ম্যাপে একটা পথ দেখালো, সেখান দিয়েই হাঁটা শুরু করলাম। সরু খালের পাশ দিয়ে রাস্তা চলে গেছে, সেই খালে বিশাল সাইজের গুঁইসাপ। সঙ্গে লাগোয়া বসতবাড়িও আছে কিন্তু কেউ ভ্রুক্ষেপ করে না। ওদের কেউ না ঘাটালে ওরাও মানুষকে কিছু করে না। মানুষ আর প্রাণীকুলের সাথে শ্রীলঙ্কাবাসীর সহাবস্থান। হাতিকে তারা বেশ সম্মান করে ও ভালোবাসে।
কালো পানির সেই খাল পার করে পুরনো এক বাড়ির ভেতর দিয়ে আরেকটা রাস্তা পেলাম। কি সুন্দর ছোট ছোট মাটির টালি দেওয়া ঘর, সামনে ফুলের বাগান, নানা রঙের ফুল ফুটে আছে। শ্রীলঙ্কার বাড়িঘরগুলো খুব নজরকাড়া। বিখ্যাত স্থপতি জেফ্রি বাওয়া শ্রীলঙ্কার নান্দনিক সুন্দর স্থাপনাগুলোর নকশা করেছিলেন। তার কাজের প্রশংসা স্থপতি মহলে দিনে দিনে ছড়িয়ে পড়ে, দুনিয়াজুড়ে তার নাম হয়। ভালো কাজ আপন মনে করে যেতে হয়। কে বাহবা দিলো সেসবের আশায় না থেকে নিজেকে নিজের কাজের ব্যাপারে মনোযোগী হতে হয়।
ছায়াঘেরা সরু পথ দিয়ে ঘুরে ঘুরে পৌঁছে গেলাম ডিপ ব্লু ডাইভিং সেন্টারে। সেখানে পিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। বাংলাদেশ থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। জার্মান অধিবাসী ইয়ন আমাদের কোর্স নেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লো। এখন আমাদের কোর্স করাবে ভারতের ঋত্বিক জন। তার সঙ্গে পরিচিত হলাম এবং কোর্সের খুঁটিনাটি জেনে নিলাম। পরদিন বিকেল বেলা আমাদের গভীর জলে নামার প্রস্তুতির জন্য সি বিচের অগভীর জলে ক্লাস শুরু হবে। এর মধ্যে ম্যাথিউর সব রেডি হয়ে গেছে।
আগামীকাল ভোরবেলা সে কলম্বো নামবে, এরপর আমার সঙ্গে যোগ দেবে। আমি হেঁটে হেঁটে গোধূলির শেষ বিন্দু দেখা পর্যন্ত বিচে বসে রইলাম। স্বচ্ছ আর টলটলে পানি, অনেকদূর পর্যন্ত তলদেশ দেখা যাচ্ছে। ইয়োরোপীয়ানদের বিচরণ সর্বত্র। স্বল্প বসনে সবাই জলকেলি করছে। কতক কাপলকে দেখলাম রোমান্টিক ভাবে আধোজল আর আধো বালিয়ারিতে বসে আছে। সুন্দর একটা বিকেল কাটিয়ে হোস্টেলে ফিরে এলাম। সুইমিং পুলে নেমে একটু আরাম দিলাম শরীরকে, এ কয়দিন ছুটে ছুটে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।
পরদিন স্কুবা ডাইভিংয়ের নানা কৌশল শিখলাম। কীভাবে ডাইভিং স্যুট পরতে হবে, সিলিন্ডার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, পানিতে কীভাবে দম নিতে হবে এবং ছাড়তে হবে, ফিরে এসে কীভাবে ওয়াশ করতে হবে। অনেক কিছু জীবনে শেখার বাকি আছে বুঝলাম। একটা ই-লার্নিং লিঙ্ক দিয়ে দিল যার দাম ১৫০ ডলার। এখানে বিস্তারিত সব কিছু আছে স্কুবা ডাইভিং সম্পর্কে। ভালো মত পড়ে বুঝে এরপর পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরীক্ষা এবং ইন্সট্রাক্টরের কাছে প্র্যাক্টিকাল করার পরে সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে। স্কুবা নিয়ে আরো বিস্তারিত লিখবো আশা করি। আগামী কয়েকটা দিন আমার আর ম্যাথিউর বেশ ব্যস্ত সময় গেলো।
