স্ক্যাবিস কী 
স্ক্যাবিস ক্ষুদ্র অণুজীব দিয়ে আক্রান্ত অত্যন্ত ছোঁয়াছে একটি চর্ম রোগ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর চামড়ায় প্রচণ্ড চুলকানি হয়। পরবর্তী সময়ে লাল লাল ফুসকুড়ি ও পানি ফুসকুড়ি দেখা যায়। সাধারণত হাতের আঙুলের ফাঁকে, পুরুষাঙ্গে, অণ্ডকোষে, তলপেটে ও থাইয়ের ওপরের অংশে এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। চুলকানি এত বেশি হয় যে, অনেক সময় চামড়ায় ক্ষত না করা পর্যন্ত চুলকানি শেষ হয় না। এ রোগের বৈশিষ্ট্য হলো রাতে বেশি চুলকায় এবং দ্রুতই পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়ে যান।
স্ক্যাবিস রোগের দেশব্যাপী প্রাদুর্ভাব
ইদানীং প্রতিদিন চর্ম বহির্বিভাগের যত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এর ১০-১৫ শতাংশ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত পাওয়া যাচ্ছে; যা পুরো দেশের চর্ম বহির্বিভাগের চিত্র বহন করছে। স্ক্যাবিসের প্রাদুর্ভাব কয়েক মাস ধরে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অত্যন্ত ছোঁয়াছে হওয়ার ফলে এ রোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে রাখতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। স্ক্যাবিস সাধারণত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, অপুষ্টিজনিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি পরিলক্ষিত হয়।
স্ক্যাবিস রোগের প্রতিকার
সর্বদা হাইজিন (পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা) বজায় রাখতে হবে।
 পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
 আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের আলাদা থাকতে হবে।
 দ্রুত রোগীকে চর্ম বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হতে হবে এবং সঠিক নিয়মে চিকিৎসা নিতে হবে।
পরিবারের সবাইকে একই সময়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
স্ক্যাবিস চিকিৎসার সঠিক ব্যবহারবিধি
 আক্তান্ত রোগীকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।
 পারমেথ্রিন ক্রিম রাতে ঘুমানোর আগে গলা থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত এমনভাবে মাখতে হবে, যাতে একটি পশমের গোড়াও বাকি না থাকে।
 ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ওষুধ গায়ে থাকতে হবে। ওই সময় পানি ধরা বা হাত, পা, শরীর ধোয়া যাবে না ।
 সকালে কুসুম গরম পানিতে গোসল করে পরিধেয় কাপড়চোপড়, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ধুয়ে ইস্ত্রি করতে হবে।
 প্রয়োজনে এক সপ্তাহ পর একই নিয়মে আবার ওই ক্রিম লাগাতে হবে।
 ইনফেকশন হলে অবশ্যই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে।
চুলকানির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন বড়ি খেতে হবে।
যদি রোগী ক্রাস্টেড স্ক্যাবিস রোগে আক্রান্ত হন, সে ক্ষেত্রে পারমেথ্রিন ক্রিম পরপর ৭ দিন রাতে পুরো শরীরে লাগাতে হবে এবং অবশ্যই আইভারমেকটিন বড়ি ১ম, ২য়, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১৫তম, ১৬তম, ২২তম এবং ২৯তম দিনে ১টি করে সেবন করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
সঠিকভাবে ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্রিম লাগাতে হবে।
 অন্যদের থেকে যেন আবার আক্রান্ত না হয় সেদিকে ল রাখতে হবে।
 রোগীর যদি অ্যাটোপিক অ্যালার্জি থাকে তাহলে একই সঙ্গে সেই রোগের চিকিৎসা নিতে হবে।v

[কনসালট্যান্ট ডার্মাটোলজিস্ট  
চেম্বার: আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার]
 

.

উৎস: Samakal

এছাড়াও পড়ুন:

চুয়াডাঙ্গায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজনের মুত্যু 

চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ইয়াসিন আলী (২৪) ও মাহির তাজয়ার তাজ (১৫) নামে দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

বুধবার (২ এপ্রিল) চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে একটি ও গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মাহির তাজওয়ার তাজ আলমডাঙ্গা উপজেলার গড়চাপড়া গ্রামের ইউসুফ আলী মাস্টারের ছেলে ও ইয়াসিন আলী  চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রামের দিদার আলীর ছেলে। 

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান, জানান, অসাবধানতা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল ড্রাইভ করতে যেয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার বিকালে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নবিননগরে দুটি মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাহির তাজওয়ার তাজ গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। রাতে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার পথে রাত ৮ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মাহির মারা যায়। 

অন্যদিকে গত ২৭ মার্চ চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠের সামনে ইয়াসিন আলী মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগামী ট্রাকের নিচে পড়ে যায়।  এসময় তার দুই পা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুঁড়িয়ে যায়। তাকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৬ দিনের মাথায় বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ইয়াসিন মারা যায়। 

দুটি দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের না করায় সুরতহাল রিপোর্ট শেষে স্ব স্ব পরিবারের কাছে তাদের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। 

ঢাকা/মামুন/টিপু 

সম্পর্কিত নিবন্ধ