য থেকে এটাই ধারণা করা যায় যে তারা ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রশ্নে বিএনপি ছাড় দিতে নারাজ। এর আগে দলের একাধিক নেতা গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে যাওয়ারও ইংগিত দিয়েছেন।

নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে মতভেদ আছে বলেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। একপক্ষ মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দিয়ে যৌক্তিক সময়ে বিদায় নেওয়াই তাদের কর্তব্য। কিন্তু অপর পক্ষের ধারণা, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে ফের স্বৈরাচারের পুনরাগমন ঘটবে। কেবল একটি নির্বাচন করার জন্য এত বড় গণঅভ্যুত্থান হয়নি। তাদের বক্তব্যে এনসিপির নেতাদের প্রতিধ্বনি আছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃত্ব।

তাহলে কি আমরা আরেকটি অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছি?

সোহরাব হাসান, কবি ও প্রথম আলোর যুহ্ম সম্পাদক

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সংস্কার-নির্বাচন নিয়ে বিএনপিকে টার্গেট করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
  • ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত মিয়ানমারকে ৩০ লাখ ডলার অনুদান দেবে এডিবি
  • কখনো বলিনি, আগে নির্বাচন, পরে সংস্কার: মির্জা ফখরুল 
  • বিএনপি কখনো বলেনি আগে নির্বাচন পরে সংস্কার, ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে: মির্জা ফখরুল
  • কোন কোন উপদেষ্টাকে সরাতে বলেছেন মির্জা ফখরুল
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান খালেদা জিয়ার
  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: খালেদা জিয়া
  • ফ্যাসিস্টমুক্ত এই বাংলাদেশ যাতে কেউ পরিবর্তন করতে না পারে: আমীর খসরু
  • একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন পন্থা বের করছে: আমীর খসরু
  • আশা করি অন্তবর্তী সরকার জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করবে: মির্জা ফখরুল