দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশনে পুলিশের অব্যাহতি পাওয়া এসআইরা
Published: 14th, January 2025 GMT
চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন করেছেন পুলিশের অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শকরা (এসআই)। গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু করা আমরণ অনশন মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চলছিল। গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে সারাদিন তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। দিনভর কোনো আশ্বাস না পেয়ে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন। দাবি আদায়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
অনশনরত অব্যাহতি পাওয়া এসআই নয়ন চন্দ্র দাস সমকালকে বলেন, ‘আমরা এক বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অব্যাহতি পেয়েছি। সবার পরিবার প্রচণ্ড হতাশায় দিন পার করছে। এরই মধ্যে আমরা আইজিপি, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন দিয়েছি যেন আমাদের পুনর্বহাল করা হয়। ৫ জানুয়ারি যখন আমরা সচিবালয়ের সামনে এসেছিলাম স্বরাষ্ট্র সচিব আমাদের বলেছিলেন তিনি আমাদের জন্য কাজ করবেন। কিন্তু এরপর এক সপ্তাহেও কোনো পদক্ষেপ না পেয়ে আমরা আবার এসেছি।’
আক্ষেপ করে নয়ন চন্দ্র দাস বলছিলেন, ‘রাজশাহীর সারদায় পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমিতে আজ (মঙ্গলবার) এসআইরা র্যাংক ব্যাজ কাঁধে নিয়েছেন। এদিকে আমাদের অনেকে সচিবালয়ের সামনে কাফনের কাপড় পরে শুয়ে আমরণ অনশন করছেন। সারদায় বুধবার তাদের পাসিং প্যারেড নেওয়ার কথা রয়েছে।’
অনশনরত অব্যাহতি পাওয়া আরেক এসআই মো.
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
নীলফামারীতে পুলিশ-সেনা সদস্যদের যৌথ টহল অব্যাহত
নীলফামারীতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঈদের পরও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) ঈদের পরের দিনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে নীলফামারী সদরের উত্তরা ইপিজেড, সৈয়দপুর বাসটার্মিনাল, শুটকির মোড় ও পাঁচ মাথা মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, হেলমেট ও লাইসেন্সবিহিন মোটরসাইকেল আরোহী, নছিমন, ভটভটি, প্রাইভেটকার ও বাসে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে।
নীলফামারীতে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফাহিম এহসান ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ওমর ফারুক এবং সৈয়দপুরে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা মজুমদারের নেতৃত্বে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
আরো পড়ুন:
প্রধান উপদেষ্টাকে ঈদ-নিরাপত্তার বিষয়ে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান
সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে: তারেক রহমান
এ সময় নীলফামারীর ইপিজেড পয়েন্টে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রশান্ত রায় ও সৈয়দপুর পয়েন্টে এসআই সুজন উপস্থিত ছিলেন।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফাহিম এহসান জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নীলফামারীতে জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা সদস্যরা ঈদের পরও নিরলসভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট পরিচালনার মুল উদ্দেশ্য হলো সচেতনতা বৃদ্ধিসহ মানুষ যেন নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এবং দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা সীমিত রাখা যায়।
সেনাবাহিনী সুত্র জানায়, গত ২ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বিভিন্ন ধরনের চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত দুই উপজেলায় ২৫২টি মামলায় ৮ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরমধ্যে নীলফামারীতে ১৪২টি মামলায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা এবং সৈয়দপুরে ১১০টি মামলায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা মজুমদার জানান, কার্যক্রমের ফলে জনগণের মাঝে আরো তৎপরতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চেকপোস্টের মাধ্যমে যানবাহনে লাইসেন্স না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া এবং হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদের সতর্ক করা হয়।
এছাড়াও বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।
ঢাকা/সিথুন/বকুল