খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুদামে চাল সংরক্ষণের পাশাপাশি খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে খোলাবাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। প্রয়োজনের এর পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। চাপ কমলে বাজারও স্থিতিশীল হয়ে আসবে। এতে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে। আজ সোমবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বরিশাল বিভাগের চলতি আমন মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও এর সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন খাদ্য উপদেষ্টা। সভায় বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন খাদ্য উপদেষ্টা।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তাকে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় বিষয় বিবেচনা করছে সরকার। আর এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, খাবারের অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পাইলট কার্যক্রমে উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে খাদ্যশস্য কেনা, আমদানিতে কর ও শুল্ক মওকুফ, খোলাবাজারে কম দামে খাদ্যপণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন পর্যালোচনার পরে দেখা গেছে, বরিশাল অঞ্চলে আমনের আবাদ দেরিতে হয়। আমন সংগ্রহের জন্য সময়সীমা যেটা নির্ধারণ করা আছে, সেই সময়সীমার মধ্যে সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। এই বিভাগে আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন আশাব্যঞ্জক।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, দেশে টিসিবি ও খাদ্য বিভাগের মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু এখন খাদ্য বিভাগের ওএমএস কার্যক্রম ফসলি মৌসুমের কারণে কিছুদিনের জন্য মফস্বলে স্থগিত রাখা হয়েছিল। এটা আবার  চালু করে দেওয়া হয়েছে। প্রতি কার্যদিবসে প্রতি উপজেলায় দুই মেট্রিক টন করে চাল ওএমএসে দেওয়া হচ্ছে। দরকার হলে এটা আরও বাড়ানো হবে।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

ঈদের বন্ধের পর টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু রোববার

ঈদ উপলক্ষে ৯ দিন বন্ধ থাকার পর ৬ এপ্রিল আবার শুরু হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও খাদ্য অধিদপ্তরের সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম।

নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে তেল, ডাল ও চিনি বিক্রি করে সরকারি সংস্থা টিসিবি। সংস্থাটি স্মার্ট পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পরিবেশক বা সরবরাহকারীর দোকানের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করে। আবার স্মার্ট কার্ড ছাড়া সর্বসাধারণের জন্য ট্রাকে করেও তেল, ডাল, চিনি বিক্রি করে সংস্থাটি।

অন্যদিকে খোলাবাজারে বিক্রি বা ওএমএস কর্মসূচির আওতায় ট্রাকে করে সাশ্রয়ী দামে চাল ও আটা বিক্রি করে খাদ্য অধিদপ্তর। ট্রাকের পাশাপাশি নির্ধারিত পরিবেশকের দোকানের মাধ্যমেও চাল-আটা বিক্রি করে সংস্থাটি।

সরকারি এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ পর্যন্ত সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চালিয়েছিলেন তাঁরা। সরকারি ছুটি শেষে ৬ এপ্রিল আবার এ কার্যক্রম শুরু হবে।

বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৬০ লাখ পরিবারের মধ্যে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোট এক কোটি পরিবার কার্ডের বিপরীতে এ পণ্য বিক্রি করা হতো। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে এসব কার্ডের মধ্যে একটি বড় অংশ অযোগ্য বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে। এ কারণে সরকার প্রায় ৪৩ লাখ পরিবার কার্ড বাতিল করে। পাশাপাশি নতুন করে উপকারভোগী চিহ্নিত করে নতুন স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।

অন্যদিকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ট্রাকে করেও পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। প্রতিদিন রাজধানীর ৫০টি স্থানে, চট্টগ্রাম নগরীর ২০টি স্থানে এবং বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি কিছু শ্রমঘন জেলায় ট্রাকে পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম পরিচালনা করে সংস্থাটি। টিসিবির প্রতিটি ট্রাকে ২০০ জনের পণ্য থাকে। যদিও টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ভিড় করেন প্রতিদিন।

সংস্থাটি জানায়, টিসিবির ট্রাক থেকে যেকোনো ভোক্তা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে পারেন। টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি কিনতে পারেন। এর মধ্যে প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা ও চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। আর রমজান উপলক্ষে গত মাসে ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হয়েছিল টিসিবির ট্রাকে।

টিসিবির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৬ এপ্রিল থেকে স্মার্ট কার্ডের বিপরীতে টিসিবির বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হবে। তবে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি চালু হবে আরও কয়েক দিন পর। কারণ, এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।

এদিকে খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ওএমএস ট্রাকের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগরে ৭০টি স্থানে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এবং প্রায় দেড় শ পরিবেশকের দোকানের মাধ্যমে চাল-আটা বিক্রি করা হয়। ট্রাক ও পরিবেশকের দোকান থেকে একজন ভোক্তা পাঁচ কেজি চাল ও দুই কেজি আটা কেনার সুযোগ পান।

রাজধানীতে ওএমএসের পণ্য বিক্রির কাজটি করে থাকে খাদ্য অধিদপ্তরের সংস্থা ঢাকা রেশনিং। ঢাকা রেশনিংয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক শাব্বীর আহমেদ মুরাদ বলেন, ‘৬ এপ্রিল আমাদের সব ধরনের পণ্য বিক্রি কার্যক্রম আবার শুরু হবে।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • ঈদের বন্ধের পর টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু রোববার