মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মের নতুন নতুন পাঠ বিশেষভাবে প্রয়োজন
Published: 13th, January 2025 GMT
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নিরীক্ষার স্বভাব থেকে তাঁর সাহসের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর অভিনবত্বকে স্বীকার করেই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের পথপরিক্রমায় হাঁটতে হবে। বাংলা কবিতায় ‘ক্ল্যাসিসিজম’ ও ‘রোমান্টিসিজম’–এর সংশ্লেষণ তাঁর মতো আরও কেউ করতে পারেননি। তাঁর সাহিত্যকর্মের আরও নতুন নতুন পাঠ দরকার।
কবি ও নাট্যকার মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। সোমবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সুমন সাজ্জাদ। তিনি বলেন, শুধু পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশ নয়, বাংলাভাষী মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতার ইতিহাসে মাইকেলের অভিনবত্বকে স্বীকার করে নিয়েই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের পথপরিক্রমায় হাঁটতে হবে। প্রতিরোধের মঞ্চে জাতীয় ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে তাঁকে সম্মান ও স্বাগত জানাতে হয়। দুই শ বছর পরেও মাইকেল মধুসূদনকে স্মরণ করা হচ্ছে। এর মানে, তিনি প্রশ্নাতীতভাবে অমর।
কিছুটা দুঃখ প্রকাশ করে প্রবন্ধকার সুমন সাজ্জাদ বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্মের নতুন নতুন পাঠ তেমন একটি হয় না। অথচ তা বিশেষভাবে দরকার ছিল।
সুমন সাজ্জাদ তাঁর ‘বাংলাদেশের মধুসূদন: পাঠ ও পরিগ্রহণের রূপরেখা’ শীর্ষক প্রবন্ধটি সাতটি ভাগে ভাগ করেন। ভাগগুলো হলো ‘মনের মন্দিরে’, ‘বঙ্গজজনের চোখে’, ‘পঞ্চমুখে পঞ্চজন বিদ্যায়তনের সীমানায়’, ‘অরণ্যে কুসুম ফোটে’, ‘তিষ্ঠ ক্ষণকাল’, ‘রেখ মা দাসেরে মনে’, ‘দাঁড়াও পথিক বর’।
মূল প্রবন্ধ পাঠের পর আলোচনা শুরু হয়। এতে সুমন সাজ্জাদের প্রবন্ধের সূত্র ধরে কবি ও গবেষক ফয়েজ আলম বলেন, মধুসূদনের সময় ও পটভূমি তাঁকে পাঠ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মধুসূদন যখন লিখতে শুরু করেন, তার আগেই রাজনীতির ক্ষেত্রে অনেক বড় পালাবদল ঘটে গিয়েছিল। সে সবের অভিঘাত মধুসূদনের লেখাতেও ছিল। তাই মধুসূদন সাধারণ কোনো মুক্ত পাঠ নয়, তাঁকে পড়ে ভুলে যাওয়া যাবে না।
মধুসূদনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত নিয়ে যত বয়ান (ডিসকোর্স) তৈরি হয়েছে, সব বিদ্যায়তনিক ডিসকোর্স বলে মন্তব্য করেন ফয়েজ আলম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, বাংলা কবিতায় ‘ক্ল্যাসিসিজম’ ও ‘রোমান্টিসিজম’র সংবেদনশীলতার সংশ্লেষণ মধুসূদনের মতো আর কেউ তৈরি করতে পারেননি। মধুসূদনকে বোঝার জন্য একটি কৌশল আছে। তা হলো ‘মেঘনাদবধ কাব্য’–এর প্রথম অংশের সব কটি শব্দের অর্থ জেনে নেওয়া। তাহলে তাঁকে পড়তে, বুঝতে সহজ হয়।
বাংলা একাডেমির সচিব মোহা.
আলোচনায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্তের অতুলনীয় প্রতিভা ও সৃষ্টি বিচারের পাশাপাশি তাঁর যাপিত সময় ও সমাজকেও মাথায় রাখতে হবে। মধুসূদনকে নিয়ে তৈরি মিথ তাঁকে বুঝতে সহায়ক নয়, বরং অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যার দিকে নিয়ে যায়। কবিতায় নানামাত্রিক রূপরীতির নিরীক্ষার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয় নির্বাচনেও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন।
আরও পড়ুনমাইকেলের ২০০ বছর মধুসূদনের পুনর্জন্ম২৬ জানুয়ারি ২০২৪উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
মানিকগঞ্জে মাতাল হয়ে থানায় ঢুকে গালিগালাজ, যুবদলের দুই নেতা গ্রেপ্তার
এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদলের দুই নেতা মধ্যপ অবস্থায় থানায় গিয়ে ওই আসামিকে ছাড়াতে যান। তাঁরা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও গালিগালাজ করেন। পরে পুলিশ ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল শনিবার রাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন সিঙ্গাইর পৌর যুবদলের সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম ওরফে জীবন (৪৫) ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য শফিকুল ইসলাম (২৬)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল একটি মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে সিঙ্গাইর থানার পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে যুবদলের স্থানীয় ওই দুই নেতা থানায় গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আসামি ছাড়তে বলেন। এ সময় তাঁরা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে পুলিশ মদ্যপ অবস্থায় তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, মদ্যপ অবস্থায় ওই দুই ব্যক্তি থানায় আসেন। এরপর তাঁরা এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তার এক আসামিকে ছাড়তে বলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় গতকাল রাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ওই দুজনকে আদালতে পাঠানো হবে।
এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। দলের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যুবদলের ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংগঠনবিরোধী ও দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে সংগঠনের কেউ জড়িত থাকলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।