চট্টগ্রামে তিন দিনের আইসিটি মেলা শুরু বুধবার
Published: 13th, January 2025 GMT
ইন্টারনেট সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির আয়োজনে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বুধবার তৃতীয়বারের মতো শুরু হবে চট্টগ্রাম আইসিটি ফেয়ার ২০২৫। তিন দিন চলবে এই মেলা। উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।
মেলার প্রথম দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও থাকবে সেমিনার ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় রোবটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিন আন্তঃকলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, মোটিভেশনাল টক, নেটওয়ার্কিং প্রশিক্ষণ ও লাইভ কনসার্ট হবে। শুক্রবার সমাপনী দিনে স্কুল পর্যায়ের কুইজ প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে মেলায়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা.
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে মেলা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ৯৬টি স্টল থাকছে মেলায়। সোমবার দুপুরে নগরের আগ্রাবাদে একটি রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এর পর আগ্রাবাদ থেকে গাড়িবহর সহকারে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিইসি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক ও আইসিটি মেলার সদস্য সচিব রাজিব শাহরিয়ার বলেন, ‘চট্টগ্রামের আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা প্রায় ২০০টির মতো কোম্পানির সেবা যারা গ্রহণ করেন, তাদের সঙ্গে সরাসরি একটি সম্পর্ক তৈরি করা আমাদের উদ্দেশ্য’।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন মেলা কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ারুল আজিম। উপস্থিত ছিলেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রামের যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোর্শেদ, মিরাজুল ফয়েজ প্রমুখ।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীর আরও ত্রাণ গেল
মিয়ানমারের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর তিনটি উড়োজাহাজে করে আরও ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ত্রাণসামগ্রীর সঙ্গে আজ একটি উদ্ধারকারী দল, জরুরি ওষুধসামগ্রীসহ একটি চিকিৎসক দল গেছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে গত ২৮ মার্চ মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে সংঘটিত ভয়াবহ ভূমিকম্পে মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সহায়তার অংশ হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণসামগ্রী এবং উদ্ধার ও চিকিৎসাসহায়তা দল পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম ধাপে গত ৩০ মার্চ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি পরিবহন বিমানের মাধ্যমে সাড়ে ১৬ টন জরুরি ত্রাণসহায়তা সফলভাবে মিয়ানমারে পাঠানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি পরিবহন বিমানের মাধ্যমে উদ্ধার সরঞ্জামসহ একটি উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি ওষুধসামগ্রীসহ একটি চিকিৎসক দল এবং আরও ১৫ টন ত্রাণসামগ্রী মিয়ানমারের নেপিডোর উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ সহায়তাকারী দল সেনাবাহিনীর কর্নেল মো. শামীম ইফতেখারের নেতৃত্বে মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করবে। ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট উদ্ধারকারী দলের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২১ জন, নৌবাহিনীর ২ জন, বিমানবাহিনীর ১ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১০ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ২১ সদস্যবিশিষ্ট চিকিৎসা সহায়তা দলের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০, নৌবাহিনীর ১, বিমানবাহিনীর ২ এবং অসামরিক ৮ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন।
উদ্ধারকারী ও চিকিৎসাসহায়তা প্রদানকারী দলের পাশাপাশি আজ পাঠানো ১৫ টন ত্রাণসহায়তার মধ্যে রয়েছে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, তাঁবু, হাইজিন প্রোডাক্ট, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী।
মিয়ানমারের ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক উদ্যোগে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কার্যালয় পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষভাবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের এই সংকটকালে বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক উদ্যোগ বাংলাদেশের সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিচায়ক। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো এই মানবিক সহায়তা মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে আনা এবং দুই প্রতিবেশী দেশের সরকার ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।