Samakal:
2025-04-03@03:50:27 GMT

সোয়েটারে কার্ডিগানে

Published: 14th, January 2025 GMT

সোয়েটারে কার্ডিগানে

শীতে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ পোশাক পরা যায়। ইচ্ছেমতো নিজেকে ফ্যাশনেবল করে উপস্থাপন করা যায়। হাতের কাছেই যদি থাকে রং ও বাহারি ডিজাইনের সোয়েটার কিংবা কার্ডিগান, তাহলে তো কথাই নেই। সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস, ক্রপটপ ইত্যাদি পোশাকের ওপর পরা যায় সোয়েটার ও কার্ডিগান


শীত কারও কাছে খুব আনন্দের, আবার কারও কাছে বিষাদের। যেসব এলাকায় প্রচণ্ড শীত পড়ে, সেসব এলাকার মানুষের জীবনযাপন বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক কঠিন ও জটিলতার মধ্যেও ভালো বিষয় হলো শীতে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ পোশাক পরা যায়। ইচ্ছেমতো নিজেকে ফ্যাশনেবল করে উপস্থাপন করা যায়। হাতের কাছেই যদি থাকে রং ও বাহারি ডিজাইনের সোয়েটার কিংবা কার্ডিগান, তাহলে তো কথাই নেই। সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস, ক্রপটপ ইত্যাদি পোশাকের ওপর পরা যায় সোয়েটার ও কার্ডিগান। 
যখন বাহারি নিয়মিত পোশাকের সঙ্গে প্রিয় শীতের পোশাকটি বেছে নেওয়ার চিন্তা মাথায় ঘুরঘুর করবে, তখন আপনার মনে আচমকা এ প্রশ্ন আসতে পারে– সোয়েটার ও কার্ডিগানের মধ্যে কোনটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি মানাবে? আসলে এটি আপনার আরামের চাহিদা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং শীতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করবে। যেসব এলাকায় প্রচণ্ড শীত পড়ে, সেসব এলাকায় বসবাসকারীরা নিঃসন্দেহে মোটা ও ভারী কাপড়ের সোয়েটার কিংবা কার্ডিগান বেছে নিতে পারেন। আবার নরম শীতে কিছুটা হালকা ওজনের শীতপোশাক বেছে নেওয়াই ভালো। পৌষের শেষের দিনগুলোয় শহরে খুব একটা শীতের দাপট অনুভব করা যায়নি। দুপুরের রোদের ঝলকানিতে শীতের অস্তিত্ব বোঝা যায়নি। আজ শুরু হলো মাঘ মাস। মাঘের শীতে নাকি বাঘও কাঁপে। দেখা যাক, এবারের শীত কতটা ভোগায়? সে আলোচনা বরং টেবিলের এক পাশে রেখে দিই। কথা হচ্ছিল সোয়েটার ও কার্ডিগান নিয়ে।   
সোয়েটার: তীব্র শীতে এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী 
সোয়েটার এমন পোশাক, যা শীতের কনকনে ঠান্ডা থেকে আমাদের শরীরকে রক্ষা করে এবং আরামদায়ক উষ্ণতা দেয়। সাধারণত সোয়েটার পুলওভার স্টাইলে তৈরি হয়, যা সহজে মাথা দিয়ে পরা যায়। এর ক্ল্যাসিক ডিজাইন আর মোলায়েম আরামদায়ক কাপড় শীতকালের জন্য একেবারে আদর্শ। শুধু উষ্ণতাই নয়, সোয়েটার শীতকালীন ফ্যাশনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 
জনপ্রিয় সোয়েটারের ধরন
হাই নেক সোয়েটার: এ ডিজাইনটি অতিরিক্ত শীত মোকাবিলার জন্য অসাধারণ। এটি ব্যবহারকারীর গলা ঢেকে রাখে, যা তীব্র শীত থেকে দারুণ সুরক্ষা দেয়। 
ক্রু নেক সোয়েটার: প্রতিদিনের ক্যাজুয়াল লুকের জন্য এ ডিজাইনটি জনপ্রিয়। এটি সাধারণ ডিজাইনের হলেও বেশ মানানসই এবং আরামদায়ক। 
ওভারসাইজড সোয়েটার: আধুনিক ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এটি আরামদায়ক একটি পছন্দ। বিশেষ করে শীতের সন্ধ্যায় ট্রেন্ডি লুক আনতে এটি আদর্শ। 
ভি-নেক সোয়েটার: অফিস বা ফরমাল লুকের জন্য এটি চমৎকার। শার্টের সঙ্গে বেশ মানানসই। 
সোয়েটারের সুবিধা: প্রচণ্ড শীতে সোয়েটার সত্যিই নিখুঁত সঙ্গী। কারণ উল, কাশ্মীর বা মিক্সড ফেব্রিকের সোয়েটার ঠান্ডা বাতাস থেকে পুরো শরীরকে ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখে। এর ক্ল্যাসিক ডিজাইন কখনও পুরোনো হয় না; সবসময় ফ্যাশনেবলও থাকে। সঠিকভাবে যত্ন নিলে সোয়েটার অনেক বছর ভালো থাকে। এ ছাড়া উলের সোয়েটার যেমন উষ্ণতা দেয়, কাশ্মীর সোয়েটারও একদম আরামদায়ক এবং প্রিমিয়াম লুক দেয়, যা শীতে আপনাকে শুধু উষ্ণই রাখে না, আপনার স্টাইলও বাড়িয়ে দেয়। 
সীমাবদ্ধতা: সোয়েটার খুলে রাখা একটু ঝামেলা। কারণ, এটি পুলওভার স্টাইলে তৈরি। গরম পরিবেশে ঢুকলে বা গরম লাগলে এটি খুলতে কিংবা পরতে সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া এটি কার্ডিগানের মতো সব জায়গায় মানিয়ে যায় না। তাই অল্প শীতে কার্ডিগান বেশি উপযোগী। 
