Samakal:
2025-04-03@06:06:10 GMT

নবজাতক যখন আইসিইউতে

Published: 13th, January 2025 GMT

নবজাতক যখন আইসিইউতে

নবজাতক আইসিইউ বলতে আমরা কী বুঝি? 
নবজাতক আইসিইউ হাসপাতালের এমন একটি বিশেষ অংশ যেখানে জন্মের পর থেকে শুরু করে ২৮ দিন বয়সী বিভিন্ন রকম অসুস্থ নবজাতককে চিকিৎসার জন্য রাখা হয়।
কী ধরনের শিশুকে আইসিইউতে রাখা হয়? 
যেসব নবজাতক অত্যন্ত স্বল্প ওজনের (আড়াই কেজির কম), সময়ের  অনেক আগে (৩৭ সপ্তাহের আগে) জন্মগ্রহণ করেছে, শ্বাসকষ্ট আছে, যেসব বাচ্চা জন্মের পরপর কান্না করেনি বা শ্বাস নেয়নি কিংবা গুরুতর ধরনের জন্ডিসে আক্রান্ত অথবা জীবাণু সংক্রমণে আক্রান্ত এবং যাদের বিভিন্ন ধরনের জন্মগত ত্রুটি বা জটিলতা আছে এবং অপারেশন প্রয়োজন তাদের নবজাতক আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। 
আইসিইউতে বাচ্চাদের কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়?
যেসব বাচ্চা সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করে, ওজন কম এবং শ্বাসকষ্ট বা অন্য জটিলতা থাকে তাদের আমরা ওয়ার্মার বা ইনকিউবেটরে রাখি, যাতে শরীরে তাপমাত্রা বজায় থাকে। তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে অক্সিজেনের মাত্রা বজায় আছে কিনা, তা মনিটর করা হয়। প্রয়োজনমতো অক্সিজেন বা কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়া হয়। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ওষুধ দেওয়া হয়। যাদের জন্ডিস বেশি, তাদের জন্য ফটো থেরাপির ব্যবস্থা করা হয়। কোনো বাচ্চার যদি জন্মগত ত্রুটি থাকে তাহলে তাদের অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়। রক্তে জীবাণু সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া থাকলে যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এখানে উল্লেখ্য, আলোক নবজাতক আইসিইউতে (Aalok NICU) সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। 
আইসিউতে কতদিন থাকা প্রয়োজন?
যদি সামান্য অসুস্থতা থাকে তাহলে দেখা গেছে কোনো বাচ্চাকে তিন-চার দিন পরই ছুটি দেওয়া সম্ভব। কোনো কোনো বাচ্চার ক্ষেত্রে বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে, সেটি বাচ্চার ওজন এবং তার শারীরিক জটিলতার ওপরে নির্ভর করে। 
আইসিউতে থাকাকালে বাচ্চার খাবার-দাবারের ব্যবস্থা কী?
সাধারণত প্রথম দুই-এক দিন বাচ্চার হজমশক্তি পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণ করে মায়ের দুধ শুরু করা হয়, সঙ্গে পুষ্টির স্যালাইন চলতে থাকে। এক সময় বাচ্চার অবস্থা বুঝে তাকে  সরাসরি বুকের দুধ টেনে খেতে দেওয়া হয়। 
নবজাতক আইসিইউতে থাকলে ভবিষ্যতে কি তার কোনো সমস্যা হতে পারে?
নবজাতক অবস্থায় সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিতে পারলে ভবিষ্যতে তার পরিপূর্ণভাবে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। যদি সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়া হয় তাহলে বরং জটিলতা হতে পারে। 
এমন হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

[কনসালট্যান্ট, গাইনি অ্যান্ড অবস
চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার]

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

তীব্র আপত্তির মুখেই লোকসভায় ওয়াক্‌ফ বিল পাস, রাজ্যসভায় উঠছে আজই

দীর্ঘ প্রায় ১২ ঘণ্টা বিতর্ক শেষে ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হলো বহুল আলোচিত–সমালোচিত ওয়াক্‌ফ (সংশোধন) বিল। আজ বৃহস্পতিবার বিলটি উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পেশ করা হবে।

কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু–বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু গতকাল বুধবার লোকসভায় ওয়াক্‌ফ (সংশোধন) বিল পেশ করেছিলেন। বিলটির ওপর মধ্যরাত অবধি বিতর্ক চলার পর তা পাস হয়। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৮৮টি। বিপক্ষে ২৩২।

কিরেন রিজিজু ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল, ২০২৪ উত্থাপনের পরপরই এ নিয়ে লোকসভা অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এনডিএ নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা গৌরব গগৈ বলেন, এই বিল সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ওপরে আঘাত। এটির মাধ্যমে সরকার সংবিধান দুর্বল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদাহানি, ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভোটাধিকার বঞ্চিত করতে চায়।

সম্প্রতি সড়কে মুসলিমদের নামাজ আদায় করতে না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে কংগ্রেসের এই নেতা প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের কয়জন সংখ্যালঘু এমপি রয়েছে?’

এই বিল সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর ওপরে আঘাত। এটির মাধ্যমে সরকার সংবিধান দুর্বল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মর্যাদাহানি, ভারতীয় সমাজকে বিভক্ত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ভোটাধিকারবঞ্চিত করতে চায়।গৌরব গগৈ, লোকসভায় কংগ্রেসের উপনেতা

ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু বলেন, কোনো ধর্মীয় কাজে বা মসজিদের ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করা কখনো এ বিলের উদ্দেশ্য নয়।

এদিকে বিরোধী সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউটের মধ্যে গতকাল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স বিল, ২০২৫ পাস করে রাজ্যসভা। পরে এদিনের মতো এ সভার অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।

ওয়াক্‌ফ বিল নিয়ে কেন দেশজুড়ে সমালোচনা

বিলের সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলোর একটি হলো, এখানে একজন অমুসলিমকে ওয়াক্‌ফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিতর্কিত ধারা অনুযায়ী রাজ্যগুলোর ওয়াক্‌ফ বোর্ডে নিজ নিজ রাজ্য সরকার অন্তত দুজন অমুসলিমকে নিয়োগ দিতে পারবে, একজন ডিসি বিতর্কিত সম্পত্তিকে ওয়াক্‌ফ হিসেবে নির্ধারণ বা সরকারের মালিকানায় হস্তান্তর করার ক্ষমতা পাবেন।

বিলের সবচেয়ে বিতর্কিত ধারাগুলোর একটি হলো, এখানে একজন অমুসলিমকে ওয়াক্‌ফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হলো সেই স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, যা আল্লাহর নামে নিবেদিত। পুরোনো আইন অনুযায়ী, কোনো সম্পত্তি ওয়াক্‌ফ ঘোষণার একমাত্র অধিকারী ছিল ওয়াক্‌ফ বোর্ড। নতুন বিলে সেই অধিকার দেওয়া হয়েছে জেলা শাসক বা সমপদমর্যাদার কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে।

এ ছাড়া ওয়াক্‌ফ বোর্ডে সুন্নি মুসলিমদের পাশাপাশি শিয়া, বোহরা, আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের সব ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পোর্টালের মাধ্যমে নথিভুক্ত করানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ভারতে ওয়াক্‌ফ আইন প্রথম পাস করা হয় ১৯৫৪ সালে। ১৯৯৫ সালে সেটি সংশোধন করে ওয়াক্‌ফ বোর্ডের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। সেই থেকে বিজেপির অভিযোগ, ওয়াক্‌ফের বিপুল সম্পত্তি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ভোগ করছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