আদর্শ স্কুলের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দোয়া
Published: 14th, January 2025 GMT
নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ এর ৫০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) স্কুল প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।
আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ এর ম্যানেজিং কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান বাঙ্গালী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক সোসাইটি অফ নারায়ণগঞ্জের পরিচালক মাওলানা মঈন উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান শাহীন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মাওলানা আব্দুল জব্বার, ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসেন, আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ এর উপাধ্যক্ষ মাসুদ করিম মোল্লা, আদর্শ স্কুল এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য খন্দকার আবুল খায়ের ও রবিউল আলম খান, টিচার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদউদ্দিন আহমেদ, প্রাক্তন ছাত্র ও সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, প্রাক্তন ছাত্র ডা: মফিজুল ইসলাম, ইসলামীক সোসাইটি অফ নারায়ণগঞ্জের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম, মাওলানা ওমর ফারুকসহ স্কুলের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জের কিছু শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে আদর্শ মানুষ গড়ার লক্ষ্যে "আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জ" প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসলামিক সোসাইটি অফ নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক পরিচালিত আদর্শ স্কুল হচ্ছে আদর্শ মানুষ গড়ার কারখানা।
এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র, হামলা মামলার শিকার হতে হয়েছে। তারপরেও আদর্শ স্কুলের অগ্রযাত্রা কেউ ব্যাহত করতে পারেনি। আদর্শ স্কুলে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দেয়া হয় যাতে করে আদর্শ স্কুলে শিক্ষার্থীরা তাদের পরবর্তী জীবনে একজন ভালো আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠে।
এসময় ইসলামিক সোসাইটি অফ নারায়ণগঞ্জ এবং আদর্শ স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে স্কুলটিকে আগামীতে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সবশেষে স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষকমন্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
.উৎস: Narayanganj Times
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদের মোনাজাতে খালেদা জিয়ার নাম না বলায় ইমামকে যুবদল নেতার হুমকি
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ঈদের নামাজের পর এক দোয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করায় এক ইমামকে বরখাস্তের হুমকি দিয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা।
সোমবার (৩১ মার্চ) কাশিপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন চর কাশিপুরের আঞ্জুবাহার জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ ইমদাদুল হক।
তিনি অভিযোগ করেন, নামাজের দোয়ায় খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করায় ফতুল্লা থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈকত হাসান ইকবাল তাকে হয়রানি করেছেন।
ইমদাদুল হক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক। তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন যে তাকে “হয়রানি করা হয়েছিল এবং চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”
“ঈদের দিন ঈদগাহ থেকে মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরলাম.. “শিরোনামের তার পোস্টে, ইমদাদুল ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। স্থানীয় অনেকেই যুবদল নেতার আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং এরই মধ্যে পোস্টটি শতাধিক মানুষ শেয়ার করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কাশিপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। আখেরি মোনাজাতের সময়, ইমাম দেশ ও জাতির মঙ্গল এবং সকল অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনা করেন। তবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করেননি।
নামাজের পর, যুবদল নেতা সৈকত হাসান ইকবাল এবং তার অনুসারীরা ইমাম ইমদাদুল হকের মুখোমুখি হন। অনুরোধ সত্ত্বেও ইমাম খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করায় ইকবাল ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি ইমামের সাথে তর্ক শুরু করেন, তবে অন্যান্য মুসলিম ব্যক্তিদের তীব্র আপত্তির মুখে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।
মুফতি মুহাম্মদ ইমদাদুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নামাজের আগে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক এবং ঈদগাহ কমিটির সদস্য তাকে খালেদা জিয়ার আরোগ্যের জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে, তিনি কোনও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করে সকল অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করার সিদ্ধান্ত নেন।
“আমি যথারীতি নামাজ আদায় করেছি এবং কারও নাম উল্লেখ করিনি কারণ এটি সকল রাজনৈতিক পটভূমির লোকদের নিয়ে একটি জনসমাবেশ ছিল। আমি সকলের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেছি, কিন্তু নামাজের পরে যুবদল নেতা ইকবাল আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। তিনি আমার সাথে আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলেন, আমি কেন তার নাম নেই নি তা জানতে চান।
ইমদাদুল হক স্থানীয় বিএনপি নেতাদের যুবদল নেতার অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা সৈকত হাসান ইকবালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করি নি। আমি কেবল জিজ্ঞাসা করেছি, অনুরোধ করার পরেও খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ করেননি কেনো।
তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, যে তিনি তা করতে বাধ্য নন। তারপর আমি তার চাকরি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি এবং পরে জানতে পারি তার মসজিদ কমিটির সভাপতি আমাদের ছোট ভাইদের একজন। ইমামকে বরখাস্ত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।