কার্ডিগান: বহুমুখী এবং স্টাইলিশ
কার্ডিগান এমন একটি শীতকালীন পোশাক যেটি সামনের দিকে খোলা থাকে। বোতাম বা জিপার দিয়ে এটি সহজেই খোলা বা বন্ধ করা যায়। এটি হালকা শীতের জন্য উপযুক্ত এবং যে কোনো পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। 
জনপ্রিয় কার্ডিগানের ধরন 
লং কার্ডিগান: লং কার্ডিগান ট্রেন্ডি ও স্টাইলিশ। এটি শীতকালে একটি আলাদা লুক এনে দেয় এবং লেয়ারিংয়ের জন্য দারুণ। 
শর্ট কার্ডিগান: হালকা শীতের জন্য আদর্শ। এটি ক্যাজুয়াল আউটফিটের সঙ্গে বেশ মানানসই। 
বেল্টেড কার্ডিগান: আধুনিক এবং ইউনিক লুক আনতে জনপ্রিয়। ফ্যাশনপ্রেমীরা এটি পছন্দ করেন। 
ওপেন ফ্রন্ট কার্ডিগান: কোনো বোতাম বা জিপার ছাড়া খোলা স্টাইলে থাকে, যা সহজেই যে কোনো পোশাকের ওপর পরা যায়। 
কার্ডিগানের সুবিধা: কার্ডিগান সহজে খোলা বা পরা যায়, যা বেশ আরামদায়ক। এটি বহুমুখী, অর্থাৎ অফিস, পার্টি বা ইনডোর পরিবেশে যে কোনো জায়গায় পরা যায়। হালকা শীত বা ঠান্ডা পরিবেশে এটি খুবই কার্যকর, বিশেষ করে ইনডোরে। এর সঙ্গে লং, শর্ট বা বেল্টেড কার্ডিগানের বিভিন্ন ডিজাইন একদম স্টাইলিশ এবং ফ্যাশনেবল, যা আপনাকে নতুন একটি লুক দিতে সাহায্য করে। 
সীমাবদ্ধতা: কার্ডিগানের বড় সীমাবদ্ধতা হলো, এটি তীব্র শীতে আপনাকে পুরোপুরি উষ্ণ রাখতে পারবে না। অতিরিক্ত ঠান্ডার দিনে আপনি যদি শুধু একটা কার্ডিগান পরেন, আপনার শীত কমবে না। এ জন্য তখন আপনাকে সোয়েটার বা জ্যাকেটের মতো আরও কিছু ভারী পোশাক সঙ্গে পরতে হবে। 
সোয়েটার নাকি কার্ডিগান: কোনটি বেছে নেবেন? 
শীতে উষ্ণতা আর ফ্যাশনের মিশেলে সোয়েটার ও কার্ডিগান দুটিই দারুণ। তবে কোনটি বেছে নেবেন, তা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজন, পরিবেশ আর পছন্দের ওপর। 
সোয়েটার গভীর শীতে আপনাকে উষ্ণতা দেয়। এটি সাধারণত আরামদায়ক এবং দীর্ঘসময় ব্যবহারোপযোগী। অন্যদিকে, কার্ডিগান হালকা শীতের জন্য ভালো। এটি সহজে খোলা যায় এবং যে কোনো পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। ছেলেদের জন্য সোয়েটারের সহজ ডিজাইন বেশি জনপ্রিয়। মেয়েরা কার্ডিগানের স্টাইলিশ আর ট্রেন্ডি লুক পছন্দ করেন, বিশেষ করে লং বা বেল্টেড কার্ডিগান। যদি আপনি ঠান্ডা এলাকায় থাকেন, সোয়েটারই সেরা। হালকা শীতের দিনে ফ্যাশনের জন্য কার্ডিগান আদর্শ। প্রয়োজন আর পছন্দ অনুযায়ী শীতের জন্য দুটোই সংগ্রহে রাখুন। 
অনেক আলোচনা তো হলো। এবার চলুন জেনে আসি বাহারি নকশা ও ট্রেন্ডি সোয়েটার ও কার্ডিগান কোথায় পাবেন? যে কোনো মার্কেট, বিভাগীয় শহরের ভালো শপিং মলে পছন্দের সোয়েটার ও কার্ডিগান পেয়ে যাবেন। রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটেও পাবেন শীতের পোশাক। এ ছাড়া পরিচিত ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোয় ঢুঁ মারলেই সোয়েটার ও কার্ডিগানের সন্ধান মিলবে।  
ফ্যাশন হাউস বি২’র এবারের শীতকালীন কালেকশনে রয়েছে উল, কটন এবং মিক্সড ফেব্রিকের আরামদায়ক ও নজরকাড়া সোয়েটার, কার্ডিগান; যা মানসম্মত হলেও দামে বেশ সাশ্রয়ী। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সুশ্রিতা পোদ্দার বীথি জানান, ‘৬৯৫ টাকা থেকে শুরু করে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী পোশাক সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের নতুন কালেকশন ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও আধুনিক ডিজাইনের মিশ্রণ, যা শীতের প্রতিদিনকে আরও আরামদায়ক ও স্টাইলিশ করে তুলবে।’ 
যত্ন
সোয়েটার, কার্ডিগান পরার পর প্রতিদিন ধুতে হবে এমন বালাই নেই। ময়লা হলে ঠান্ডা পানিতে গুঁড়া সাবান গুলিয়ে কাচলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ভুলেও গরম পানিতে এ ধরনের উলের পোশাক ধোবেন না। এতে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। 
সোয়েটার ও কার্ডিগান কখনও ইস্তিরি করতে যাবেন না। কেননা উলের পোশাক কুঁচকে যায় না। তাই ইস্তিরির প্রয়োজনও নেই। ধোয়ার পর এমন জায়গায় সোয়েটার, কার্ডিগান শুকাতে দিন, যেখানে সরাসরি রোদের আলো পড়ে না। অর্থাৎ কিছুটা ছায়াযুক্ত স্থানে শুকালেই এ ধরনের পোশাক ভালো থাকবে। 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