প্রথম যেদিন ডিপ ডাইভ দেব সেদিন ছিল আমার জন্মদিন; ১১ মার্চ। এ জন্য এই দিনটিও আমার জন্য বেশ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফর্ম ফিল-আপ করার সময় আজকের তারিখ আর আমার জন্মদিনের তারিখ মিলে গেল। ইন্সট্রাক্ট্রর ব্যপারটা লক্ষ্য করল। সেদিন ডাইভিং সেন্টারের সবাই আমার জন্মদিন উপলক্ষে পার্টি দিলো। এমনটা নাকি সাধারণত হয় না যে কোর্সের শুরুতেই পার্টি দিয়েছে, আমার জন্মদিন উদযাপনে তারা এমনটা করলো।
রাতে সবাই মিলে খুব আড্ডাবাজি আর খাইদাই করলাম। বিদেশমুলুক এসে এমন অচেনা অজানা মানুষজনের সাথে যে আত্মীক বন্ধন হয়ে যায় এটা আমার সৌভাগ্য। বিধাতার কাছে বড় কৃতজ্ঞতা জানালাম। কত কি না তুমি দিলে! এই প্রবাসে দুদিনে পরিচয় হওয়া মানুষগুলোর বুকে এত ভালোবাসা ও প্রীতি দিয়েছ তুমি! যা পয়সা দিয়ে পাওয়া যায় না, কাঙালপনা করে পাওয়া হয় না; সেই অমূল্য স্বার্থহীন অমলিন ভালোবাসা কত সহজে পেলাম। নিজের জন্যে, প্রত্যেক মানুষের জন্যে ভালোবাসায় ভাসমান আমার অন্তর এক কৃতজ্ঞ নম্রতায় ভরে উঠল। যেই এই আপাততুচ্ছ কিন্তু বড় দামি পাওয়া জীবনে পায়, কেবল সেই জানে তার দাম।
জলের নিচে যে এক অবিশ্বাস্য দুনিয়া আছে তা নিচে যারা না গেছে তাদের বোঝানো যাবে না কখনোই। এ এক অনন্য অনুভূতি, আর জীবনের জন্য সেরা এক অভিজ্ঞতা। ৫টা দিন পর মনে হলো আমরা একটা ঘোরের মধ্যে আছি। জলের ৪০ ফুট নিচে এতো বৈচিত্র দেখে সত্যি মুগ্ধ! সব কিছু ভালোভাবে সম্পন্ন করে ডাইভিং স্কুলের সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম ক্যান্ডির পথে। চারবার বাস পাল্টে ক্যান্ডি নামলাম। হিক্কাদুয়া থেকে গল, সেখান থেকে কাডুয়েলা তারপর ক্যান্ডি। হোস্টেল ছিল এক পাহাড়ের উপরে।
এক রাত কাটালাম ক্যাণ্ডিতে। বিশাল বড় এক লেক আছে ক্যান্ডি শহরে, তার আশেপাশে হাঁটলাম। গৌতম বুদ্ধের দাঁত সংরক্ষণ করা আছে এক মন্দিরে সেখানে গেলাম। পরদিন সকালে ক্যান্ডি থেকে এল্লা ১৪০কিলোমিটারের রেলপথ পাড়ি দিলাম প্রায় সাত ঘণ্টায়। মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে সেই রেলযাত্রা হলো অভাবনীয়! শ্রীলঙ্কাতে বেড়াতে এলে প্রত্যেকের জন্য নির্দেশনা থাকে এই রেলযাত্রাটি উপভোগ করার জন্য। ট্রেন বেশ সময় নিয়ে চলে।
রিসারভেশন টিকিট অনেক আগে কেটে রাখতে হয়। তবে ভারতের মত এখানের ট্রেনে খুব বেশি যে ভিড় বলা যাবে না। বেশিরভাগই ফিরিঙ্গি। ইউরোপ, আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এসব দেশ থেকে বেশি পর্যটকদের দেখা পেলাম। আগের দিন রাতে ক্যান্ডি রেল স্টেশনে খবর নিতে গিয়েছিলাম। স্টেশন ছিল জনশূন্য। কাউন্টার থেকে জানলাম সকালে ৮টার পরে আসলেও টিকিট কিনতে পারবো সেকেন্ড ক্লাস, শ্রীলঙ্কান ৬০০ রুপি। তবে বসে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভাগ্য ভালো থাকলে সিট পেয়েও যেতে পারি।
