মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে ১৮টি স্বর্ণের বারসহ নুর হোসেন (৪৮) নামের এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বিজিবি। আজ মঙ্গলবার সীমান্তের ১০৪ নম্বর পিলারের কাছ থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি ভারতের নদীয়া জেলার হৃদয়পুর গ্রামের মৃত সোনাই শেখের ছেলে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল সাঈদ মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান জানান, মুজিবনগর মাঠের মধ্য দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের সংবাদ পায় বিজিবি। এর ভিত্তিতে মেইন পিলার ১০৪ এর সাব পিলার ৫ এর কাছে অবস্থান নেন মুজিবনগর বিওপির টহল কমান্ডার হাবিলদার রফিকুল ইসলামসহ বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সন্দেহভাজন একজন বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করলে তাঁকে বিজিবি সদস্যরা দেখে ফেলেন। একপর্যায়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধাওয়া করেন তারা। পরে মাঠের মধ্য থেকে আটক করা হয় নুর হোসেনকে। তাঁর শরীর তল্লাশি করে কোমরের সঙ্গে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো তিনটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। সেগুলো খুলে ২ কেজি ১৮ গ্রাম ওজনের ১৮টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

হাবিলদার রফিকুল ইসলাম এ ঘটনায় বাদী হয়ে মুজিবনগর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্বর্ণের বারগুলো মেহেরপুর ট্রেজারি অফিসে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও তিনি জানান।

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কের খড়গ পড়লো বাংলাদেশের ওপর। বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ ধার্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (৩ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে এক সংবাদ সম্মেলনে আসে এই ঘোষণা। এদিকে, নতুন করে ন্যূনতম ১০ শতাংশ হারে ট্যারিফ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কের হার ছিলো গড়ে ১৫ শতাংশ। অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দেশের রপ্তানি বাজারে বিশেষ করে পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বড় অংশই তৈরি পোশাক। 

বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ২৯ শতাংশ শুল্ক। চীনা পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ শুল্ক। 

এছাড়া,  ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে। 

নতুন শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে।” তবে ট্রাম্পের এই শুল্ক আরোপকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ।

ঢাকা/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