সারাদিন কাঠফাটা রোদ, রাতে কাঁথামোড়া শীত

চৈত্র মাসে কাঠফাটা রোদই স্বাভাবিক। দিনের বেলায় হচ্ছেও তাই। কিন্তু রাত নামছে ভিন্ন আয়োজনে। যেন পৌষের শীত! সকালে তার রেশ থাকে কুয়াশা হয়ে। এই চিত্র কেবল উত্তরের জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারীতে নয়; দক্ষিণের খুলনা, দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা কুষ্টিয়া, চূয়াডাঙ্গা; সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবেষ্টিত উপজেলাগুলোর চিত্রও তাই।

বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এসব এলাকায় রাতে শীতের আবহ বিরাজ করছে। সকাল ঢেকে থাকছে কুয়াশায়। গতকাল বুধবার ঠাকুরগাঁওয়ে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।

ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও বেড়াতে গেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। তিনি সমকালকে বলেন, ঢাকায় ফ্যান ছাড়া ঘুমাতে পারি না। আর গ্রামে এসে কাঁথা গায়ে দিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। ফজরের নামাজের পর কুয়াশা পড়ে। এর আগে এই সময়ে এমন ঘন কুয়াশা খুব একটা দেখা যায়নি। দিনে আবার উল্টো চিত্র; কাঠফাটা গরম।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস সালাম বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে উত্তরাঞ্চলে কুয়াশার প্রভাব বেশি যাচ্ছে। এর প্রভাবে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় রাতে কনকনে শীতের ভাব থাকে‌। তবে দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকে। এ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো বসন্তে শীতের কুয়াশা পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে চৈত্রের এই রূপ। কোথাও বেশি, কোথাও কম। আবার অসময়ে তাপপ্রবাহও শুরু হচ্ছে। এটিকে তারা ঋতু পরিবর্তনের ধারায় পরিবর্তন বলছেন। তাদের ভাষ্য, জলবায়ু বদলের কারণেই এমনটি হচ্ছে। এই বিরূপ প্রকৃতি উদ্বেগেরও। কারণ এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে গাছগাছালির। বাড়বে ফসলের রোগবালাই।

