বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় ২৭ শিক্ষার্থীকে ১ বছরের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বজলুর রহমান মোল্যা।

প্রাধ্যক্ষ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, শৃঙ্খলাপরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই হলের প্রথম (দ্বিতীয় সেমিস্টার) ও দ্বিতীয় বর্ষের (দ্বিতীয় সেমিস্টার) ২৬ জন এবং ১ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আছেন।

সোহরাওয়ার্দী হলের নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, গত শনিবার রাত নয়টার দিকে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের হলের রিডিংরুমে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নিজেদের কক্ষে রেখে আসতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁদের উদ্ভট নিয়ম মানার নির্দেশনা জানান অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। এগুলো হলো সাইকেল চালানো যাবে না, দ্বিতীয় তলায় যাওয়া নিষিদ্ধ, বড় ভাইদের দিনে একাধিকবার সালাম দিতে হবে, হলে লুঙ্গি পরা যাবে না, হলের গ্রন্থাগারে ল্যাপটপ আনা যাবে না, ক্যানটিনে যাওয়া যাবে না ইত্যাদি।

একপর্যায়ে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা গিয়ে নবীনদের কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানতে চান। সমস্যাগুলো বলার পর তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা চলে যান। পরে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা আবার নবীনদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে এক নবীন শিক্ষার্থী ভয় পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই ঘটনা জানাজানি হলে গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল কর্তৃপক্ষ হল পরিদর্শন করে জড়িত শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করে।

সোহরাওয়ার্দী হলের এ ঘটনায় মোট ৫২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ২৭ জন হলের বৈধ বাসিন্দা এবং বাকি ২৫ জন অন্য হলের শিক্ষার্থী। ২৭ জনকেই হল থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং অধিকতর শাস্তির জন্য ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানো হবে। অবৈধভাবে হলে থাকা শিক্ষার্থীদেরও চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত, আহত মা-বাবা

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের বাবা ও মা। গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে ঘোড়াশালের ভাগদী গ্রামের কুড়ইতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে।

তবে নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- রাকিব (২৫) ও সাকিব (২০)। আহত হয়েছেন আশরাফ উদ্দিন (৫০) ও রাবেয়া (৪৫) খাতুন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ভাগদীর কুড়ইতলী এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে এসেছে সন্দেহে স্থানীয়রা হিমেল (২৩) নামে একজনকে মারধর করে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিকেলে রাকিব ও সাকিব ঘটনাস্থলে গিয়ে হিমেলের পক্ষে প্রতিবাদ জানান এবং একপর্যায়ে অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করে চলে আসে। সন্ধ্যায় আবারও তারা কুড়ইতলী এলাকায় গেলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অটোরিকশা চালকরা তাদের আটক করে মারধর করে। এ ঘটনা জানতে পেরে তাদের বাবা-মা দুই ছেলেকে উদ্ধার করতে যান। তখন তাদেরও পিটিয়ে আহত করা হয়।

আহত অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন এবং রাকিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

নিহতদের চাচি হাজেরা বেগম অভিযোগ করেন, ‘এলাকার কিছু সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা ঈদের দিন রাকিব ও সাকিবকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।'

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, ‘চোর সন্দেহে একজনকে মারধর করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সন্ধ্যায় গণপিটুনির মুখে পড়েন তারা এবং এতে দুই ভাই নিহত হন। তদন্ত চলছে, তবে এখনও চাঁদাবাজির অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহতের ঘটনায় মামলা, আটক তিন
  • স্বামী-স্ত্রীর গতিরোধ করে যুবক বললেন, ‘বিশ্বাসের মেয়েকে নিয়ে পালাচ্ছিস কোথায়? দাঁড়া সমন্বয়ক আসছে’
  • স্বামী-স্ত্রীর গতিরোধ করে যুবক বললেন, ‘বিশ্বাসের মেয়েকে নিয়ে পালাচ্ছি কোথায়? দাঁড়া সমন্বয়ক আসছে’
  • ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে সৎমা-ভাই-বোনের দায়ের কোপে নিহত প্রকৌশলী
  • গণপিটুনিতে দুই ভাই নিহত, আহত মা-বাবা