স্থানীয়দের মধ্যে খুব কম লোকজনই টেন ভ্রমণ করে মনে হলো। সকালে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পরিচয় হলো স্থানীয় শ্রীলঙ্কার রাগবি কোচ এসি তেন্নাকুনের সঙ্গে। তিনি হাটর্ন পর্যন্ত যাবেন। সেখানে একটা ক্রিকেট ম্যাচ আছে প্লান্টেশন এবং ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের কলিগদের টিমের সাথে। বর্তমানে তিনি কোচের কাজ থেকে একটু দূরে আছেন ব্যবসার কাজ এবং ফিটনেসের জন্য। ভলিবল শ্রীলঙ্কার জাতীয় খেলা। তবে রাগবি খেলাও এখানে বেশ জনপ্রিয়। সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় অবশ্য ক্রিকেট। তেন্নাকুনের সাথে যখন কথা বলছি তখন বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার টি টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনাল খেলা হচ্ছে সিলেটে। অবশেষে সেই খেলায় বাংলাদেশ জিতেও গিয়েছিল। রাগবির বিশেষ খেলাগুলোতে তেন্নাকুনের ডাক পড়ে। প্রায় ১৬টা দেশে তিনি গিয়েছেন শ্রীলঙ্কার রাগবি খেলোয়াড়দের নিয়ে। কয়েকটি হোম স্টে আছে তার নিজের। হাতে অনেকটা সময় ছিল, শ্রীলঙ্কার অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ হলো। কারণ ট্রেন ২০মিনিট লেট আছে। এক সপ্তাহ পর সায়েমের সাথে দেখা হবে এল্লাতে। এরপর আমরা এক সপ্তাহের জন্য বের হয়ে যাব বাকি জায়গাগুলো দেখতে।
ক্যান্ডি থেকে এল্লা ট্রেনে এক ঘণ্টা পরেই জানালার ধারে সিট পেয়ে গেলাম। বাইরের দৃশ্য বেশ মনোমুগ্ধকর! চোখ জুড়িয়ে যাবে আর মন ভরে যাবে। সাদা চামড়ার পর্যটকরা বেশ আনন্দ নিয়েই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ রেলের দরজায় বসে পড়েছে ছবি তোলার জন্য। চলন্ত ট্রেনে স্বল্প বসনে সাদা কেশ এলিয়ে দিয়ে তারা ছবি তুলছে। কখনো জানালার বাইরে মাথা বের করে, কখনো দরজার হাতল ধরে শরীরের অর্ধেক হেলে দিয়ে। আসার পথে একা ছিলাম বলে নিজের ছবি আর তোলা হলো না।
পরদিন এল্লা থেকে ট্রেনে নুয়ারাএলিয়া যাওয়ার পথে সায়েম থাকাতে আমরা একে অন্যের ছবি তুলতে পারলাম। এই ট্রেন মূলত শিমলার টয় ট্রেনের মতো। তবে ভেতরে জায়গা আছে পর্যাপ্ত। দুটো করে চারটা সিট দুপাশে। মাঝখানে দাঁড়াবার জায়গা আছে। আমার পাশে নেদারল্যান্ডসের জোস্ফি বসেছে। বয়স ২৩ বা ২৪ হবে। থাইল্যান্ড ঘুরে শ্রীলঙ্কা এসেছে। এখানে তিন সপ্তাহ একটা হোস্ট ফ্যামিলির সঙ্গে ভলানটারি করবে তারপর ফিরে যাবে। ইউরোপীয়ানদের মধ্যে এমন লম্বা ভ্রমণের একটা চল আছে। ১৮ বা ২০ বছর বয়সের পরে তারা একটা লম্বা সফরে বের হয়। কেউ কেউ কাজ ছেড়ে দিয়ে ঘুরতে বের হয়, আবার নতুন কাজ খুঁজে নেয়। কারো কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। আমাদের দেশের মতো পারিবারিক বাধাবিপত্তি নেই। বিন্দাস ঘুরে বেড়াচ্ছে এখান থেকে ওখানে।
এল্লাতে পরিচয় হলো মারভিসের সঙ্গে। সে ফ্রান্সের অধিবাসী, তার ভ্রমণ শুরু হয়েছে ওমান থেকে। সেখান থেকে মাত্র ১০০ ডলারে শ্রীলঙ্কা চলে এসেছে। এরপর যাবে কম্বোডিয়া। আমিও যেহেতু ওমানে ছিলাম কোন কোন জায়াগায় সে ঘুরেছে সেই জায়গাগুলো স্মৃতি হাতরে মিলিয়ে নিলাম। মারভিন মিডিয়া জার্নালিজম নিয়ে পড়াশোনা করেছে প্যারিসে। আমরাও যে মিডিয়া জার্নালিজমের স্টুডেন্ট ছিলাম তাকে জানালাম। জমে গেলো আড্ডা।
‘নুয়ারা এলিয়া’ পাহাড়ি এলাকা, ছিমছাম আর ঠান্ডা হিম শীতল আবহাওয়া। এখানে এসে জ্যাকেট চাপাতে হলো গায়ে। সন্ধ্যা হতেই বেশ ঠান্ডা অনুভব হচ্ছিল। আমাদের হোস্টেলের অবস্থান রেল স্টেশন থেকে বেশ দূরে। প্রায় ৮ কি.
