এখনো জ্বলছে ঘর–বাড়ি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হতে পারে সেনাবাহিনী
Published: 13th, January 2025 GMT
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। একে তো টানা সাত দিন ধরে দাবানলে জ্বলছে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এই শহর, তারপর দিন দুয়েকের বিরতির পর আবার বাড়তে শুরু করেছে বাতাসের গতি। বাতাসের গতি তীব্র হওয়ার আগেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস।
৭ জানুয়ারি সূত্রপাতের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে ছয়টি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল। এখনো তিনটি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে শহরের পশ্চিম অংশে ‘প্যালিসেইডস’ ও পূর্বে ‘এটন’ দাবানলের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। এই দুই দাবানল সামান্যই নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির নিরিখে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে চলেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা আসলেই হতবাক করে দেওয়ার মতো। দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেসের এলাকার পর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ধনকুবের কি সাধারণ মানুষ—সবার বাড়ি মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। আগুন পুড়েছে অন্তত ১২ হাজার ৩০০ বাড়ি। আর আগুনে এখন পর্যন্ত ১৩৫ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যাকুওয়েদার।
আগুনে সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের দুর্দশাও চরমে পৌঁছেছে। বাড়িঘর হারানোর শোকের মধ্যেই প্রাণ বাঁচাতে এক লাখ মানুষকে উপদ্রুত এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হলে একই নির্দেশ দেওয়া হতে পারে আরও ৮৭ হাজার জনকে। আর ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এখন পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।
আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। আকাশ থেকে ফেলা হচ্ছে পানি ও রাসায়নিক। নানা সরঞ্জাম হাতে মাঠে নেমেছেন ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭১৩ একর জায়গা গ্রাস করা সবচেয়ে ভয়াবহ প্যালিসেইডস দাবানল মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আর ১৪ হাজার ১১৭ একর এলাকায় জ্বলতে থাকা এটন দাবানল নিয়ন্ত্রণে এসেছে ২৭ শতাংশ।
ফায়ার সার্ভিস যেটুকু সফলতা পেয়েছে, তার একটি বড় কারণ ঝড়ো বাতাস সান্তা আনার গতি কমা। তবে সপ্তাহান্তে বাতাসের গতি কমার পর আবার বাড়াতে শুরু করেছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রোববার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত স্থানীয় মরুভূমি থেকে সৃষ্টি হওয়া এই বাতাস লস অ্যাঞ্জেলেসের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১১২ কিলোমিটার গতিতে বয়ে যেতে পারে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ফায়ার সার্ভিসের প্রধান অ্যান্থনি ম্যারন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এ বাতাসে আর্দ্রতা খুবই কম। তাই লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকবে। যেসব এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ সতর্কতা তুলে নেওয়ার আগপর্যন্ত ওই এলাকাগুলো খুলে দেওয়া হবে না।
এদিকে আগুন নেভানোর কাজে এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার আশপাশের সাত অঙ্গরাজ্য থেকে ছুটে এসেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রতিবেশী দেশ কানাডা ও মেক্সিকোও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এজেন্সির প্রশাসক ড্যানি ক্রিসওয়েল বলেছেন, আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য সেনাসদস্যদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের কারণ কী‘৩০ হাজার মার্কিন ডলার ভাড়া না দিলে বাড়ি পাব না’লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলে প্রাণহানি বেড়ে ২৪, নতুন বিপদের শঙ্কা.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখছে মহেশ বাবুর কন্যা?
