শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রে মুজিববর্ষের লোগো, উত্তেজনা
Published: 13th, January 2025 GMT
রংপুরের মিঠাপুকুরে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞানমেলায় শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রে মুজিববর্ষের লোগো নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, সোমবার উপজেলা চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানমেলায় অংশ নেয়। এসময় দেখা যায়, উপজেলার পাইকান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রে মুজিববর্ষের লোগো রয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
এক ছাত্র প্রতিনিধি বলেন, আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করলেও তার দোসরদের এখনও বিদায় করতে পারিনি। আজকের এই ঘটনা অবশ্যই পরিকল্পিত। আমরা মিঠাপুকুরের ছাত্রসমাজ দ্রুত এই আওয়ামী লীগের দোসর প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে পাইকান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান বলেন, আজকের বিষয়টি ভুলক্রমে হয়েছে। কাল থেকে আর হবেনা।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
গাজায় স্বাস্থ্যকর্মী হত্যার ঘটনায় ভুল স্বীকার করল ইসরায়েল
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, গত ২৩ মার্চ দক্ষিণ গাজায় ১৫ জন জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী হত্যার ঘটনায় তাদের সেনারা ভুল করেছে। শনিবার (৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের ভুল স্বীকার করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ মার্চ রাফাহ শহরের কাছে প্যালেস্টাইনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)-এর অ্যাম্বুলেন্স বহর, জাতিসংঘের একটি গাড়ি ও গাজার সিভিল ডিফেন্সের একটি ফায়ার ট্রাক লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা।
আরো পড়ুন:
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিন ১০০ শিশু হতাহত: জাতিসংঘ
কলকাতায় ঈদের দিন স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে মিছিল
প্রথমে ইসরায়েল দাবি করে, গাড়িগুলো আলো বা ফ্ল্যাশিং লাইট ছাড়াই সন্দেহজনকভাবে রাতের অন্ধকারে এগিয়ে আসছিল। এছাড়া তাদের চলাচল সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত ছিল না।
তবে নিহত এক প্যারামেডিকের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িগুলোর আলো চালু ছিল এবং তারা আহতদের সাহায্য করতে যাচ্ছিল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, কমপক্ষে ছয়জন চিকিৎসক হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত এর কোনো প্রমাণ দেয়নি। তারা স্বীকার করেছে, সেনারা যখন গুলি চালায় তখন তারা নিরস্ত্র ছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের শেয়ার করা মোবাইল ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ভোর হওয়ার ঠিক আগে যখন গুলি শুরু হয়, যানবাহনগুলো রাস্তায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই দাঁড়িয়ে ছিল।
ফুটেজটি পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে। এতে রেফাত রাদওয়ান নামে স্বাস্থ্যকর্মীকে তার শেষ প্রার্থনা করতে শোনা গেছে এবং ইসরায়েলি সেনাদের গাড়ির দিকে এগিয়ে আসার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় আইডিএফের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, এর আগে সেনারা হামাসের তিনি সদস্য বহনকারী একটি গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল।
পরে অ্যাম্বুলেন্সগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আকাশ থেকে নজরদারি চালানো বাহিনী জানায়, গাড়িগুলো ‘সন্দেহজনকভাবে’ এগিয়ে আসছে’।
অ্যাম্বুলেন্সগুলো যখন হামাসের গাড়ির পাশে থামে, তখন সেনারা ধরে নেয় যে তারা হুমকির মুখে এবং গুলি চালায়। যদিও কোনো প্রমাণ ছিল না যে জরুরি দলটি অস্ত্রধারী ছিল।
ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, গাড়িগুলো ছিল চিহ্নিত এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিফলকযুক্ত পোশাক পরেছিলেন।
ইসরায়েল স্বীকার করেছে যে, গাড়িগুলো আলো ছাড়া এসে পৌঁছানোর দাবি করা তাদের পূর্বের বক্তব্য ভুল ছিল এবং প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সেনাদের দায়ী করা হয়েছে।
আইডিএফ জানায়, ১৫ জন নিহত স্বাস্থ্যকর্মীর মরদেহ বন্যপ্রাণীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য বালিতে চাপা দেওয়া হয়েছিল এবং রাস্তাটি পরিষ্কার করতে পরদিন গাড়িগুলো সরিয়ে ও পুঁতে ফেলা হয়েছিল।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এলাকাটিতে নিরাপদ প্রবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করতে না পারায় মরদেহগুলো এক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয়। নিহত রেফাত রাদওয়ানের মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ফুটেজ পান উদ্ধারকারীরা।
ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা মৃত্যুর আগে কোনো চিকিৎসককে হাতকড়া পরানো হয়নি বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন যে তাদের খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়নি, যেমনটি কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে, একজন জীবিত স্বাস্থ্যকর্মী বিবিসিকে বলেছিলেন যে অ্যাম্বুলেন্সগুলোর আলো জ্বলছিল এবং তার সহকর্মীদের কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।
আইডিএফ ‘ঘটনার পূর্ণ তদন্ত’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এবং বলেছে, ঘটনার ধারাবাহিকতা ও এর ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছে।
রেড ক্রিসেন্ট এবং অন্যান্য অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকা/ফিরোজ