স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্য জাতীয় নির্বাচনের সময়ক্ষেপণ, মনে করছে বিএনপি
Published: 13th, January 2025 GMT
চলতি বছরের মাঝামাঝিতেই জাতীয় নির্বাচন চায় বিএনপি। দলটি মনে করে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আলোচনা হচ্ছে, সেটার উদ্দেশ্য জাতীয় নির্বাচনের সময়ক্ষেপণ করা। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চিন্তা বাদ দিয়ে জনআকাঙ্খা অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
এদিকে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে। এতে নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হবে।
সূত্র জানায়, সভা-সেমিনারের মধ্য দিয়ে এ বছরের মাঝামাঝিতেই নির্বাচনের দাবি জনগণের কাছে নিয়ে যাবে বিএনপি।
ভ্যাট- ট্যাক্স বাড়ানোয় ক্ষোভ: সরকার ভ্যাট এবং ট্যাক্স বাড়ানোয় বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। নেতারা বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে কোনোভাবে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানোর কারণ হয়ে দাঁড়াত না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পণ্যে এভাবে ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ানো উচিত হয়নি।
বৈঠকে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁর স্বাস্থ্যের ক্রমাগত উন্নতি হওয়ায় শুকরিয়া আদায় করেন নেতারা।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
কখনো বলিনি, আগে নির্বাচন, পরে সংস্কার: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা কখনো এ কথা বলিনি যে, আগে নির্বাচন, তার পরে সংস্কার। এটা যদি কেউ বলে, তাহলে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম যে সংস্থার দরকার, সেটা করতে হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “যারা সংস্কার করতে এসেছেন, তারা জনগণের বাইরে গিয়ে কিছু করলে বিএনপি তা সমর্থন করবে না। জনগণ যেটা চাইবে, আমরা সেটাকেই সমর্থন করব।”
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রই শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা সুশাসনের জন্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যে। এটাই একমাত্র ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়, নির্বাচিত সরকার দেশ চালায়। এই যে আমরা একটা ভয়ে থাকি যে, রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচার হয়ে যায়। স্বৈরাচার হলে আওয়ামী লীগের মতো অবস্থা হবে। সুতরাং, এখানে গণতন্ত্রের কোনো দোষ নেই। গণতন্ত্রই শ্রেষ্ঠ ব্যবস্থা, তা না হলে আওয়ামী লীগের মতোই অবস্থা হবে, ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। বিএনপির সময়ে কখনো ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়নি বা কর্তৃত্ববাদের উত্থান হয়নি।
সংস্কার বিষয়ে বিএনপির অবস্থান নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশজুড়ে একটা প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, বিএনপি আগে নির্বাচন চায়। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমরাই সংস্কারের প্রবক্তা, আমরাই সংস্কার চেয়েছি।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ জেলা, উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/হিমেল/রফিক