‘প্রিন্স অব টলিউড’খ্যাত অভিনেতা মহেশ বাবু। পর্দায় অসাধারণ অভিনয় এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব গুণের কারণে অসংখ্য ভক্ত তার। এই অভিনেতার কন্যা সিতারা তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ জনপ্রিয়।
মহেশ বাবু অভিনীত ‘সরকারু বারি পাতা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক হয়েছে। ২০২২ সালে মুক্তি পায় এটি। মুক্তির পর দারুণ প্রশংসা কুড়ায় সিতারা। কিছুদিন ধরে গুঞ্জন উড়ছে, ১২ বছর বয়সি সিতারা নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখতে যাচ্ছে। অবশেষে এ গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন মহেশ বাবুর স্ত্রী নম্রতা শিরোদকর।
আরো পড়ুন:
বিয়ের পর অভিনয়কে বিদায়: নীরবতা ভাঙলেন মহেশ বাবুর শ্যালিকা
রাজামৌলির সিনেমার জন্য ১৬৪ কোটি টাকা ছাড়াও লভ্যাংশ নেবেন মহেশ!
কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে মায়ের সঙ্গে হাজির হয় সিতারা। সেখানে নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় পা রাখার গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় সিতারার কাছে। এ প্রশ্ন শুনে মায়ের দিকে তাকায় এই খুদে তারকা। এরপর নম্রতা শিরোদকর বলেন, “তার বয়স মাত্র ১২ বছর। এখনো অনেক সময় আছে। যদিও আমাদের পরিবার বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু সবাই সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।”
ফিল্মি পরিবারে জন্ম ও বেড়ে উঠছে সিতারা। তার দাদা কৃষ্ণা বিখ্যাত একজন অভিনেতা ছিলেন। সিতারার বাবা-মা দুজনেই জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী। এর আগে ড্রিম মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিল সিতারা। সেই আলাপচারিতায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, পারিবারিক উত্তরাধিকার সফলভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখে সিতারা?
এই প্রশ্নের জবাবে সিতারা বলে, “এই উত্তরাধিকারকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরে সত্যি ভালো লাগছে। চমৎকার এই পরিবারের সদস্য হতে পেরে আনন্দিত। আমাকে অনেকে প্রশ্ন করেন আমি অভিনয় করতে চাই কিনা। এখন আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। মডেলিং এবং অভিনয় দুটোর বিষয়েই আমি আগ্রহী। কিন্তু আমার বয়স মাত্র ১২ বছর। সুতরাং আমি এখনো নিশ্চিত নই।”
একটি জুয়েলারি কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছে সিতারা। এ বিজ্ঞাপনে মেয়েকে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন মহেশ বাবু। সেই স্মৃতিচারণ করে সিতারা বলে, “আমার মা খুব কঠোর মানুষ। তবে বাবা আমাকে ভীষণ আদর (প্রশ্রয় দেন) করেন। আমার মনে আছে, বাবা আমার পিএমজে-এর বিজ্ঞাপন প্রথম দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকে ফ্যাশন সেন্স পেয়েছি। আমি পাগল। কিন্তু মা তার পোশাক আমার জন্য রাখেন না। আমার মা ‘মিস ইন্ডিয়া’ বিজয়ী। তার দারুণ একটি মডেলিং ক্যারিয়ার ছিল। ‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় তার ছবি দেখে অভিভূত।”
জুয়েলারি ব্র্যান্ড পিএমজে-এর নতুন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করা হয়েছে সিতারাকে। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ একটি গহনা লঞ্চ করে; যার নাম দেয় ‘সিতারা’। ২০২৩ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাইমস স্কয়ারে লঞ্চ করা হয় বিজ্ঞাপনটি।
ব্যক্তিগত জীবনে নম্রতা শিরোদকরের সঙ্গে গাটছড়া বেঁধেছেন মহেশ বাবু। এ দম্পতির ঘর আলো করে এসেছে পুত্র গৌতম ও কন্যা সিতারা। ২০১২ সালে জন্ম হয় সিতারার। অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও দারুণ পারদর্শী সিতারা।
সিতারা ও তার বড় ভাই গৌতম অভিনয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সিতারা হায়দরাবাদ থেকে প্রশিক্ষণ নেয়, তার ভাই গৌতম নিউ ইয়র্কে ইউনিভার্সিটি থেকে নাটক বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন সিতারা।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিয়াসাত ডটকম
ঢাকা/শান্ত