বন্দরে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পাষন্ড ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বৃদ্ধা  বড় ভাই নুরুল ইসলাম (৫৫) রক্তাক্ত জখম হয়েছে । জখমপ্রাপ্ত নুরুল ইসলাম বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তাজপুর এলাকার মৃত জীবন মিস্ত্রি  ছেলে। স্থানীয় এলাকাবাসী আহতকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে মাতুয়াইল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। 

এ ঘটনায় আহত বড় ভাই নুরুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহন করে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাদী হয়ে বন্দর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। এর আগে গত রোববার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বন্দর উপজেলা তাজপুর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়ন তাজপুর এলাকার মৃত জীবন মিস্ত্রি ছোট ছেলে এরশাদ নূরের কোন বসত ভিটা না থাকার কারনে গত ২ বছর পূর্বে দিনমজুর বড় নুরুল ইসলাম ছোট ভাই এরশাদ নূরকে বাসবাস করার জন্য জায়গা দেন। পরে গত ১ বছর পূর্বে ছোট ভাই এরশাদ নূর মৃত্যুবরন করলে বসত ঘরটি পরিত্যক্ত হিসেবে থাকে। 

এর ধারাবাহিকতা গত রোববার বেলা ১১টায় একই ইউনিয়নের শাঁসনেরবাগ এলাকার আব্দুল আজিজ মিয়া কুপরামর্শে দিনমজুর নুরুল ইসলামের অপর ছোট ভাই মিজান উক্ত বসত ভিটাটি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা করে।

ওই সময় বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাধা প্রদান করলে এ ঘটনায় পাষান্ড ছোট ভাই মিজান ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি সোটা ও লোহার পাইপ দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত কাটা জখম করে। ওই সময় হামলাকারি আব্দুল আজিজ মিয়া নুরুল ইসলামের সাথে থাকা নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, মিজান একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতি লোক। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার অত্যাচারে তার অন্যান্য ভাই বোনেরা চরম ভাবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

.

উৎস: Narayanganj Times

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশি ভেবে বিএসএফের গুলি, ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার ভোরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতের ভূখণ্ডে মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ দেখেন বাংলাদেশিরা। ৪ ঘণ্টা ধরে সেখানে পড়েছিল ভারতীয় ওই চোরাকারবারীর মরদেহ। পরে বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ নিয়ে ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

নিহত যুবকের নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার মরাকুটি ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।

সীমান্তবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসাসহ গরু পারাপারে জড়িত ছিলেন তিনি।

সীমান্তে বসবাসকারী সায়েদ আলী ও হয়রত আলী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় দেশের একদল চোরাকারবারী ওই সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ও গরু নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারী জাহানুর গুলিবৃদ্ধ হয়। সেখানে পড়ে থাকা অবস্থায় অনেকবার চিৎকার করলেও সহযোগীরা তাকে উদ্ধার না করায় ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গুলির শব্দ পেয়ে বাকি চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান।

এ দিকে নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে যায় বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিএসএফের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়- ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হয়। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীন। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনও সমৃক্ততা নেই। তারপরও সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