গতকাল সকালে পঞ্চগড়ের পথঘাটও ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছরে এমন কুয়াশা তারা দেখেননি। এলাকায় জ্বর, সর্দিসহ নানা রোগের কথাও জানালেন কেউ কেউ।

আবহাওয়া অফিস জানায়, পঞ্চগড়ে গতকাল সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে মঙ্গলবার দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আকাশে জমা মেঘ কুয়াশা হয়ে ঝরছে। আবার বাতাসে ধূলিকণা বেশি ও আর্দ্রতা কম থাকছে। আরও কয়েক দিন এমন অবস্থা চলতে পারে বলে জানান তিনি।

দিনাজপুরে কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায় রোদে গা পুড়ে যাচ্ছে। গভীর রাতে বাড়ে ঠান্ডা। নীলফামারীতে দিনের আবহাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও শেষ রাতে তাপমাত্রা অর্ধেকে নেমে আসে।

রাজশাহীর গ্রামাঞ্চল কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক উম্মে ছালমা বলেন, এমন কুয়াশা রাজশাহীর আমের মুকুল ও গুটির জন্য ক্ষতিকর। আমের মুকুলে ‘পাউডারি মিলডিউ’ নামে এক ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। এতে মুকুল ঝরে পড়ছে।

গত সোমবার নোয়াখালীর সুবর্ণচর হঠাৎ কুয়াশায় ঢাকা পড়ে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। মাঝারি ও ঘন কুয়াশায় সামান্য দূরের জিনিসও দেখা যাচ্ছিল না। চৈত্র মাসে এমন ঘন কুয়াশায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বোরো চাষিরা। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চাষি মাহফুজুল হক বলেন, এবার চার একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। বেশির ভাগ গাছে শীষ বের হয়েছে। হঠাৎ ঘন কুয়াশার কারণে চিন্তায় পড়েছি।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছাইফুল আলম জানান, বিভিন্ন এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা পড়ার খবর পাচ্ছি। কুয়াশা দীর্ঘ সময় ধরে পড়লে বোরো ফসল ব্লাস্টে আক্রান্তের আশঙ্কা আছে।

কুয়াশা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা বলছে, বায়ুমণ্ডলে তাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত থাকে, ভোরের দিকে শীতল হয়। ওই সময়টায় বাতাস জলীয় বাষ্প ধারণ করতে না পারায় তা কুয়াশা আকারে ভেসে বেড়ায়।

আবহাওয়াবিদরা জানান, কেবল চলতি বছর নয়, গত ১০-১২ বছর মার্চ মাসজুড়েই এমন কুয়াশা থাকছে এবং অসময়ে তাপপ্রবাহ শুরু হচ্ছে। এটিকে তারা ‘সিজনাল প্যাটার্ন চেঞ্জ’ (ঋতু পরিবর্তনের ধারায় পরিবর্তন) বলছেন। এই পরিবর্তনটাকে তারা ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ বলে মনে করছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল জলবায়ু : আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সালের প্রবণতা এবং পরিবর্তন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও নরওয়ের পাঁচজন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ গত ৪৩ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষণাটি করেন। এতে দেখা যায়, প্রতি ঋতুতে তাপমাত্রা আগের তুলনায় বাড়ছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু দেরিতে প্রবেশ করায় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বর্ষাকাল পিছিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় মার্চের শেষ সপ্তাহেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশা দেখা যাচ্ছে, শীত অনুভূত হচ্ছে। এর মূল কারণ হিসেবে দূষণকে চিহ্নিত করেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম বলেন, এই কুয়াশা তৈরির পেছনে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য দায়ী। এবার রাতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আগেই কুয়াশা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। আর বাতাস কম থাকায় কুয়াশা সরে যেতে পারছে না। তিনি জানান, এ সময় ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং চীনেও কুয়াশা তৈরি হচ্ছে।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, এক সপ্তাহ আগে রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে ওইসব জেলার মাটিতে কিছুটা আর্দ্রতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় ভূপৃষ্ঠ কয়েক ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডা হয়েছে। এর মধ্যে হঠাৎ এসব জেলার ঊর্ধ্ব আকাশ দিয়ে গরম বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। শীতকালে যেমন মানুষের মুখ ও নাক থেকে বের হওয়া গরম বাতাস বাইরের শীতল বাতাসের সঙ্গে মিশে ধোঁয়ার সৃষ্টি করে, ঠিক একইভাবে এখন শীতকালের মতো কুয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও নীলফামারী প্রতিনিধি)

সম্পর্কিত নিবন্ধ