তারা//
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
চলন্ত গাড়ি থামিয়ে নারী শিক্ষককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, অভিযোগ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা একজন নারী শিক্ষককে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দুই বছর আগে তাঁর একজন কিশোর ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন।
গত ১৬ মার্চ ক্রিস্টিনা ফরমেলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি ইউটিউবে একটি চ্যানেলে তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় অভিযোগ শুনে তিনি তাৎক্ষণিক কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজ্যের ডাউনার্স গ্রোভ সাউথ হাইস্কুলের বিশেষ শিক্ষার (স্পেশাল এডুকেশন) একজন শিক্ষক ফরমেলা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুই বছর আগে ১৫ বছরের এক কিশোরকে লেখাপড়া করানো এবং তার ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করার সময় ওই ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন তিনি।
পুলিশ বলেছে, ফরমেলা ও ওই কিশোর পরস্পরের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক নিয়ে বার্তা আদান–প্রদান করেছেন। সে মেসেজে যৌনতা নিয়েও নানা কথা আছে।
বেশ কিছুদিন আগে ওই কিশোরের মা নতুন একটি ফোন কিনে সেটি ছেলের জন্য ঠিকঠাক (সেটিংস) করে দিতে গিয়ে ওই মেসেজগুলো খুঁজে পান। এরপর তিনি ছেলের কাছে কী ঘটেছে, তা জানতে চান। ছেলে মায়ের কাছে ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা খুলে বলে এবং জানায়, সে পরে ওই সম্পর্কের ইতি টেনেছে।
মায়ের উৎসাহে ছেলেটি পুলিশের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করে, যার ভিত্তিতে শিকাগো থেকে পুলিশ ফরমেলাকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় স্বামীর সঙ্গে গাড়িতে যাচ্ছিলেন এই শিক্ষক। পুলিশ যখন তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আসতে বলে, তখন ফরমেলাকে দ্বিধান্বিত দেখাচ্ছিল।
পুলিশের বডি ক্যামেরায় পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে।
পুলিশ ফরমেলার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে জরুরি জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলে।
ফরমেলার স্বামীকে তখন গাড়িতে বসেই পুলিশকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়, ‘সে কি কোথাও যাচ্ছে?’ উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আপনাকে সবকিছুর ব্যাখ্যা দিতে চলেছি।’ ফরমেলাকে পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হবে।
ফরমেলা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি বমি করে দেবেন।
পুলিশের গাড়িতে বসে ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমার খুবই ভয় লাগছে। আমার স্বামী কি সঙ্গে আসবেন? আমি কি বিপদে আছি? আমার খুবই হতাশ লাগছে।’
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এই নারী বলেন, অভিযোগকারী তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করছেন। তিনি দেখতে সুন্দর বলেই তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও জোর দাবি করেন তিনি।
পুলিশ ফরমেলাকে আদালতে হাজির করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী ঘটনার বর্ণনায় ফরমেলা বলেছেন, ‘একদিন ওই কিশোর তাঁর ফোন হাতে পেয়ে যায়, পাসকোড দিয়ে সেটি খুলে ফেলে এবং তাঁর ফোন থেকে নিজের ফোনে একটি বার্তা পাঠায়। এরপর তাঁর ফোন থেকে ওই বার্তা মুছে দেয়। কিন্তু তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য নিজের ফোনে ওই বার্তা রেখে দেয়।’
ওই শিক্ষক দাবি করেন, তিনি দেখতে সুন্দর। তাই সবাই তাঁর পেছনে লাগে।
ওই নারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি গুরুতর অপরাধমূলক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ফরমেলা স্কুল প্রাঙ্গণে যেতে পারবেন না এবং ১৮ বছরের কম বয়সী কারও সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখতে পারবেন না। তাঁকে চাকরি থেকে সবেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।